শিরোনাম
কাজী হুমায়ুন কবির | ১২:৪৫ পিএম, ২০২৬-০৪-১৮
গ্র্র্রীস্মের তাপদাহ, ঘাম ঝড়া গরমের তীব্রতার সাথে রাজধানীসহ সারা দেশে তীব্র্র লোডশেডিং এর কারনে জনজীবন দূর্বীষহ হয়ে উঠছে। নগর ও গ্রাম পর্যায়ে কোথাও ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বা কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। দিনের বড় একটি সময়জুড়ে বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। রাতেও গরমে নাভিশ্বাস হতে হয়। দিনের শ্রমের ক্লান্তি যেন শেষ না হতে পরদিন কর্মব্যস্ততার কারনে উঠে যেতে হয়। ক্লান্তি নিয়েই বের হচ্ছে অফিস আদালতে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, অফিস-আদালতের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষিজীবীরা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। বিদ্যুৎনির্ভর ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন চালাতে পারছে না। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ না থাকায় কলকারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় ফসল উৎপাদন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই সংকট দীর্ঘ মেয়াদে আরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
দেশের বিভিন্ন জেলায় জনগণের তথ্য মতে, রাজধানী নগর এলাকায় ৪ থেকে ৫ ঘন্টা লোডশেডিংএর কবলে, উপজেলা পর্যায়ে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা। চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। শিল্প-কারখনায়ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে নগরের চেয়েও বিদ্যুতের লোডশেডিং বেশি হচ্ছে গ্রামে। বরিশালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। কুমিল্লার অনেক উপজেলায় লোডশেডিং ভয়াবহ অবস্থা। ৭ থেকে ৮ ঘন্টা লোডশেডিং হয় বলে জানিয়েছেন লাকসাম উপজেলার এক বাসিন্দা। ময়মনসিংহ, জামালপুর নেত্রকোনা, শেরপুর, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ দিনে চার-পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। তার দ্বিগুণ লোডশেডিং হচ্ছে গ্রামে। সিলেটে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার বাসিন্দারা। রংপুরে এক ঘণ্টা পর পর আবার কখনও দুই ঘণ্টা পরই লোডশেডিং হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে অবস্থা আরও ভয়াবহ। সেখানে সন্ধ্যার পর থেকে আবার এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। হিসাবে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হয় গ্রাম অঞ্চলে। খুলনার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকে নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, উৎপাদন ঘাটতির কারণে সেই চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। ফলে দেশে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এ চাহিদা পূরণে গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন প্রয়োজন। কিন্তু এসব জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানিসংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে ৩৩টি কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সচল থাকা বাকিগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না, যার প্রধান কারণ জ্বালানিসংকট। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের এই বিশাল ব্যবধান লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পিজিসিবি ও পিডিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তীব্র গরমের এই মৌসুমে চাহিদার সময় সারা দেশে লোডশেডিং ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, অনেক এলাকায় ৩০ থেকে ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করা হচ্ছে।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। খুলনা, ঘোড়াশাল, হরিপুর, মেঘনাঘাট, আশুগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ এবং বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন ইউনিট জ্বালানিসংকট বা রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের তীব্র সংকটে ভুগছে। ঢাকা অঞ্চলে ৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানিসংকটের কারণে সেগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এপ্রিল থেকে জুন–এই সময়ে দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে যায়। তবে এবার বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি খারাপের দিকে যাচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামনের দিনগুলোতে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা চলছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন বলেও তারা স্বীকার করেছেন।
পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাদের মতে, বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের বরাদ্দ না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত কয়েকদিন লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার কারণ মূলত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সংকট এবং কিছু কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম। যদিও এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তারা।
সারা দেশে তীব্র লোডশেডিং বিষয়টি শিকার করেছেন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। গত শুক্রবার চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে কৃষি ও শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। এ কারণে গৃহস্থালি খাতে তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে মে মাসে ফসল সংগ্রহ শুরু হলে গৃহস্থালি খাতকে আবারও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক :: : ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে অস্থিরতা কোনোভাবেই কমছে না। গত রোববার আবারও ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যাল...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিশেষ ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত স...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেক চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল থেকে মোহাম্মদ রিপন ও...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ধোঁয়ার কুণ্ডলীর ভেতরে মানুষ খুঁজে পায় সাময়িক প্রশান্তি, কেউ খুঁজে পায় অভ্যাস, আর কেউ ক্লান্ত জীবনে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ঈদের সকাল গড়িয়ে দুপুর নামতেই দেশের অলিগলি, গ্রামের উঠোন আর শহরের মোড়ে মোড়ে জমতে থাকে কোরবানির পশুর...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited