শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৬:১৭ পিএম, ২০২৬-০৬-১৬
কাজী হুমায়ুন কবির/ আলাউদ্দীন বেলাল :
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ফ্রি ল্যান্সিং কোর্সের প্রকল্পটি পরিচালনা করছে ইলার্নিং এন্ড আর্ণিং লিমিটেড। জানা যায়, এই প্রকল্প নিয়ে অভিযোগের যেন শেষ নেই। প্রতিষ্ঠানটি ৪৮ জেলায় ৫ম ব্যাচের প্রশিক্ষন শেষ হলে ৬৪ জেলার ৬ষ্ট ব্যাচের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ৫ম ব্যাচের প্রকল্প পরিচালনায় শিক্ষা কার্যক্রমে অনেক অনিয়ম, অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রকল্পের অধীনে প্রশিক্ষনার্থীদের দুপুরের খাবার বিতরণ ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে চরম অসন্তোষ। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের বরাবর প্রশিক্ষনার্থীরা অভিযোগ দিলেও তিনি এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে জানান। প্রশিক্ষনার্থীরা বলেন, শুধু নিম্নমানের ও কমমুল্যের খাবার বিতরন করেই আমাদের জন্য বরাদ্দের অনেক টাকা মেরে দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি। তারা বলেন, এসবের সাথে জড়িত রয়েছে যুব উন্নয়নের জেলা ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদেরও কয়েকজন।
জানা যায়, ই লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের অধিনে ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী ৫ম ব্যাচের যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছিল। যা বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলায় এই যুবদের আত্ম নির্ভরশীল করার জন্য ৬ষ্ঠ ব্যাচের ফ্রীল্যান্সিং কোর্সটি চলছে। বেকারত্ব ঘুছানোর জন্য ছাত্রছাত্রীরা অতি উৎসাহী হয়ে এই ফ্রিল্যান্সিং কোর্স সম্পন্ন করে নিজেদের আত্মনির্ভরশীল হিসাবে গড়ে তুলতে ভর্তি হয়েছে। তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে দেশ ও জাতির কল্যানে কাজ করবে। প্রশিক্ষনার্থিরা বলছে, এই ই লার্নিং এন্ড আর্নিং প্রতিষ্ঠানটি যথাযথভাবে তাদের প্রাপ্য না দিয়ে নিজেরা আখের গোছাচ্ছে। নিম্নমানের খাবার দিয়ে লূটে নিচ্ছে ছাত্রদের খাবারের টাকা ও ভুয়া এটেনডেন্স, নিয়ম বর্হিভুত অনলাইন ক্লাস করানো হয়েছে। অনলাইন ক্লাসের দিনগুলোতে তাদের খাবারের টাকা যথাযথভাবে না দেয়ার অভিযোগ যা তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। প্রশিক্ষনার্থীরা এই বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সেই অভিযোগের কপি দৈনিক আমাদের বাংলার প্রতিনিধির হাতে এসেছে। অভিযোগে উঠে এসেছে অনেক অনিয়ম ও কৌশলে অর্থ আত্নসাতের চিত্র।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সশরীরে ল্যাবে (অফলাইনে) পরিচালিত হওয়ার কথা, সেই নীতিমালা না মেনে প্রশিক্ষকরা আইন বহির্ভুত অনলাইন ক্লাস পরিচালনা ও ভুয়া উপস্থিতি দেখানো হয়। নিয়ম বহির্ভুত বহু ক্লাস অনলাইনে পরিচালিত হয়েছে এবং একই সাথে অফলাইনের উপস্থিতি দেখিয়ে ভুয়া হাজিরা (Fake Attendance) প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগে দেয়া তারিখসমূহে অনলাইন ক্লাস পরিচালিত হলেও অফলাইন উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। এছাড়াও ২৪শে মার্চ ২০২৬ থেকে ৩০শে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি, তবুও উপস্থিতি গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে মোট প্রায় 25 দিনের ক্লাস ও উপস্থিতি কার্যক্রমে গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
অভিযোগে আরো জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী একটি ব্যাচে ৩ জন মেন্টরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও দীর্ঘসময় ধরে মাত্র ২ জন মেন্টরের মাধ্যমে সীমিত আকারে ক্লাস পরিচালিত হয়েছে। অনেক সময় নির্ধারিত ক্লাস যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি, ফলে শিক্ষার্থীরা কার্যকর প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবেদককে জানান, অনলাইনে ক্লাস করার নিয়ম না থাকলেও আইন বহির্ভুত তাদেরকে অনলাইন ক্লাস করানো হয়। আবার সেই অনলাইন ক্লাসের এটেনডেন্স নেয়া হলেও তাদের খাবারের বরাদ্ধ টাকার কোন হদিস থাকেনা।
অভিযোগে আরো জানা যায়, শিক্ষার্থীদের খাবার বাবদ বরাদ্দ রয়েছে। যা যথাযথভাবে তাদেরকে দেয়া হয়না। প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে প্রতিদিন নিম্নমানের ও অনুপযুক্ত খাবার সরবরাহ করা হয়েছে । শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান বহুক্ষেত্রে অত্যন্ত নিম্নমানের ও অনুপযুক্ত ছিল, প্রশিক্ষনার্থীরা খেতে পারতো না। অনেকে এই খাবার ফেলে দিতো। যেসব প্রশিক্ষনার্থীরা অভিযোগ তুলতো তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হতো। এসব অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিলে তাদেরকে গ্রুপ থেকে বাদ দেয়া, বিভিন্ন রকম অসদাচরণ করা হতো।
এই প্রকল্পের অধিনে ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রাম, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, মাগুরার অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী সুত্রে আরো জানা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাস চলাকালীন সময়ে ৩০০টাকা খাবার বিল ও প্রতিদিনের জন্য ২০০ টাকা সম্মানি ভাতা বরাদ্দ হয়। ৩০০ টাকার মধ্যে তাদের সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, বিকালের নাস্তা দিবার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেয়া খাবারের মান নিন্মমানের, যা একজন শিক্ষার্থীর খাবারের যোগ্য নয়। অনেক শিক্ষার্থী এসব খাবার ডাষ্টবিনে ফেলে দিতে দেখা গেছে।
নেত্রকোনার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাদের জেলায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি স্বাক্ষর নেয়া হলেও কোন ক্লাস করানো হয়নি। অনলাইনে ক্লাস নেয়ার বিধান না থাকলেও তার মোট কোর্সের এক তৃতিয়াংশ ক্লাস অনলাইনে নেন। কোর্স শেষে তাদেরকে এককালীন ১৫ হাজার টাকা করে সম্মানি ভাতা দেয়ার কথা থাকলেও অনেক জেলায় ৫ম ব্যাচের ছাত্রছাত্রিরা তাদের সেই প্রাপ্য টাকা দিতে গড়িমশি করেন।
মানিকগঞ্জের প্রশিক্ষনার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, গত রোজার মাসে দুপুরের খাবারের পরিবর্তে বিকালে ইফতারী বাবদ ৮০ টাকা দেওয়া হতো যেদিন ইফতারী দেওয়া হতনা সেদিন ১৩০ টাকা নগদে দেওয়া হতো। বাকী টাকা আর দেয়া হতনা। প্রতিষ্ঠানের সাইফুল নামে এক প্রশিক্ষক এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করলে জড়িত থাকা প্রশিক্ষক সবুজকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে ট্রান্সফার করা হয়। তাঁর সহযোগী প্রশিক্ষক এনামুল হক ইমন (কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাসিন্দা) কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রশিক্ষক সাহাবুদ্দিন সবুজের পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করলে সবুজের বদলি আদেশ স্থগিত রেখে উল্টো অভিযোগকারী প্রশিক্ষক সাইফুলকে গাজীপুরে ট্রান্সফার করা হয়। শুধু তাই নয় মানিকগঞ্জের সহকারী পরিচালক ছাত্রদের বলেন, হেডঅফিস থেকে সচিব পরিদর্শনে আসলে কিংবা ভার্চুয়াল মিটিংয়ে অংশ নেওয়া সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা, যেমন নিম্নমানের চেয়ার, টেবিল, পিসি ও খাবার ইত্যাদির বিষয় প্রকাশ না করতে।
এদিকে, ময়মনসিংহ জেলার শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের দিনের বরাদ্দ খাবারের টাকা দিয়ে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখানো হলেও এখনো তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়নি বলে জানান।
অন্যদিকে, নেত্রকোনা জেলার শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের করা দিনের খাবারের টাকার হিসাব চাইলে কর্তৃপক্ষ জানায়, এই টাকা শিক্ষকদের খাতেও অন্তর্ভুক্ত।
উল্লেখ্য যে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর তথ্যে জানা যায়, ১৬ জেলায় ২০২২-২০২৪ পাইলট প্রকল্প, পরবর্তীতে বাড়িয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, একনেকে ৪৮ জেলার প্রকল্প অনুমোদন হয়। যা বাস্তবায়ন শুরু হয় ১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখ থেকে। প্রথমে ১৬ জেলার পাইলট প্রকল্পে ৪৭ কোটি টাকা অনুমোদন পায়। পরবর্তী ধাপে ৪৮ জেলায় নতুন প্রকল্প ব্যয় হিসেবে ২৯৯.৯৯ কোটি টাকা অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে ৬৪ জেলায় বিদ্যমান ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে আরও ৭৫ কোটি টাকা যোগ করে মোট ব্যয় প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটি দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে’। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি। এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক কর্ণেল গাজী মো আহছানুজ্জামান (অবসরপ্রাপ্ত) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কোন অনিয়ম পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেই। প্রতিনিয়ত আমাদের মনিটরিং টিম কাজ করছে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মোঃ মানিকহার রহমান(যুগ্মসচিব)কে এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited