শিরোনাম
চট্টগ্রাম ব্যুরো : | ০৫:৫১ পিএম, ২০২৬-১০-০৩
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এসব দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর বন্দরের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে তারা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু।
লিখিত বক্তব্যে ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অবকাঠামোর বিবিধ অ্যাজেন্ডায় এ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কেন মূল অ্যাজেন্ডায় বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন ও আলোচনা করা হলো না।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, রাজস্ব, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এনসিটি বন্দরের অন্যতম প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল। তাই এটি ১৫ বছরের জন্য কনসেশনে দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ কোনো প্রশাসনিক বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় টার্মিনালটি পরিচালনার সম্ভাব্য আয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কনসেশনে দিলে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তুলনামূলক মূল্যায়ন জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বন্দর রক্ষা কমিটি বিদেশি বিনিয়োগ বা আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধী নয়। তবে জাতীয় কৌশলগত অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা, রাজস্ব, কর্মসংস্থান, শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে হওয়া ২২ বছর মেয়াদি চুক্তির অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনা করার দাবি জানানো হয়।
ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্পের বিকাশ, বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের সময়ে এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন কেন, তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করা দরকার। এ ধরনের চুক্তির সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রকাশ না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, বন্দর রক্ষা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে তাদের দাবি জানিয়ে আসছে। এ জন্য সংবাদ সম্মেলন, প্রতীকী অনশন, কালো ও লাল পতাকা মিছিল, মশাল মিছিল, বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আহ্বান এবং প্রয়োজনে জাতীয় সংলাপের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বন্দর রক্ষা কমিটি জানিয়েছে, তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়; বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য। এ জন্য এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডের প্রস্তাবিত ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিলের পাশাপাশি সিসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বন্দর শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ইজারাবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের হয়রানিমূলক বদলি বা অন্য কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে সরকার এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে বন্দরের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ আন্দোলনে যুক্ত বিভিন্ন প্ল্যাটফরম, সংগঠন ও জোটের প্রতি সংহতি জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল ও খোরশেদ আলম, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, বিএফটিইউসির যুগ্ম সম্পাদক রিজওয়ানুর রহমান খান, জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের নেতা আব্দুর রউফ লিটন, শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক : ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় শেখ হাসিনাকে ভারতে নিতে সে দেশের সেনাবাহিনী বা বিà¦...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি মাসের প্র...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দু-একটি অঘট...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ নগরের রহমতপুর বাইপাস সড়কে রাজীব পরিবহনের বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত à¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, কাঁচা পাট রপ্তানি করে নয়, পাটকে উচ্চমূল্যের à...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : পটিয়া প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited