শিরোনাম
আলাউদ্দিন বেলাল: | ০৮:১৫ পিএম, ২০২৫-০৪-১৯
খোলা কলাম!!
বিগত ১৬ বছরের একচ্ছত্র শাসনের মধ্যে দিয়ে দেশে এমন একটি কর্তৃত্ববাদী কাঠামো তৈরি হয়েছে।সেটি এখন প্রশানের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে থাকা বিশাল এক বটবৃক্ষ। এই বৃক্ষের ছায়ায় লুকিয়ে থাকা প্রেতাত্মারা কেবল লুটপাট করে ফুলে ফেঁপে পুষ্টই হয়নি বরং গ্রাম থেকে সচিবালয় পর্যন্ত তারা নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছে। এই গভীরতর শিকড় উপড়ে ফেলতে চাইলে,নিমূর্ল করতে চাইলে প্রয়োজন সর্বস্তরে সংস্কার। কেবল একটি নির্বাচন কখনোই এই ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভাঙতে পারবে না। আর এই সংস্কার না হলে প্রতিটি নির্বাচনের পর যা প্রথম খুন হয় তা হলো বাক স্বাধীনতা। নির্বাচন শুধু ব্যালট বাক্সে সিল মারা নয়—এটা হওয়া উচিত ছিল সত্য বলার সাহসকে বলিষ্ঠ করার একটা উপলক্ষ।
কিন্তু আমরা বারবার দেখেছি, নির্বাচন নামের গতানুগতিক এই উৎসব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নেমে আসে নীরবতার অভিশাপ। প্রতিবাদী সুশীল কণ্ঠ একে একে নিভে যায়। কেউ স্বেচ্ছায় চুপ থাকে না বরং তাকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়। ব্যালট গণনার আগেই শুরু হয় মনিটরিং—কে কী লিখেছে, কে কী বলেছে, কার পোস্ট এখনো আছে, কাকে ‘ডিল’ করতে হবে। ফোনে ডেকে নিয়ে জেরা, হুমকি, মামলা—এ যেন এক পূর্বপরিকল্পিত রীতি। শুধু ভিন্নমত নয়—মত প্রকাশের স্বাধীনতাই হয়ে ওঠে অপরাধ যদি তা ক্ষমতার অনুকূলে না যায়।
বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (২০১৮) কার্যত এ রকম এক ‘আইনি অস্ত্র’ হয়ে দাঁড়ায়, যার মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে শুধুমাত্র মতপ্রকাশের কারণে। ফ্যাক্টচেক ইনিশিয়েটিভস, আর্টিকেল ১৯ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ সালেই প্রায় ৪০০ জনকে এই আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল—তাদের অধিকাংশই সাংবাদিক, শিক্ষার্থী বা সমাজকর্মী। আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড ছিল এই বাক স্বাধীনতা হত্যার এক নির্মম স্মারক। একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র যিনি ফেসবুকে একটি মতামত প্রকাশ করেছিলেন—তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল ক্যাম্পাসের মধ্যেই। এই হত্যাকাণ্ডে শুধু ব্যক্তি আবরার না, মেরে ফেলা হয়েছিল একটি প্রজন্মের স্বপ্ন—নিজের দেশ নিয়ে ভাবার, বলার, প্রতিবাদ করার।
পার্শ্ববর্তী দেশের রাজনৈতিক প্রভাবের প্রসঙ্গও অবান্তর নয়। আমরা দেখেছি, কীভাবে কূটনৈতিক চাপের নামে অভ্যন্তরীণ ন্যায্য প্রতিবাদগুলোকে ‘বিদেশি এজেন্ডা’ হিসেবে সাজানো হয়। উদ্দেশ্য একটাই—বিরোধী মতকে দেশদ্রোহী প্রমাণ করা এবং জনগণের চোখে প্রশ্নকারীদের হেয় করা। এই সংকট শুধু বর্তমানের নয় ভবিষ্যতের দিকেও বিপজ্জনক বার্তা বয়ে আনে। তরুণরা যখন দেখতে পায়, সত্য বললে জীবন যায়, প্রতিবাদ করলে তালিকা হয়, তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় রাজনীতি ও সমাজ থেকে। এক আত্মমোহনীয় নীরবতা তখন সমাজকে গ্রাস করে। এর থেকে বড় দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে? বাক স্বাধীনতা আমাদের অধিকার—কারও অনুগ্রহ নয়।
নির্বাচন যদি হয়, কিন্তু নির্বাচনের পর সত্য বলা না যায়, তবে তা গণতন্ত্র নয়—তা স্বৈরতন্ত্রের আরেক নাম। তারা ভয় পায় শব্দকে। তাই লেখককে তাড়া করে, পোস্ট মুছে দেয়, কণ্ঠরোধ করে। কিন্তু আমাদের কণ্ঠ থামানো যাবে না। আমরা যারা সত্য বলি, তারা জানি—ভয় পেলে সত্য বদলায় না। তোমরা সিল দাও, আমরা প্রশ্ন করব। তোমরা চুপ করাও, আমরা আরও জোরে বলব। ব্যালটে যদি স্বাধীনতা না ফেরে, তাহলে রাস্তাই হবে আমাদের ব্যালট বাক্স— সেখানে লেখা থাকবে একটাই শব্দ সম্মিলিত প্রতিবাদ প্রতিরোধ।
আবু ফাতাহ্ মোহাম্মদ কুতুব উদ্দীন : : আজ ১ ডিসেম্বর। শুরু হলো মহান বিজয়ের মাস। বাঙালির সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ঘটনা ১৯৭১ সাল...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পরিবারসহ পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ...বিস্তারিত
আবু ফাতাহ্ মোহাম্মদ কুতুব উদ্দীন : : দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নীতিমালা তৈরি, মানবণ্টন প্রক...বিস্তারিত
খবর বিজ্ঞপ্তি : : দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন জকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে প...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited