শিরোনাম
কাজী হুমায়ুন কবির | ০৮:৪৯ পিএম, ২০২৬-০৮-২২
চটগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকাটি একসময় নগরের মাঝখানে একটি অনন্য সুন্দর আবাসিক এলাকা হিসাবে পরিচিত ছিল। সেই আবাসিক এলাকাটিতে অতিরিক্ত বানিজ্যিকরন প্রতিষ্ঠান নির্মানে আবাসিক মর্যাদা এখন বিলুপ্তির পথে। জানা যায়,আইন বা নিয়ম না থাকলেও সিডিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিটি কর্পোরেশনের উদাসীনতা এবং রহস্যজনক নিরবতা ও সহযোগীতার ফলে প্রতিনিয়ত বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠাশ সেখানকার পরিবারপরিজনদের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, হারিয়ে ফেলছে তার আবাসিক সৌন্দর্য । পরিবারগুলো নিরাপত্তার হুমকি নিয়েই এলাকায় বসবাস করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এই আবাসিক এলাকার প্রতিটি বাড়িই পরিণত হচ্ছে একেকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে। প্রতিদিনই একটা না একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। ভবনের নিচতলার পার্কিংয়ের জায়গাও যেন এ থেকে বাদ যাচ্ছেনা।
জানা যায়, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধান আইনি বাধা ও নিয়ম হলো ভূমির ব্যবহার পরিবর্তনে চউক (CDA) এর মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী যে এলাকাকে 'আবাসিক' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে কেবল মানুষের বসবাসের জন্য ভবন নির্মিত হতে পারবে। আবাসিক প্লটে বাণিজ্যিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮ এবং মাস্টারপ্ল্যানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ভবন নির্মাণের সময় চউক থেকে যে 'আবাসিক নকশা' অনুমোদন করানো হয়, সেই নকশা পরিবর্তন করে বাণিজ্যিক ব্যবহার বা দোকানপাট, হাসপাতাল কিংবা রেস্তোরাঁ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমনকি গত ২০১৫ সালের ৮ জুনের মন্ত্রিসভার নির্দেশনা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকতে পারবে না। অথচ সে আইনের কোনরকম তোয়াক্কা না করেই এই এলাকায় গড়ে উঠছে অসংখ্য প্রাইভেট ক্লিনিক, হসপিটাল, অর্ধশত ডায়গনস্টিক সেন্টার, কমিউনিটি সেন্টার, ব্যাংক, স্কুল, কলেজ, কমিউনিটি সেন্টার, মুদিমনিহারি দোকান, লন্ড্রি, সেলুন, রেস্তোরাঁ, এটিএম বুথসহ নানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
এতে আবাসিকের বসবাসরত মানুষেরা পড়েছেন বিপাকে। কারন পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা হলেও এখানে সারাক্ষণ ভীড় করে পুরো জেলা উপজেলা থেকে আগত রোগী ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। আবসিক ফ্ল্যাটে বসবাসরত পরিবারের বাসিন্দারা প্রতিবেদককে জানান, তাদের নিরাপত্তাহীনতার কথা। তাদের কষ্টের কথা।
পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার কল্যান সমিতির পক্ষ থেকে জানা যায়, নতুন করে গত কয়েক মাসে এপিকের নতুন একটা ল্যাব ও মেডিকেয়ার হাসপাতাল, পিস পার্ক হাসপাতাল, সার্জিস্কোপ হসপিটাল উদ্ভোধন করা হয়েছে। এ নিয়ে পুরো এলাকার জনমনে চলছে চরম উত্তেজনা।
আবাসিকের মালিকরা বলছে, এই এলাকায় বানিজ্যিক করণের জন্য একের পর এক প্রতিষ্ঠান কর্পোরেশনের লাইসেন্স পায় কি করে, গণপুর্ত ও সিডিএ এসব বানিজ্যিকরনের অনিয়মে কেন নিরব থাকে। এলাকাটি এখন সম্পূর্ন নিরাপত্তা হুমকির দিকে যাচ্ছে। এই এলাকার শিশুদের জীবনমান সংকীর্ন হয়ে উঠছে। তারা খেলতে পারছেনা। প্রাণভরে হাটতে পারছেনা। পরিবার পরিজনরা বিকালে বের হয়ে স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারছেনা। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। একাধিক নোটিশ পেয়েও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা না নেয়ায় এলাকাটি দিনের পর দিন হুমকির মুখে পড়েছে।
পাচঁলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির প্রচার সম্পাদক নজরুল আজাদ বলেন, চট্টগ্রামে আবাসিক এলাকায় বা আবাসিক ভবনে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা আইনত অবৈধ। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা এবং মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী আবাসিক প্লট বা ভবনকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চট্টগ্রামের পাচঁলাইশ আবাসিক এলাকার ক্ষেত্রে এই নিয়মটি মূলত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক), গণপুর্ত এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) যৌথভাবে তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করার কথা থাকলেও তিনটি প্রতিষ্ঠানই নিরব ভূমিকা পালন করছেন।এলাকবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করার দাবি জানাচ্ছি।
পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু সাঈদ সেলিম বলেন, এই এলাকার অধিকাংশ বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে অবৈধভাবে। বানিজ্যিকরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বছরের পর বছর বার বার অভিযোগ দিলেও রহস্যজনক কারনে তারা তাৎক্ষনিক কোন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেয়না। আমি মনে করি, এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর গাফিলতি রয়েছে। আমাদের আবাসিক এলাকায় বানিজ্যিকরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিকভাবে ন্যায্য ব্যবস্হা চাই। আমরা আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে নির্বিঘ্নে বসবাস করতে চাই।
এ বিষয়ে গণপূর্ত ১এর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এলাকাটি আবাসিক এলাকা হিসাবেই অনুমোদন পেয়েছে। এখানে বানিজ্যকরনের সুযোগ নেই। এখানে অনেক বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অনুমোদনবিহীন গড়ে উঠছে। মন্ত্রনালয়ে এসব বিষয়ে চিঠি লিখা হয়েছে। আশাকরি শীঘ্রই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এই বিষয়ে সিডিএর পরিদর্শক সাইদুর রহমান শাওনের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। আশাকরি খুব শীঘ্রই এসব অবৈধ স্হাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেয়া হবে।
এই বিষয়ে সিডিএর অথোরাইজ অফিসার কাজী কাদের নেওয়াজ বলেন, এই এলাকাটি আবাসিক এলাকা হিসাবে অনুমোদন হয়েছে। বানিজ্যকরনের বিরুদ্ধে আমরা তাদের সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি, খুব শীঘ্রই বানিজ্যিকরণ প্রতিষ্ঠান গুলোর বিরুদ্ধে অভিজান পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে চসিকের রাজস্ব কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করা যাবেনা। অনেকে ট্রেড লাইসেন্স পাচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছি।
মাহাদী বিন সুলতান, রাঙ্গামাটি: : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনির্বাচিত মন্ত্রী ছাচিংপ্রু জেরি কে ফুলেল শুভেচ্ছা জান...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে আধ্যাত্মিক সাধক ও উপমহাদেশের অন্যতম ওলিয়ে ক...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র মিলাদুন্নবী উপলক্ষে অরাজনৈতিক সংগঠন আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বরুন দে বাপ্পী, ফেনী জেলা প্রতিনিধি : হাইওয়ে পুলিশ সর্বাধুনিক এআই (Artificial Intelligence- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা সড়কেই থাকেন। একজন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পুরোনো প্রাইভেটকার কিনে রাইড শেয়...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : নিয়ম করেই মাসশেষে আসে গ্যাসের বিল, টাকাও জমা পড়ে ঠিক সময়ে। কিন্তু বিনিময়ে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited