শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬:৪৯ পিএম, ২০২৬-০৬-১৬
শিবুকান্তি দাশ :
চারমাস বয়সি বর্তমান সরকারকে নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের হুশিয়ারি নতুন ভাবনার জন্মদিয়েছে। মাঠের বিরোধীদল জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পাটি সরকারকে হুশিয়ারি না করলেও বাজেট নিয়ে কড়া সমালোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা কানাঘুষার সৃষ্টি করেছে।তবে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল এখনই সরকারের কঠোর সমালোচনাকে সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি কারো হুমকিতে ভয় পায় না।
গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটের রায় বা জনদাবি স্বেচ্ছায় মেনে না নিলে শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘তৎকালীন বিএনপি সরকার নিজেরাই যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল এনে পাস করাতে বাধ্য হয়েছিল, এবারও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তারা বাধ্য হবেন। ভালোয় ভালোয় দাবি মেনে নিন। জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেবেন না। সময় খুবই সীমিত। সময় ফুরিয়ে আসছে। এই সময়ের মধ্যে পরিবর্তন না হলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’
এদিকে গত ১৫ জুন ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে জাতীয় পাটি আয়োজিত জাতীয় বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পাটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা ও ব্যবসায়ের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। রাত ১০টার পর মানুষ রাস্তা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারছে না। সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিকতায়। তিনি বলেন, বাজেট সাধারণ মানুষের কোন কল্যান বয়ে আনবে না।
এ প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে দেশের আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বাজেটে বর্ণিত আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়ন প্রয়োজন, আর এর জন্য এ মুহূর্তে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি। আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের সমর্থক বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকা- থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার বহাল না করলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অর্থাৎ তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত না করা হয়, তবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পাটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
এদিকে জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে ‘অবিবেচক’ এবং ‘গুরুত্বহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন রাজনীতিবিদরা। তাদের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করা একটা দলের ৪ মাস না পেরোতেই ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’ বলাটা রাজনৈতিক অজ্ঞতা। জামায়াত আমিরের এমন বক্তব্যের কারণে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এই সরকারের ভুল-ক্রুটি দিয়ে কোনোভাবেই স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামল জাস্টিফাই করার সুযোগ নেই।
তবে জামায়াতের দায়িত্বশীলরা বলছেন, জামায়াত জনবিচ্ছিন্ন দল নয়, বরং আগের চেয়ে জনগণের দ্বারপ্রান্তে বেশি পৌঁছে গেছে। সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতি, খুন-ধর্ষণ এবং জুলুম নির্যাতনের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে জামায়াতে যোগদান করছেন। আগের চেয়ে জামায়াতের কর্মী সমর্থক বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়ার দাবিও করেন তারা।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে অদায়িত্বশীল ও অবিবেচক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য যে সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটা দল বিরোধীদল হিসেবে আছে। তাদের প্রধান কাজই হচ্ছে ‘রাজনৈতিক চরিত্র হনন’ করা। বিরোধী দলের কার্যকলাপ বা আচরণ কেমন হবে সেটাই তারা জানে না।’’
সিপিবি’র এই নেতা আরও বলেন, ‘‘জামায়াতের অদায়িত্বশীল আচরণ বারবার তাদের কথার মাঝে ফুটে উঠছে। দুর্ভাগ্যজনক হলো মিডিয়ও তাদের এই বিষয়গুলো ফলাও করে প্রচার করছে। সরকার যদি জামায়াতের এমন কথাবার্তায় বিচলিত হয়, তাহলে চলবে না। তাদের উচিত এমন বিষয় গুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে সংকট উত্তরণে কাজ করা। এর কারণ অন্তর্বতী সরকারের শাসনামলে আদতে দেশের চাবিকাঠি ছিল জামায়াত-এনসিপির হাতে। তারা দেশ ও দেশের অর্থনীতিকে কঠিন সংকটে ফেলেছে।’’
‘জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে এক ধরনের রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘জামায়াত বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে সব কিছুতে বিরোধিতা করা শুরু করেছে। তাদের দলনেতা সেই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে। তার বক্তব্যগুলো কেবল রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি। কেননা, ৪ মাসের একটি সরকারকে ৯৬-এর পরিণতি ভোগ করতে হবে, এ ধরনের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য।’’
জামায়াতের রাজনীতিকে অপরাজনীতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত আসলে একটা গুজব নির্ভর দল। তাদের রাজনৈতিক কোনও ভিত্তি নেই। অপরাজনীতি আর গুজবের মাধ্যমে তারা বরং রাজনীতিটাকে দূষিত করে তুলেছে। নির্বাচনের আগে তারা মনে করতো ক্ষমতায় আসবে। জামায়াত ক্ষমতায় আসতো যদি ফেসুুকে নির্বাচন হতো।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘একটা দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের চার মাস না যেতেই যখন বলা হয় তাদের সময় ফুরিয়ে এসেছে, তাহলে বুঝতে হবে তাদের (জামায়াতের) রাজনৈতিক দূরদর্শিতা কতটুকু। আমার বিশ্বাস, জামায়াত আমির এই কথাটি ভুল করে বলেছেন। তাছাড়া জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা যখন একজন শিবির নেতার ধর্ষণ ও নিজে নিজে আত্মগোপন করার বিষয়টি গুম বলে প্রচার করলো, জামায়াত আমির সেটাও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন। এ থেকেই বোঝা যায়, তারা আসলে কীভাবে রাজনীতি করছে।’’
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বলেন, ‘‘জামায়াত দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা। এর মধ্য দিয়ে আমাদের জনসম্পৃক্ততা বাড়ছে। বরং সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের অপকমের কারণে তারা ধীরে ধীরে জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের সয়ম ফুরিয়ে এসেছে’ জামায়াত আমির এ কথা বলেননি। তিনি সরকারকে গণভোটের রায় স্বেচ্ছায় মেনে নিতে বলেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াত আমির বলেছেন, ‘সময় খুবই সীমিত। সময় ফুরিয়ে আসছে। এই সময়ের মধ্যে পরিবর্তন না হলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’ আমরাও স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সরকার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তা মোকাবিলা করবো।
বিরোধীদলীয় নেতার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ‘শকুনের দোয়ায় গরু মরে না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছি। জনগণ যতদিন এই সরকারকে ক্ষমতায় রাখবে, আমরা ততদিন থাকবো। শকুনের দোয়ায় গরু মরে না। আমরা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানাই। কোনও অপশক্তি যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করে, তাহলে জনগণই তাদের প্রতিহত করবে।’’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘পতিত স্বৈরাচার এবং রাজাকাররা মিলে যদি জনবিরোধী কোনও কার্যকলাপ করে এবং দেশ ও দেশের মানুষকে বিপদে ফেলার পাঁয়তারা করে, তাহলে তাদের পরিণতিও একাত্তরের মতো হবে।’’।
জামায়াতের কর্মকা-কে আগাগোড়া ভাঁওতাবাজি বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।তিনি বলেন, ‘‘জামায়াতের নেতাকর্মীদের কথাবার্তার কোনও লাগাম নেই। তারা মনে যা আসে তাই বলে। এরা রাজনীতিটাকে দূষিত করে ফেলেছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা থেকে শুরু করে এরা এখন সব ভালো কিছুর বিরোধিতায় প্রথম সারিতে’’।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited