বাংলাদেশ   সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

শিরোনাম

শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে টেকসই উন্নয়ন আজ দ্বিধাগ্রস্ত

আমাদের বাংলা ডেস্ক :    |    ০৬:৫৩ পিএম, ২০২৬-০৫-০৫

শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে টেকসই উন্নয়ন আজ দ্বিধাগ্রস্ত

আবদুল্লাহ মজুমদার

উন্নয়নের ঝলমলে বয়ানে আমরা প্রায়ই এক ধরনের স্বস্তির ভ্রমে বাস করি। সড়ক, সেতু, উড়ালপুল কিংবা মেগাপ্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি যেন রাষ্ট্রীয় সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই আলোকমালার আড়ালে যে অন্ধকার ক্রমেই ঘন হচ্ছে, তার নাম—শিক্ষার অবহেলা। একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি পরিমাপ করা হয় তার মানবসম্পদের মান দিয়ে, আর সেই মান নির্ধারণের প্রধান উপাদানই যখন উপেক্ষিত হয়, তখন উন্নয়নের এই উচ্চারণগুলো ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ আজ জনসংখ্যার ভারে এক নতুন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটেনি—ঘটেছে বরং চাপের সঞ্চয়। শ্রেণিকক্ষ ভরে উঠেছে, কিন্তু শেখার পরিসর সংকুচিত হয়েছে; শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু শিক্ষার গভীরতা কমেছে। শিক্ষকসংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পরিকল্পনাহীন সম্প্রসারণ—সব মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা যেন একটি অনিয়ন্ত্রিত যাত্রায় এগিয়ে চলেছে, যার গন্তব্য অনিশ্চিত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—আমরা এই সংকটকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে শিখেছি। মুখস্থনির্ভর শিক্ষা এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়ম। পরীক্ষার ফলাফলই হয়ে উঠেছে শিক্ষার একমাত্র মানদণ্ড, যেখানে জ্ঞান নয়, নম্বরই চূড়ান্ত সত্য। ফলে তৈরি হচ্ছে এমন এক প্রজন্ম, যারা তথ্য ধারণ করতে পারে, কিন্তু তা বিশ্লেষণ বা প্রয়োগ করতে অক্ষম। এই প্রবণতা কেবল ব্যক্তিগত সক্ষমতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না; এটি জাতীয় উৎপাদনশীলতা ও উদ্ভাবনক্ষমতাকেও ধীরে ধীরে ক্ষয় করে দিচ্ছে।
আরও গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়—এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গির সংকট। শিক্ষা আমাদের কাছে এখনও বিনিয়োগ নয়, ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বাজেট বরাদ্দে এর প্রতিফলন ঘটে না, নীতিনির্ধারণে আসে না দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বারবার পরিবর্তিত পাঠ্যক্রম, অপ্রস্তুত বাস্তবায়ন এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনা শিক্ষাব্যবস্থাকে এক ধরনের স্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্ব যেখানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা এখনও অনেকাংশে পুরোনো কাঠামোর বন্দী। দক্ষতা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বদলে আমরা এখনও পরীক্ষার খাতায় সাফল্য খুঁজি। ফলে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে—একদিকে ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে দক্ষ জনবলের ঘাটতি তীব্র হচ্ছে। এই বৈপরীত্য ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। মানসম্মত শিক্ষা এখন অনেক ক্ষেত্রে একটি পণ্যে পরিণত হয়েছে, যা কেবল অর্থনৈতিকভাবে সক্ষমদের নাগালের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর ফলে সমাজে তৈরি হচ্ছে শিক্ষাগত বৈষম্যের নতুন স্তর—যেখানে প্রতিভা নয়, সামর্থ্যই নির্ধারণ করছে সুযোগের সীমা। এই বৈষম্য দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যা রাষ্ট্রের জন্য গভীর ঝুঁকি তৈরি করে।

এই প্রেক্ষাপটে সমাধান খোঁজা আর বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্যতা। প্রথমত, শিক্ষাকে জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে—শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তবায়নে। বাজেট বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ—এসবকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাদর্শনে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা, সমস্যা সমাধান দক্ষতা এবং সৃজনশীলতাকে শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে হবে—যাতে শিক্ষা হয় সহজলভ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সময়োপযোগী।

একটি মৌলিক সত্যকে স্বীকার করতে হবে—শিক্ষা কোনো তাৎক্ষণিক ফলদায়ক খাত নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, যার ফল এক প্রজন্ম পর দৃশ্যমান হয়। কিন্তু সেই বিনিয়োগ যদি আজ না করা হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তার মূল্য চোকাতে হবে বহুগুণে।

এখন সময় আর অজুহাতের নয়, সিদ্ধান্তের। কারণ আজকের অবহেলা আগামী দিনের ব্যর্থতায় রূপ নেবে। ইতিহাস সাক্ষী—যে জাতি তার শিক্ষাকে অবহেলা করে, সে জাতি কখনো টেকসই উন্নয়নের পথে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

শিক্ষা আর অপেক্ষা করতে পারে না—এটি এখনই রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের সর্বোচ্চ স্থানে উঠে আসার দাবি জানাচ্ছে।

লেখক: সভাপতি, লাভ বাংলাদেশ পার্টি, চট্টগ্রাম মহানগর। 

রিটেলেড নিউজ

চতুর্থবারের মতো খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স, মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

চতুর্থবারের মতো খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স, মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শেষে চতুর্থ দফায় পাওয়া গ...বিস্তারিত


কুড়িগ্রামে বিএনপির ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কুড়িগ্রামে বিএনপির ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ...বিস্তারিত


বাড়ছে পানি, ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

বাড়ছে পানি, ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৃষ্টিপাত বেড়ে নদ-নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছালে দেশের পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। শনি...বিস্তারিত


পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে : লাভের আশায় ১১টি ট্রেন ইজারা দেবে রেল

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে : লাভের আশায় ১১টি ট্রেন ইজারা দেবে রেল

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : রাজশাহী প্রতিনিধি : পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১১টি ট্রেন ইজারা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চারটি ট্রেনের দর...বিস্তারিত


ড্রোনে অপরাধী, ক্যাম্পাসে ইয়াবা: নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ

ড্রোনে অপরাধী, ক্যাম্পাসে ইয়াবা: নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশের একাংশের পুরোনো ও অচল যানবাহন, পুলিশের অবস্থান নজরদারিতে অপরাধীদের ড্রোনের ব্যবহার এবং মে...বিস্তারিত


বিরোধীদলের কারণেই কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায় : পানিসম্পদ মন্ত্রী

বিরোধীদলের কারণেই কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায় : পানিসম্পদ মন্ত্রী

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : প্রথমদিন থেকেই বিরোধীদল প্রতিমুহূর্তে সরকারি দলকে অসহযোগিতা করার কারণেই ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অ...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর