শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৩:৪১ পিএম, ২০২৬-১০-০২
লায়ন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম :
আমাদের সমাজে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন কিংবা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সংগঠন
যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে তাকালেই
এক অদ্ভুত ও হতাশাজনক মিল চোখে পড়ে। যে সংগঠনগুলোর মূল ভিত্তি হওয়ার কথা ছিল সাম্য, জনকল্যাণ এবং সমষ্টিগত চেতনা, সেগুলো আজ ব্যক্তিপূজা ও পরিবারতন্ত্রের অন্ধকূপে নিমজ্জিত।
একটি আদর্শিক সংগঠনের মূল সৌন্দর্য এবং প্রাণশক্তি হলো তার অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা ও নিয়মিত নেতৃত্বের পরিক্রমা। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশের সিংহভাগ সংগঠনে আজ এক অলিখিত ও অনৈতিক সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে। শীর্ষ পদটিতে অধিষ্ঠিত হতে হবে নিজের কোনো রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়কে, আর একবার সেই কাঙ্ক্ষিত আসনে বসতে পারলে আমৃত্যু তা আঁকড়ে ধরে রাখতে হবে। এটিই যেন বর্তমানের অলিখিত নিয়ম। নেতৃত্বকে এখানে জনসেবা বা দায়িত্ব হিসেবে না দেখে, আমৃত্যু ভোগ করার মতো একচেটিয়া অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
একক আধিপত্য বজায় রাখার স্বার্থে এই সংগঠনগুলোতে এক সুক্ষ্ম ও পরিকল্পিত ছক কার্যকর করা হয়। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে অর্থ সম্পাদক বা নীতিনির্ধারণী সর্বস্তরে বসানো হয় নিজের ভাই, বন্ধু, নিকটাত্মীয় কিংবা অন্ধ অনুগত ও চাটুকার ব্যক্তিদের। এর ফলে একটি জনমুখী ও সর্বজনীন সংগঠন রাতারাতি রূপ নেয় ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো লিমিটেড কোম্পানিতে।
যখন একটি সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর পকেটস্থ হয়ে যায়, তখন সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ধস নামা অনিবার্য হয়ে পড়ে। এই ব্যবস্থার ফলে প্রথমত, যোগ্যতার চরম অবমূল্যায়ন ঘটে। মেধা, ত্যাগ ও দক্ষতার চেয়ে আত্মীয়তা ও অন্ধ দাসত্বই বড় যোগ্যতা হয়ে দাঁড়ায়। দ্বিতীয়ত, নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব বিকশিত হওয়ার পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে যায়, যার ফলে সংগঠনগুলো একসময় স্থবির ও গতিহীন হয়ে পড়ে। তৃতীয়ত, ভিন্নমত বা গঠনমূলক সমালোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে যায় মতের বৈচিত্র্য। সর্বপরি,
সেখানে গণতন্ত্রের ন্যূনতম চর্চাটুকুও অবলুপ্ত হয়।
আমাদের গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে যে, সংগঠন কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়! সংগঠন সবার। একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর নেতৃত্ব নির্ধারিত হওয়া উচিত ব্যক্তির সততা, ত্যাগ, কর্মদক্ষতা এবং সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে, রক্তের সম্পর্কের জোরে নয়। আত্মীয়কেন্দ্রিকতা, স্বজনপ্রীতি ও একক আধিপত্য সাময়িকভাবে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারকে ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা সংগঠনের মূল আদর্শ ও মেরুদণ্ডকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। একটি সুস্থ, প্রগতিশীল এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরের এই ‘পারিবারিক সিন্ডিকেট’ ভাঙার কোনো বিকল্প নেই। সংগঠনকে তার মূল চালিকাশক্তি। অর্থাৎ সাধারণ সদস্যদের অধিকারের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া আজ সময়ের দাবি।
মোঃ আরফান উদ্দীন : সাইবার অপরাধ দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদà...বিস্তারিত
মামুনুর রশীদ সেলিম : : টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এ টেরীবাজারের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীà...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : নির্বাচনে কোনো আসন না পেলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কুড়িগ্রাম জেলাকে কোনোভাবেই à¦...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মাহাবুব রহমান দুর্জয় : সমাজে কিছু আচরণ আছে, যেগুলোকে আমরা এতদিন ধরে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে নিতে à...বিস্তারিত
মোঃ আরফান উদ্দীন : দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় ময়লার ডাস্টবিন ও ব...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : চট্টগ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে ‘দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’-এর সহ-সম্পাদক ও স...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited