শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:০০ পিএম, ২০২৬-০১-০৭
চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সদ্য জামিন পাওয়া জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী অভিযোগ করেছেন, তাকে ১১ দিন কারাগারে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তাহরিমা জান্নাত সুরভী বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ, এনসিপি, বিএনপি, জামায়াত কিংবা গণঅধিকার পরিষদ—কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। আমি একজন অরাজনৈতিক মানুষ। কিন্তু দেশের স্বার্থে সবসময় প্রতিবাদ করেছি। এত কিছুর পরও আমাকে ১১ দিন জেলে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে।” তিনি জানান, প্রথমে তাকে গাজীপুর জেলা মহিলা কারাগারে নেওয়া হয়। রোববার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তার জামিন মঞ্জুর হওয়ার কথা থাকলেও সেখান থেকে তাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়। রিমান্ড শেষে আবার আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফারুক পুনরায় রিমান্ড আবেদন করেন। সুরভী বলেন, “আমার আইনজীবীরা আদালতে আমার পক্ষে সব প্রমাণ উপস্থাপন করেন। ম্যাজিস্ট্রেট যখন তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেন, জবানবন্দি ছাড়া আর কোনো প্রমাণ আছে কি না, তিনি স্বীকার করেন যে কোনো প্রমাণ নেই। তারপরও আমার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “আমার বয়স মাত্র ১৭ বছর। এ ছাড়া, সামনে পরীক্ষা ছিল। এসব বিষয় আদালতে জানানো সত্ত্বেও আমাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর হলেও ১১ দিন পর আমাকে লাশের মতো করে জেল থেকে বের হতে হয়েছে। আমার কাছে জেল মানেই ছিল টর্চার (নির্যাতন)।” সুরভী বলেন, “একদিন অনেক কষ্ট করে টাকা দিয়ে এক স্যারের মাধ্যমে আমার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছিলাম। সেদিন আমি মাকে বলেছিলাম— ‘আম্মু, হয়তো আমি দুনিয়াতে আর থাকব না’।” তিনি অভিযোগ করেন, যে মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, সেখানে প্রতারণা, চাঁদাবাজি, মারধর ও চুরিসহ ছয়টি ধারা দেওয়া হয়েছে— যেগুলোর কোনোটিই তিনি করেননি। বারবার রিমান্ড চাওয়ার একটাই কারণ, আমি টাকা দেইনি। সুরভী জানান, আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই। তবুও রিমান্ড দেওয়া হয়েছে এই বলে যে, “উপর লেভেল থেকে অর্ডার আছে। এই উপর লেভেলটা কে? তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই কীভাবে মামলা হয়? ১৭ বছরের একজন মেয়েকে কীভাবে রিমান্ড দেওয়া হয়?” সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, কারাগারে তার সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তানজিলা তাবাসসুম নামের আরেকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, “তাকে এমনভাবে আটকে রাখা হয়েছে যে তার পরিবার কিংবা তার বিশ্ববিদ্যালয়— কেউ জানে না সে কোথায়। সেও আমাদের মতো প্রতিবাদী ছিল। আমাদের কণ্ঠ এভাবে রোধ করা হচ্ছে কেন?”
গণহত্যায় জড়িত ওসি-এসপিদের তালিকা ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত
জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি রিফাত রসিদ এই ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রসিদ বলেন, “অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানার অধীনে ছাত্র-জনতাকে শহীদ করা হয়েছে, সেই সব থানার ওসি থেকে শুরু করে জেলা পুলিশ সুপার ও কমান্ডিং অফিসারদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। আমরা তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করেছি, যা দ্রুতই আইসিটিতে জমা দেওয়া হবে।” এ সময় সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সংগঠনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসান, ‘জুলাইকন্যা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘোষিত তিন দফা দাবির পাশাপাশি তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। প্রথম কর্মসূচি হিসেবে রাষ্ট্রপতির জারি করা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের বিষয়ে আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। এ ছাড়া প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও বিপ্লবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হবে। রিফাত রসিদ আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হয়রানি আর বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে তিনি শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচারকে বর্তমানের সবচেয়ে বড় ‘এক দফা’ দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত তিন দফা দাবিগুলো হলো–
১. মাহদী হাসান ও তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং ওমর ফারুকসহ হেনস্তাকারী পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অবিলম্বে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
৩. জুলাই বিপ্লবে অবদান রাখা সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের অবদান ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করতে হবে। তাদের সম্মাননা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থায়ী কমিশন গঠন করতে হবে। পাশাপাশি ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পর থেকে পদোন্নতি বঞ্চিত সেনা কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি দিতে হবে।
সংগঠনের মুখপাত্র সিনথীয়া জাহিন আয়েশা বলেন, মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে তাহরিমা জান্নাত সুরভীর চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণহত্যার অর্থদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় না আনলে সরকারকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited