শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:১৭ পিএম, ২০২৬-০৪-২০
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ধারাবাহিকভাবে নীতিমালা মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করছে এবং একই সঙ্গে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে এর প্রভাব কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। আজ সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, নিয়মিত মূল্যায়নের পাশাপাশি সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে বাহ্যিক ধাক্কা অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে না পারে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সরবরাহ ব্যয় কমানোকে একটি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী লজিস্টিকস খরচ জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ, অথচ আমাদের দেশে তা প্রায় ১৬ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।’ মন্ত্রী আরও বলেন, এসব খরচ কমাতে বন্দর কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যয় সংশ্লিষ্ট খাত উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। শিগগিরই এর সুফল দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রপ্তানি বহুমুখীকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলগুলোর বাইরে নতুন বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব দেশে শুল্ক ও কর বেশি রয়েছে, সেগুলোও চিহ্নিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে, যাতে আমাদের রপ্তানির জন্য আরও ভালো বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।’
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ‘সীমিত’ : মুক্তাদির
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি একেবারেই ‘সীমিত’ এবং এর ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। আজ সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর—বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে—এর প্রকৃত প্রভাব সীমিত রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে মাঝারি মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক দেশে, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে, জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে—কিছু ক্ষেত্রে প্রতি গ্যালন প্রায় ২ দশমিক ৭০ থেকে ২ দশমিক ৮০ ডলার থেকে বেড়ে ৫ ডলারেরও বেশি হয়েছে—যা মূলত বাজারভিত্তিক ও কর-সংক্রান্ত সমন্বয়ের কারণে। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয় না; বরং সরকার তা সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদন খাতে জ্বালানি ব্যয় সাধারণত মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় এবং পরবর্তীতে মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ২০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে একটি বাসে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। মূল্য বৃদ্ধি হলেও ট্রাকে বহনকৃত পণ্য, যেমন- ১০ হাজার কেজি মালামাল—এর ওপর অতিরিক্ত ব্যয় ভাগ হয়ে যাওয়ায় প্রতি ইউনিটে খুব সামান্য প্রভাব পড়ে। তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রথম দৃষ্টিতে বড় মনে হলেও মূল্যস্ফীতির ওপর এর সরাসরি প্রভাব ততটা বেশি নয়, যতটা সাধারণভাবে ধারণা করা হয়।’ মন্ত্রী আরও জানান, অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি যাতে ভারসাম্যহীন না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির দাম সমন্বয়ে একটি পরিমিত ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছে, যাতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।’ মুক্তাদির সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার মূল্যস্ফীতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
রপ্তানি সম্প্রসারণে ২১ দেশে ২৪টি বাণিজ্যিক উইং কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্বে ২১টি দেশে বাংলাদেশের ২৪টি বাণিজ্যিক উইং রপ্তানি সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে। মিশনগুলো হচ্ছে- ব্রাসেলস, প্যারিস, বার্লিন, মাদ্রিদ, জেনেভা, লন্ডন, মস্কো, আঙ্কারা, ক্যানবেরা, অটোয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, লস এঞ্জেলস, বেইজিং, কুনমিং, নয়া দিল্লী, কলকাতা, তেহরান টোকিও, জেদ্দা, ব্রাসিলিয়া, কুয়ালালামপুর, সিউল, সিঙ্গাপুর ও দুবাই। আজ সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রাচ্য, দূরপ্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক জোট ও অঞ্চলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক পর্যায়ে কৌশলগত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) গঠনে অগ্রাধিকার দিয়েছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে শুল্ক হ্রাস, অশুদ্ধ বাধা কমানো, বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করা হবে, যাতে রপ্তানি বৈচিত্র্য বাড়ে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসইভাবে এগিয়ে যায়। মন্ত্রী জানান, পণ্য বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের উপর আরোপিত আমদানি শুল্ক হ্রাস অথবা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১০টি পণ্যের শুল্ক রহিত এবং ৬৫টি পণ্যের শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে, যা আমদানি ব্যয় হ্রাসে সহায়ক হবে। রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের মধ্যে উদ্ভূত বাণিজ্য বিরোধসহ অন্যান্য জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited