শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:২৭ পিএম, ২০২৬-০১-১২
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক অধ্যাদেশগুলোতে তার স্পষ্ট প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, শতাধিক অধ্যাদেশ জারি করে এক ধরনের রেকর্ড গড়া হলেও এসব আইনি কাঠামোর বড় অংশে জুলাই সনদের চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে। বরং সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন। তার অভিযোগ, সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও নিজস্ব বিবেচনায় একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করলেও অনেক ক্ষেত্রে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মৌলিক সুপারিশ উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংস্কারের নামে এমন আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা কার্যত দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে এবং পুরোনো ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালনের অংশ হিসেবে টিআইবি ধারাবাহিকভাবে আইনের খসড়া পর্যালোচনা ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিয়ে আসছে। কিছু ক্ষেত্রে সেই সুপারিশ বাস্তবায়িত হওয়ায় সরকার ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানালেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক খাতে যৌক্তিক প্রস্তাব উপেক্ষিত থাকার বিষয়টি গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংস্কার অধ্যাদেশ বিশ্লেষণ করে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও জবাবদিহির কাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি। বিশেষ করে দুদক সংস্কারে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও দুর্নীতির মামলায় জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে সাজা মার্জনার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা তিনি ‘দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেওয়ার ফাঁদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এছাড়াও দুদক সংস্কার অধ্যাদেশে কমিশনার সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী কমিশনার ও আইসিটি বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তি এবং সরাসরি এফআইআর করার ক্ষমতাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি রোধে প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রিটি ইউনিট বাতিল এবং পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুতর দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই অধ্যাদেশ একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে। সাবেক আমলা ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাধান্য, ‘সদস্য সচিব’ পদ সৃষ্টি এবং প্রথম তিন বছরে অনির্দিষ্ট সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগের সুযোগ দেওয়াকে তিনি সিভিল ও পুলিশি আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্ব বজায় রাখার কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংস্কার অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিক খসড়াটি আন্তর্জাতিক মানের হলেও সংশোধিত সংস্করণে এসে সেই সম্ভাবনা খর্ব হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে কমিশনের আওতায় আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অন্তর্ভুক্ত করায় কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সার্বিকভাবে টিআইবি মনে করে, সংস্কার কমিশনগুলোর বহু গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ উপেক্ষা করে যে অধ্যাদেশগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে, তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বদলে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করবে। জুলাই সনদের চেতনা অনুযায়ী যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রকৃত সংস্কার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এই উদ্যোগগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে বলে তাদের আশঙ্কা।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশে সংস্কার নয়, পুরোনো ব্যবস্থার পুনর্বাসন : টিআইবি
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠনের যে দীর্ঘদিনের দাবি এবং জুলাই সনদের যে মৌলিক আকাঙ্ক্ষা, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ তা সম্পূর্ণভাবে ভূলুণ্ঠিত করেছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এই অধ্যাদেশ পুলিশ সংস্কারের নামে এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে, যা কার্যত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ও প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে এবং নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত করবে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অধ্যাদেশে পুলিশ কমিশনকে কেবল একটি ‘সংবিধিবদ্ধ সংস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; কোথাও ‘স্বাধীন’ বা ‘নিরপেক্ষ’ শব্দ ব্যবহৃত হয়নি। তার মতে, এটি কোনো অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি নয়, বরং সচেতনভাবে স্বাধীন পুলিশ কমিশনের ধারণা থেকে সরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত। একই সঙ্গে কমিশনের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যপ্রণালি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে পুলিশ সংস্কার বিষয়ে গৃহীত একমাত্র ঐকমত্যের সুপারিশের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই অধ্যাদেশের অধীনে যদি পুলিশ কমিশন গঠিত হয়, তবে সেটি স্বাধীন নজরদারি সংস্থা না হয়ে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ও প্রশাসনিক আমলাদের নিয়ন্ত্রিত একটি সরকারি কমিশনে পরিণত হবে। ফলে পুলিশের ওপর বেসামরিক তত্ত্বাবধান, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদার বাহিনী গঠন এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার যে মৌলিক লক্ষ্য—তা শুরুতেই ব্যর্থ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, অধ্যাদেশে কমিশনের সদস্য হিসেবে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা (গ্রেড-১) এবং একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে (গ্রেড-১) অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে কমিশনের ‘সদস্য সচিব’ হিসেবে কর্তৃত্বপূর্ণ অবস্থান দেওয়া হয়েছে। টিআইবির মতে, বাংলাদেশে তো নয়ই, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাতেও এটি একটি অস্বাভাবিক ও বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত, যা কমিশনের চেয়ারপার্সন ও অন্যান্য কমিশনারদের কার্যকর ক্ষমতা ও মর্যাদাকে খর্ব করবে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কমিশনের চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা তার অবসর গ্রহণের আগের পদমর্যাদার সমপর্যায়ের করে রাখা এবং কমিশনারদের পদমর্যাদা নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারকে দেওয়ার মাধ্যমে কমিশনের ওপর নির্বাহী নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা হয়েছে। এতে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়বে।
পুলিশ কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের বাছাই কমিটির প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, এই কমিটির গঠন ও কর্মপদ্ধতি পুরোপুরি আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এর ফলে কমিশন গঠনের শুরু থেকেই ক্ষমতাসীন সরকারের পূর্ণ কর্তৃত্ব নিশ্চিত হচ্ছে এবং স্বাধীনতার কোনো বাস্তব সুযোগ থাকছে না। অধ্যাদেশে সরকারকে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীকে কমিশনে প্রেষণে নিয়োগের যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও তীব্র আপত্তি জানায় টিআইবি। প্রথম তিন বছরে এই নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সংখ্যাগত সীমা না থাকায় সরকার ইচ্ছামতো সংখ্যক কর্মকর্তাকে কমিশনে যুক্ত করতে পারবে। পরবর্তী সময়ে ৩০ শতাংশ সীমা নির্ধারণ করা হলেও টিআইবি মনে করে, এই হারও সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ড. ইফতেখারুজ্জামানের ভাষায়, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ কোনোভাবেই সংস্কারমুখী নয়; বরং এটি পুরোনো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার পুনর্বাসন। জুলাই সনদের আলোকে যে স্বাধীন, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিকবান্ধব পুলিশ ব্যবস্থার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এই অধ্যাদেশ তা চূড়ান্তভাবে নস্যাৎ করেছে— এটাই টিআইবির অবস্থান।
সাইবার অধ্যাদেশের অপব্যবহারের আশঙ্কা টিআইবির
নজরদারি-নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকিতে পড়বে বাকস্বাধীনতা ও গোপনীয়তা
‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কথা বললেও বাস্তবে তা নাগরিকের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অধ্যাদেশের ধারা ও কাঠামো সরকারি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্রীভূত করছে, স্বার্থের দ্বন্দ্বের সুযোগ বাড়াচ্ছে এবং সাইবার স্পেসে সরকারের ক্ষমতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। একইসঙ্গে অধ্যাদেশটি রাষ্ট্র সংস্কারের কোনো দিকনির্দেশনা না দিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি ও স্বার্থের দ্বন্দ্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি জানান, নতুন সাইবার অধ্যাদেশের ধারা ২৬(১) ও (২)-এ সাইবার স্পেসে ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে সহিংসতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মতে, এই ধারাগুলোর অস্পষ্ট ভাষা জেল ও জরিমানার বিধান ইচ্ছামতো প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করবে। এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আইনের অস্পষ্টতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের খামখেয়ালি প্রয়োগকে উৎসাহিত করে, যা শেষ পর্যন্ত নাগরিকের বাকস্বাধীনতাকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ধারা ৫ অনুযায়ী, গঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। টিআইবির মতে, কনটেন্ট ব্লকিংয়ের মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কাঠামোর অধীনে না রেখে সরাসরি সরকারের হাতে রাখলে স্বার্থের দ্বন্দ্ব অনিবার্য হয়ে উঠবে। এতে রাজনৈতিক সুবিধা বা অস্বস্তিকর তথ্য গোপনের হাতিয়ার হিসেবে এই ক্ষমতা ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অধ্যাদেশের ধারা ১২ অনুযায়ী, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠিত হবে সরকার প্রধানের নেতৃত্বে। ২৫ সদস্যের এই কাউন্সিলে মাত্র দুজন আইসিটি বা মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ থাকার কথা বলা হয়েছে, তাও সরকার মনোনীত। টিআইবির মতে, এতে সরকারের বাইরে প্রকৃত অংশীজন, নাগরিক সমাজ কিংবা প্রযুক্তি খাতের স্বাধীন প্রতিনিধিত্ব কার্যত অনুপস্থিত থেকে যাবে। ড. ইফতেখারুজ্জামানের ভাষায়, ‘এই কাঠামো সাইবার স্পেসে সরকারের ক্ষমতাকেই আরও কেন্দ্রীভূত করবে এবং পুরো জাতিকে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকিতে ফেলবে।’
ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ নিয়েও উদ্বেগ
‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ডেটা প্রোটেকশন নীতিমালা– যেমন আইনসম্মততা, মানবাধিকার প্রাধান্য, স্বচ্ছতা, উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধতা, তথ্য ন্যূনতমীকরণ ও জবাবদিহি– এই অধ্যাদেশে উপেক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে ধারা ১৫(৪)-এ ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যয় বা প্রচেষ্টা’র অজুহাতে উপাত্ত-জিম্মাদার ও প্রক্রিয়াকারীকে তাদের দায়িত্ব থেকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের হাতে থাকায় অপব্যবহারের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
‘অপরাধ প্রতিরোধ’-এর নামে ঢালাও নজরদারি
ধারা ২৪-এ অপরাধ প্রতিরোধের নামে ব্যক্তিগত উপাত্তে ব্যাপক প্রবেশাধিকারের সুযোগ রাখা হয়েছে। সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ও সীমারেখার অনুপস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা বা জনগণের স্বার্থরক্ষার অজুহাতে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে টিআইবি। সংগঠনটির মতে, উপাত্ত সুরক্ষার নামে এমন বিধান আসলে রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে টিআইবি মনে করে, সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে দমনমূলক আইন নয়, বরং মানবাধিকারভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো প্রয়োজন। অধ্যাদেশ দুটি চূড়ান্ত করার আগে সব অংশীজনের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা এবং বিতর্কিত ধারাগুলোর মৌলিক সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাহাবুদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী (এমরান) দীর্ঘ প্রতীক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে শত বাধাঁকে উপেক্ষা করে ১২ই ফ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আগামীকাল জাতী...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্র...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শপথ নিয়েছেন মন্ত্রিষদের সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited