শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩:৫৩ পিএম, ২০২৫-০৯-২২
বান্দরবান,
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজে শুরু হতে যাচ্ছে লম্বা ছুটি। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে টানা ১২ দিনের ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এত লন্বা ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন দেশের ভেতরে অভূতপূর্ব পাহাড়ে-
রাঙামাটি: প্রকৃতি নিজ হাতে সেজেছে যেখানে
রাঙামাটি ভ্রমণের জন্য অনেক সুন্দর জায়গা রয়েছে। এখন বর্ষা শেষে পাহাড় সবুজ হয়ে আছে। কাপ্তাই লেকে আছে পানি। রাঙামাটিতে গেলে কাপ্তাই লেকে কাটাতে পারবেন। নৌকায় ঘুরতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা। চারপাশের পাহাড়, দ্বীপ আর ঝুলন্ত ব্রিজ অসাধারণ লাগে। আছে লেকের ওপর ঝুলন্ত ব্রিজ। এটি শহরের কাছেই অবস্থিত, রাঙামাটির প্রতীক বলা হয়। ছবি তোলার জন্য খুব জনপ্রিয়। কাপ্তাই লেকে নৌকায় ঘুরতে ঘুরতে যাবেন সুবলং। আছে পাশেই পেদি টিং টিং। কাপ্তাই লেকের ওপর ছোট দ্বীপে তৈরি পর্যটন কেন্দ্র। এখানে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা আছে। দুইদিন হাতে নিয়ে গিয়ে অবশ্যই পানখাইয়া পাহাড়ে যাবেন। শহরের কাছে, এখান থেকে পুরো রাঙামাটি শহর আর কাপ্তাই লেক একসাথে দেখা যায়। আলাদা করে রাঙামাটি ঘুরতে আপনার গাইড লাগবে না। ফেরার আগে রাজবাড়ি ও জাদুঘর ঘুরে আসতে ভুলবেন না।
সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি
কাপ্তাই লেক ঘুরতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করতে হয় (সময় ও গন্তব্য অনুযায়ী ভাড়া নির্ভর করে)। শহরের মধ্যে ঘোরার জন্য আছে অটো রিক্সা।
থাকার জন্য নানা দামের হোটেল আছে। সুবিধামতো খোঁজ নিয়ে নির্ধারণ করুন কোথায় থাকবেন। পর্যটন মোটেল থেকে শুরু করে বেশকিছু রিসোর্ট আছে। মনে রাখবেন, লাইফ জ্যাকেট পরে নৌকায় উঠুন। বর্ষাকালে নদী-লেকে ভ্রমণে বাড়তি সতর্ক থাকুন। স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রথার প্রতি সম্মান দেখান।
বান্দরবান: যেখানে আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায়
বান্দরবান বাংলাদেশের পাহাড়ি সৌন্দর্যের স্বর্গ বলে খ্যাত। ঘুরতে গেলে অনেক চমৎকার জায়গা দেখার আছে। হাতে সময় নিয়ে যেতে হবে। পাহাড় মানেই এখন দুর্গম এলাকা না। অনেক জায়গা এখন গাড়ি নিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায়।
বান্দরবানে আছে নীলগিরি, যেখানে পাহাড়, মেঘ আর সূর্যোদয় দেখতে রোজ জড়ো হয় পর্যটকেরা। আছে নীলাচল। এর এক প্রান্ত দিয়ে ঢুকে পাহাড়ি পথে পুরোটা ঘুরে আসা যায়। নীলগিরি যাওয়ার পথেই দেখে নিতে পারবেন বান্দরবানের অন্যতম উঁচু পাহাড় চিম্বুক, আর এই রাস্তার দুই পাশে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। আছে শহরের কাছেই সুবিশাল স্বর্ণ রঙের মন্দির, শান্ত পরিবেশ। সেখান থেকে পুরো এলাকা দেখার সুযোগ কোনভাবেই মিস করবেন না। সময় খুব বেশি না থাকলে এ কয় জায়গা ঘুরে আসতে পারেন। হাতে সময় থাকলে আরেকটু ভেতরে যাওয়াও এখন খুব সহজ। যেতে পারেন বগালেক। পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত সুন্দর একটি লেক, ট্রেকিং পছন্দকারীদের জন্য স্বর্গ। শিশু বা পারিবারিক ট্যুরে এসব জায়গা এড়িয়ে গেলে ভালো।
বান্দরবান, চিম্বুক পাহাড়ের পথ
যদি বন্ধুদের নিয়ে এ সময়টাই যেতে চান তাহলে যেতে পারেন থানচি। শঙ্খনদীর ধারে, নৌকায় চড়ে নদী ও পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায় এখানে। বন্ধুদের নিয়ে গেলে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা করতে পারেন। পাহাড় মানে তার সৌন্দর্যকে ধারণ করা। থানচি থেকে নৌকায় যেতে পারেন রেমাক্রি ঝরনা। এখানেই আছে বাংলার নায়াগ্রা নাফাখুম ঝরনা। এসব এলাকায় অবশ্যই প্রফেশনাল গাইড নিয়ে যাবেন।
খাগড়াছড়ি: পাহাড়ের ‘সমতল’ ভূমি
খাগড়াছড়িতে প্রথমবার গিয়ে হোঁচট খেতে হবে। পাহাড়ি এলাকায় এসে কীভাবে সমতলে ঢুকে পড়লাম! উঁচু বন্য পাহাড়ের মাঝে অনেকটা এলাকা সমতলের ছোঁয়া। শহর থেকে বেরিয়ে সবার আগে যেদিকে যাওয়া উচিত, তার নাম সাজেক ভ্যালি। পাহাড়, মেঘ আর সূর্যাস্ত/সূর্যোদয়ের জন্য অসাধারণ। বাংলার সুইজারল্যান্ড। সাজেক ভ্যালি রাঙামাটিতে অবস্থিত হলেও যেতে সহজ খাগড়াছড়ি দিয়ে। এপথেই সকলে যাতায়াত করে থাকে।
আলু-টিলা গুহা ছোট জায়গা হলেও বেশ আকর্ষণীয়। পাহাড় কেটে তৈরি হয়েছে অন্ধকার গুহা। টর্চলাইট নিয়ে ঢুকতে হয়, পানি, এবড়ো থেবড়ো পথ পাড়ি দিয়ে এমাথা থেকে ওমাথায় যাওয়া রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। শহরের কাছেই অবস্থিত এক চমৎকার ঝরনা রিসাং।
এখানে আছে মাইনি নদী। নদীর ধারে নৌকাভ্রমণ করা যায়। শহরের কাছে অবস্থিত একটি ছোট্ট পাহাড়চূড়া, শহর দেখার জন্য জনপ্রিয়। একটু সময় নিয়ে যেতে পারেন পানছড়ি। মোহময় এক বৌদ্ধবিহার আছে এখানে। খাগড়াছড়ি শহরে পর্যটন মোটেল রয়েছে। শহরে পাহাড়ি খাবারের নানা আয়োজনের হোটেল আছে। সব মিলিয়ে খাগড়াছড়ি বেশ আরামদায়ক।
বৌদ্ধবিহার, খাগড়াছড়ি
ট্রাভেল টিমে যেতে চাইলে যাচাই করুন
নিজের উদ্যোগে এসব জায়গায় যাওয়া যায়। যদি ট্রাভেল টিমে যেতে চান তবে কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল করতে হবে। প্রথমত আপনি যদি এমন কোনও ট্রাভেল টিমে যেতে চান যাদের চেনেন না, তবে কয়েকটি দিকে নজর দিন। তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, রিভিউ দেখে নিশ্চিত হোন তারা বিশ্বস্ত কি না। আগে কারও সাথে তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা হয়েছে কিনা খোঁজ নিন। প্যাকেজে কী কী অন্তর্ভুক্ত (যাতায়াত, হোটেল, খাবার, প্রবেশমূল্য, গাইড) আর কী অন্তর্ভুক্ত নয়, তা পরিষ্কারভাবে জেনে নিন। আগে থেকে লিখিত কনফার্মেশন বা মেসেজে নিন। আপনার সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র রাখবেন, কিছু নগদ টাকা, ওষুধ, পাওয়ার ব্যাংকসহ হালকা ব্যাগ রাখুন।
কাপ্তাই লেকে, রাঙামাটি
কাপ্তাই লেকে, রাঙামাটি
অতিরিক্ত সতর্কতা
ট্রাভেল টিমকে শুরুতেই পুরো টাকা আগে দেবেন না অগ্রিম দিলে রিসিট/প্রমাণ রাখুন। পাহাড়ি বা নদীর এলাকায় একা যাবেন না, সবসময় গ্রুপে থাকুন। সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখাটাও দরকারি।
প্রাথমিক চিকিৎসার জিনিস (Pain killer, band-aid, ORS, motion sickness medicine) নিজ দায়িত্বে সাথে রাখুন। মূল্যবান জিনিস (গহনা, বেশি টাকা, ল্যাপটপ) বহন না করাই ভালো। অপরিচিত কারও সাথে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না। আপনার ব্যবহার্য আবর্জনা পাহাড়ে যত্রতত্র ফেলবেন না, পাহাড়ি বা আদিবাসী গ্রামে গিয়ে তাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করু
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বিশেষ আয়োজনে কাবাব তো থাকেই। সেই কাবাব গরুর মাংসের হলে যেন কথাই নেই। আপনি যদি একটু মসলাদার কাবাব খ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চুল পড়া চুলের সবচেয়ে পরিচিত সমস্যার মধ্যে একটি। তাই একটি প্রশ্ন প্রায় সব সময়েই জিজ্ঞাসা করা হয় ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : পিরিয়ডের ব্যথা নানাভাবে প্রকাশ পেতে পারে - ক্র্যাম্প, পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তির সাধারণ অনুভূতি যা আ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চুল ভালো রাখতে আমরা অনেক সময় দামী তেল, সিরাম কিংবা নানা ধরনের চিকিৎসার দিকে ঝুঁকি। অথচ পুষ্টিবিদদ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : একসময় নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তান নেওয়ার বিষয়টি ছিল নিছক ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। চিকিৎসাবিজ্ঞানে...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চকলেট খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। ডার্ক চকলেট হোক কিংবা হোয়াইট চকলেট-দুট...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited