শিরোনাম
আবু ফাতাহ্ মোহাম্মদ কুতুব উদ্দীন : | ০২:৪১ পিএম, ২০২৫-০৮-৩০
কঠোর নিরাপত্তা সত্ত্বেও চোরাকারবারিদের টার্গেট হচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। মাদক কিংবা স্বর্ণ পাচারের রুট হিসেবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র এই বিমানবন্দর ব্যবহার করছে। পাচারকারীরা মাঝে মাঝে ধরা পড়লেও চক্রটি কেন বারবার এই বিমানবন্দরকেই ব্যবহার করতে চায়, সেটি এখন বড় প্রশ্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, ধরা পড়লেও হয়তো অনেক চালান এরা নিরাপদে বের করে আনে। এ কারণে বারবার তারা এই বিমানবন্দরকেই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান বলেন, বিমানবন্দর দিয়ে যেন আর মাদক পাচার না হয়, এ জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আমরা যেকোনও পণ্য পাচার রোধে আমাদের সব সংস্থাই কাজ করছে।
বিমানবন্দরে কর্মরত একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, দৃশ্যত বিমানবন্দরের নিরাপত্তার কোনও ঘাটতি নেই। এখানে বহির্গমন ও আগমনীতে যে ধরনের নিরাপত্তা অবলম্বন করা হয়, তা বিশ্বমানের। যখন একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট অবতরণ করে, সেই সময় যাত্রীদের বিমানবন্দরের ভেতর থেকে শুরু করে বের হওয়া পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি নেওয়া হয়। এছাড়া সোর্সের মাধ্যমে তথ্য থাকলে তাদের পৃথকভাবে নজরদারি, এমনকি তল্লাশির আওতায় আনা হয়। এসবের মাধ্যমে আমরা স্বর্ণ, মাদক কিংবা ট্যাক্সেবল আইটেম জব্দ করি। এরপরও একশ্রেণির চোরাকারবারি এ বিমানবন্দরকে টার্গেট করছে। তারা স্বর্ণ ও মাদক পাচারের চেষ্টা করছে। আমাদের কাছে এটি উদ্বেগজনক মনে হয়।
তারা বলেন, আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় এখন নজরদারি বেশি। নজরদারি কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, আমরা তা নিয়ে কাজ করছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাড়ে ৮ কেজি কোকেনসহ গ্রেফতার হন গায়ানার নাগরিক এম এস কারেন পেতুলা স্টাফেল। জব্দ করা এই কোকেনের বাজারমূল্য প্রায় ১৩০ কোটি টাকা। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে। আদালত তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন এ ঘটনায় বাংলাদেশি কেউ জড়িত আছে কিনা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানান, অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে তিনি ঢাকায় আসেন। কোকেনের চালানটি ঢাকার মাদক চক্রের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই ধরা পড়েন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কারেন পেতুলা স্টাফেল আগেও একাধিকবার ঢাকায় এসেছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধরা পড়া কোকেন ব্রাজিল থেকে আনা হয়। তিনটি দেশ হয়ে তা ঢাকায় পৌঁছায়। পরে অন্য দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রায় সাড়ে আট কেজি কোকেনসহ আফ্রিকার দেশ মালাউইর নাগরিক নোমথেনডাজো তাওয়েরা সোকোকে গ্রেফতার করেছিল মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। জব্দ করা ওই মাদকের মূল্য ছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
এছাড়া সম্প্রতি কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আনার সময়, কিংবা দেশ থেকে দেশের বাইরে পাচারের সময় অহরহ ইয়াবা জব্দের ঘটনা ঘটছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মেহেদি হাসান বলেন, চোরাকারবারিরা সবসময় ফাঁকফোকর খোঁজার চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা বিমানবন্দরে অনেক সংস্থা মিলে কাজ করি। কড়া নজরদারির কারণেই মাদকসহ পাচারকৃত পণ্য আমরা ধরতে পারছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি যে শুধু আমাদের বিমানবন্দরে হচ্ছে তা নয়। পৃথিবীর অনেক বিমানবন্দরেই এসব ঘটছে। চোরাকারবারিরা সুযোগসন্ধানী হলেও আমাদের কঠোর নজরদারির কারণে তারা সফল হতে পারছে না।
মাদকের পাশাপাশি স্বর্ণ জব্দের ঘটনাও ঘটছে। গত ৭ আগস্ট সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় স্বর্ণের চালান জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। দোহা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের কার্গো হোল থেকে ৮ কেজি ১২০ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়। ধারণা করা হয়, ফ্লাইটটি হ্যাঙ্গার গেটে নিয়ে পরে সুবিধাজনক সময়ে সেগুলো পাচার করা হতো। গত ১৭ আগস্ট এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ৭৬ ভরি স্বর্ণসহ তিন জনকে আটক করে। এছাড়া বিমানবন্দরে জব্দ না হলেও দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত স্বর্ণ জব্দের ঘটনা ঘটছে।
সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট যশোরে পৃথক অভিযানে বিজিবি সদস্যরা ৩৬টি সোনার বারসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছেন। আটক সোনার ওজন ৫ কেজি ৩৩৪ গ্রাম, যার মূল্য প্রায় ৭ কোটি ৮৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮৬৮ টাকা বলে জানান যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী।
সূত্র জানায়, জব্দকৃত স্বর্ণ শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে বের করে পাশের দেশে পাচারের জন্য সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হয়। সীমান্ত এলাকায় যেসব স্বর্ণ জব্দ করা হয়, তার সবই বিমানবন্দর দিয়ে পাচার করা বলে সূত্র নিশ্চিত করে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, এত নজরদারির পরও যে পাচার হচ্ছে না, সেটি শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যায় না। সীমান্ত এলাকায় যেগুলো জব্দ হচ্ছে— সেগুলোতে এই বিমানবন্দর দিয়েই বের করা হয়। তবে এটাও সত্য যে কেউ একটা স্বর্ণের বার ট্যাক্স দিয়ে বের করেছেন। পরে হয়তো সেটি বিক্রি করে দিয়েছেন। একইভাবে একসঙ্গে ৮/১০টি স্বর্ণের বার হয়তো শুল্ক দিয়েই বের করা হলো, পরে সেগুলোই পাচারের সময় হয়তো ধরা পড়ছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, চোরাকারবারিরা যেন কোনোভাবেই বিমানবন্দরকে পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য সব সংস্থাই সজাগ রয়েছে। মাদক ও স্বর্ণ জব্দের ঘটনায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি-১ আসনের জামায়াত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী ড. ফয়জুল হকে...বিস্তারিত
মোঃ জহির উদ্দিন, কক্সবাজার : : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৮ হাজার ৬৩০ জন ভোটার পো...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : রংপুরের পীরগাছায় সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হক সুমনের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণ প্রকল্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের প্রতিযোগিতা চল...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় লেথাল ওয়েপন (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করবে...বিস্তারিত
মোঃ জহির উদ্দিন, কক্সবাজার : : কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ আগাম...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited