শিরোনাম
মুনীর চৌধুরী : | ০৭:২৯ পিএম, ২০২৫-০৮-২৮
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় জ্বালানি তেল পরিবহনের নতুন পাইপলাইনের প্রথম চালানেই ধরা পড়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। কুমিল্লা ডিপোর দুটি ট্যাংকে পানি ঢুকে পড়ায় ৩৩ হাজার ৯৫৪ লিটার ডিজেলের ঘাটতির ঘটনা সামনে এসেছে। এ নিয়ে জ্বালানি খাতে চলছে তোলপাড়।
যমুনা অয়েল কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, পাম্পিংয়ের সময় পাইপলাইনে পানি থেকে থাকতে পারে। সেই পানির কারণেই ডিজেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা ডিপো থেকে যমুনা অয়েলের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে ঘাটতির তথ্য স্বীকার করা হয়েছে। ৩০ জুলাইয়ের ওই প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন ডিপো ইনচার্জ মো. উজায়ের আহামেদ।
অন্যদিকে, কুমিল্লা ডিপোর দুইটি ট্যাংকে পানি ঢোকার ঘটনায় গত ১৬ জুলাই সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর। কমিটিকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও এ পর্যন্ত তা জমা পড়েছে কি না—তা নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না।
জানা গেছে, ২৪ জুন পতেঙ্গা ডিপো থেকে পাইপলাইনে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়। ওই চালান পাঠানো হয় কুমিল্লার ১০৫ ও ১০৬ নম্বর ট্যাংকে এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ডিপোতে। তখনই কুমিল্লার দুটি ট্যাংকে পানির উপস্থিতি ধরা পড়ে।
যমুনা অয়েলের প্রধান কার্যালয়ের অপারেশন বিভাগের ডিজিএম মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, পাম্পিংয়ের সময় যে পানি ছিল, সেটিই কুমিল্লা ডিপোর দুই ট্যাংকে গিয়ে জমেছে। ঘাটতিও মূলত সেই কারণেই।
গত ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রকল্পটি। আগে যেখানে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অঞ্চলে তেল পরিবহনে দেড় শতাধিক কোস্টাল ট্যাংকারে আগে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতো এখন তা ১২ ঘণ্টায় নেমে আসে। খারাপ আবহাওয়া ও নৌপথে তেল পরিবহনে ঝুঁকিও কমাবে এই প্রকল্প। পরিবেশবান্ধব, ঝুঁকিমুক্ত, পরিবহন ব্যয় ও সময় সাশ্রয়ী ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের ২৪২ কিলোমিটার পাইপলাইনে চট্টগ্রাম থেকে প্রতি ঘণ্টায় ২৬০-২৮০ মেট্রিক টন ডিজেল যাওয়ার কথা নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপোতে। গত ২২ জুন সন্ধ্যা থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বাণিজ্যিক এ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
বিপিসির তথ্যমতে, বছরে ৫০ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহের সক্ষমতাসহ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, সিস্টেম লস কমানো, নৌপথে তেল পরিবহনের বিপুল খরচ সাশ্রয়, পরিবেশ সুরক্ষা, ঝুঁকিমুক্তভাবে দ্রুততম সময়ে তেল পরিবহনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত আড়াইশ’ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা পাইপলাইন প্রকল্পে বছরে সাশ্রয় হবে ২২৬ কোটি।
প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত আড়াইশ’কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা গুপ্তখাল থেকে ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে ২৪১ দশমিক ২৮ কিলোমিটার পাইপলাইন। ভূগর্ভে স্থাপন করা এসব পাইপলাইনের ব্যাস থাকছে ১৬ ইঞ্চি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের গোদানাইল থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে ৮ দশমিক ২৯ কিলোমিটার পাইপলাইন। স্ক্যাডা, টেলিকমিউনিকেশন এবং লিক ডিটেকশন করতে এই পাইপলাইনের সাথে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল লাইন সংযুক্ত রয়েছে। পতেঙ্গা থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত পাইপলাইন গেছে ২২টি নদীর তলদেশ ছুঁয়ে। পুরো পাইপলাইন জুড়ে থাকছে ৯টি স্টেশন। আর কুমিল্লার বরুড়ায় ২১ হাজার মেট্রিক টনের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন স্থাপন হয়েছে নতুন একটি ডিপো।
সময় সাশ্রয় এর জন্য দেশকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি না তো?
পাইপলাইনের প্রথম চালানেই ধরা পড়েছে বড় ধরনের ঘাটতি।
গত ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চট্রগ্রাম- ঢাকা পাইপ লাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ উদ্বোধন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা।
পদ্মা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড চট্টগ্রাম ডিপো থেকে এই পাইপলাইনে মাধ্যমে জ্বালানি তেল ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৫০ লক্ষ লিটার তেল ঢাকা পৌঁছাবে মাত্র ১২ ঘণ্টায়।
এই প্রকল্পে মোট ব্যয় করা হয়েছে ৩৬৫৩ হাজার কোটি টাকা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিপিসিকে বছরে ন্যূনতম ৭৭৩ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।
২৫০ কিলোমিটার পাইপ লাইনে প্রায় ৩ কোটি লিটার তেল দিয়ে পূর্ণ করা আছে। যা তেল সরবরাহকে গতিশীল রাখতে সব সময় পাইপ লাইনে থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি এই পাইপ লাইনের মাধ্যমে বছরের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
প্রকল্পের ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়, পাইপ লাইনে মজুদ তেল , সর্বমোট যে টাকার পরিমান দাঁড়ায় তাতে ৩০০ কোটি টাকা ৩৫ বছর পর সাশ্রয় করার সম্ভাবনা আছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় বিশ্বের যেসব উন্নত দেশে পাইপ লাইনে জ্বালানি তেলের সরবরাহ হয় তার সবগুলোতেই বছরব্যাপী দুর্ঘটনা লেগে থাকে। এতে মানবসম্পদ অর্থ-সম্পদ সহ পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।
দিনাজপুরে ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনে ইতিপূর্বে একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। যার লিকেজ ছাড়াতে ভারত থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে আসতে হয়েছে।
তেল এর পাইপলাইনে দুর্ঘটনার অনেক ইতিহাস আছে যেমন
১৬ জুন, ১৯৭৬ - ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি সড়ক নির্মাণ কর্মীর দ্বারা একটি পেট্রোল পাইপলাইন ফেটে যায় । এলাকাজুড়ে পেট্রোল ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং শীঘ্রই আগুন লেগে যায়, যার ফলে ৯ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়। নির্মাণ এলাকায় পাইপলাইনের গভীরতা নিয়ে বিভ্রান্তি দুর্ঘটনার একটি কারণ বলে মনে হয়।
- ১৭ অক্টোবর, ১৯৯৮ - ১৯৯৮ জেসি পাইপলাইন বিস্ফোরণ : নাইজেরিয়ার নাইজার ডেল্টার জেসিতে একটি পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন বিস্ফোরণে প্রায় ১,২০০ গ্রামবাসী নিহত হয়, যাদের মধ্যে কেউ কেউ পেট্রোল পরিষ্কার করছিলেন ।
- ১০ জুন, ১৯৯৯ - ওয়াশিংটনের বেলিংহাম পার্কে পাইপলাইন ফেটে ২,৭৭,২০০ গ্যালন পেট্রোল নির্গত হয়। পেট্রোলটি জ্বলে ওঠে, যার ফলে একটি বিস্ফোরণ ঘটে যার ফলে দুই শিশু এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হয়। পাইপলাইনের ভুল কার্যকারিতা এবং পাইপের পূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ যা আগে সনাক্ত করা হয়নি, তা ব্যর্থতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- ১২ মে, ২০০৬ - নাইজেরিয়ার লাগোসের বাইরে একটি তেল পাইপলাইন ফেটে যায় । এতে ২০০ জন নিহত হয়েছে।
- ২০১৩ সালে, চীনের শানডং প্রদেশে একটি অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন ফেটে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ২৬ জন নিহত এবং আরো অনেকে আহত হয়েছিলেন।
- ২০১৫ সালে, রাশিয়ার একটি গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন।
তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ও বিভিন্ন সময়ে পাইপলাইন থেকে তেল লিকেজের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে পরিবেশ দূষণ হয়েছে।
উন্নত দেশগুলো ও এই দুর্ঘটনা গুলো প্রতিহত করতে পারেনি। কিন্তু উন্নত প্রযুক্তি, সততা, দায়িত্ববোধ, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা দ্রুত তম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পেরেছে। কিন্তু আমাদের এই পাইপলাইনে যদি কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে তা আমরা মোকাবেলা করতে কতটুকু প্রস্তুত ? কারণ আমরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি ঠিক কিন্তু তা বাস্তবায়নের জন্য যে মেধা, দায়িত্ববোধ, কঠোর পরিশ্রম ও সততা দরকার তা কি বাংলাদেশের সবচাইতে দুর্নীতিগ্রস্ত জ্বালানি খাতে আছে?
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান ইতিপূর্বে বলেছেন এই পাইপ লাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহনে সময় সাশ্রয় হবে, নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসেই পাইপ লাইনের তেল সরবরাহ মনিটর করা যাবে যার মাধ্যমে তেল চুরি বন্ধ হবে।
এই পাইপলাইনে তেল সরবরাহের মাধ্যমে তেল চুরি বন্ধ হবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা তা কখনোই বাস্তবায়ন করতে পারবেন না উল্টো এর মাধ্যমে তেল চুরির চক্রটি আরো নিখুঁতভাবে তেল চুরি করবে। তিনি এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে এই দেশের জন্য আমদানিকৃত জ্বালানি তেল চুরির সাথে জড়িত মূল হোতাদের সযত্নে ও সুকৌশলে পর্দার আড়ালে সরিয়ে নিয়ে সেভ এক্সিট দিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় জ্বালানি তেল পরিবহনের নতুন পাইপলাইনের প্রথম চালানেই ধরা পড়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। কুমিল্লা ডিপোর দুটি ট্যাংকে পানি ঢুকে পড়ায় ৩৩ হাজার ৯৫৪ লিটার ডিজেলের ঘাটতির ঘটনা সামনে এসেছে। এ নিয়ে জ্বালানি খাতে চলছে তোলপাড়।
নিজস্ব প্রতিবেদক : আব্দুল হালিম সরদার: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা এ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মাহমুদুর রহমান, ভালুকা প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতি, ভালুক...বিস্তারিত
এনামুল হক, সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফ : : টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার যমুনা নদীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইড...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মাহমুদুর রহমান, ভালুকা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে। ব...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited