শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৮:১৪ পিএম, ২০২৬-০৬-২৮
কিছু মানুষের বিদায় শুধু একটি জীবনের অবসান নয়; বরং তা একটি সময়, একটি ভাবনা ও একটি কর্মময় অধ্যায়ের সমাপ্তির কথাও মনে করিয়ে দেয়। তাঁরা চলে গেলেও তাঁদের কাজ, সৃষ্টি ও মানুষের জন্য রেখে যাওয়া অবদান থেকে যায়। সময়ের সঙ্গে সেই কাজই হয়ে ওঠে তাঁদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। আধুনিক চক্ষু চিকিৎসার বিকাশে তাঁর অবদান, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার প্রচেষ্টা তাঁকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের চিকিৎসাক্ষেত্র হারাল একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংগঠককে।
২৭ জুন, শনিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে চিকিৎসক সমাজসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠান নির্মাতা। বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসাকে আধুনিক ও জনমুখী করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৯ সালে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম আই ইনফার্মারি অ্যান্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্স (CEITC)। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে CEITC চক্ষু চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির বিকাশ এবং অন্ধত্ব দূরীকরণেও প্রতিষ্ঠানটির অবদান রয়েছে। একজন মানুষের চিন্তা কীভাবে একটি বড় সামাজিক উদ্যোগে রূপ নিতে পারে, CEITC তার একটি উদাহরণ।
স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন প্রতিষ্ঠা করেন ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেড। চট্টগ্রামে আধুনিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাজধানীর বাইরে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ভাবনা ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
মিরসরাইয়ের এই কৃতি সন্তান চিকিৎসাকে শুধু পেশা হিসেবে দেখেননি। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করাই ছিল তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম লক্ষ্য।
দীর্ঘ কর্মজীবনে অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা। তাঁর গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলো আজও বহন করছে তাঁর চিন্তা, নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের ছাপ।
চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সমাজকল্যাণেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের কাছে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার মানুষ। তাঁর জীবন দেখিয়েছে, একজন চিকিৎসক চাইলে শুধু রোগীর চিকিৎসা নয়, একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তাঁর মৃত্যুতে চিকিৎসক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁকে একজন দক্ষ চিকিৎসক, সমাজসেবক এবং চিকিৎসা শিক্ষার পথপ্রদর্শক হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৮ জুন, রবিবার বিকেল ৪টায় মিরসরাইয়ের ওয়াহিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
কিছু মানুষ তাঁদের জীবনের সময়সীমা পেরিয়ে কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকেন। অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। তাঁর গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য হয়ে থাকবে অনুপ্রেরণার উৎস। মানুষের চোখে আলো ফেরানোর যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
লেখক: সাংবাদিক, সংগঠক ও সাহিত্যিক।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited