শিরোনাম
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম | ০৯:২৩ পিএম, ২০২৪-১০-০৮
বন্দর নগরী বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলার “মিলন সেতু” হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাটে একটি রেল-কাম-সড়ক সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘ ৩যুগেরও বেশি সময় ধরে। ঐতিহ্যবাহী এই সেতু নিয়ে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে রাজনৈতিক নানা চলাকলা। সেই থেকে আজাব্দি ক্ষমতার পালাবদলে হরেক রকমের সরকার প্রতিনিধি এসেছে এই অঞ্চলে। সকলেই কালুর ঘাট সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা ছিলো কেবল চট্টগ্রামবাসীর জন্য প্রতারণামূলক রাজনৈতিক কৌশল। বাংলাদেশের এই সেতুকে কেন্দ্র করে রয়েছে দেশ ও দেশের মানুষের নানা ইতিহাস।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্ণদ্বার বন্দর নগরী চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর উপর অবস্থিত এই “কালুরঘাট সেতু”। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে স্থানটি “কালুর ঘাট” নামে নদী পারাপারের ভূমিকা রাখে । ১৯৩০ সালে বিট্রিশ শাসনামলে কর্ণফুলীর নদীর উপর ২৩৯ মিটার (৭৮৪ ফুট) দীর্ঘ রেল সেতুটি নির্মিত হয়। ১৯৮৯ সালে শাহ আমানত সেতু উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত নব্বই বছরের পুরনো সেতুটিই ছিল চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র সংযোগস্থল। তাই একে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বারও বলা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র। কালুরঘাটের দেশব্যাপী স্বীকৃতির কারণে এই কেন্দ্রটিও কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কালুরঘাট সেতুর পশ্চিম ও উত্তর পাড় দখলকে কেন্দ্র করে মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধ স্মরণীয়।
১৯১৪ সালে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মা ফ্রন্টের সৈন্যদের গাইড করার জন্য কর্ণফুলী নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় । ফলস্বরূপ, ১৯৩০ সালে ব্রুনিক অ্যান্ড কোম্পানি ব্রিজ বিল্ডার্স হাওড়া, একটি সেতু নির্মাণ সংস্থা, সেতুটি নির্মাণ করে। প্রাথমিকভাবে, এটি জনলিহুত এবং গোমদান্ডি রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে ইস্পাত কাঠামোর একটি ৭০০-গজ-লম্বা রেল সেতু ছিল, যা ৪ জুন ১৯৩০ সালে উদ্বোধন করা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে , বার্মার যুদ্ধে আবার মোটর গাড়ির জন্য ডেক স্থাপন করা হয়েছিল। সামনে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ডেকটি অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে, সমস্ত ধরণের যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে সেতুটিকে বর্তমান রূপ দেওয়া হয়। এই সেতুটির নির্মাণ প্রকল্প প্রস্তাবনা বারং বার উপস্থাপন করা হলেও রাজনীতির রোষানলে তা ধামাচাপা পড়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হলে তাতেও ছিলো দূর্নীতবাজদের থাবা।
অবশেষে গত ৫ই আগস্ট ২৪ইং সরকার পদত্যাগের পর দেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ব্যাপক পরিবর্তন প্রতিফলিত হয়।দেশে গঠন করা হয় নতুন অন্তর্বর্তী সরকার। ৭ই অক্টোবর ২৪ইং রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে একনেকে ৪টি প্রকল্প অনুমোদন করেন ড. ইউনুসের সরকার ।তাতে কালুরঘাটে রেল-কাম-সড়ক সেতুর প্রকল্পটিও অনুমোদন দেওয়া হয় । নেটিজেনরা বলছেন, বিগত সরকার যা পারেননি ড.ইউনুস তা করেছেন। আমরা এর সুফল কামনা করছি।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে নির্বিঘ্ন নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর বিদ্যমান পুরাতন সেতুর পাশে ১১,৫৬০.৭৭ কোটি টাকার নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতুটির প্রকল্প অনুমোদন করে। রেলপথ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রকল্প তৈরি করেছে এবং ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবান করার লক্ষ্য নির্ধারন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের (অর্থবছর ২৫) তৃতীয় ও অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
মোট ১১,৫৬০.৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৪,৪৩৫.৬২ কোটি টাকা আসবে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এবং বাকি ৭,১২৫.১৫ কোটি টাকা আসবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এবং ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটিজ (ইডিপিএফ), কোরিয়া থেকে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, কালুরঘাটে বিদ্যমান সেতুটি পুরনো ও জরাজীর্ণ হওয়ায় এ ব্যাপারে নতুন প্রকল্পের কথা বিবেচনা করা হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার কক্সবাজারকে আরও উন্নত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করতে চায়। এছাড়াও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংলগ্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্যও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ জন্য সরকার মনে করেছে, এ ক্ষেত্রে একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে নির্বিঘ্ন ও নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ তৈরি করা। রেলপথ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে পুরানো ও জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতু দিয়ে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারে না। এছাড়া মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর চালু হলে, এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি এ রুটের গুরুত্বও বাড়বে। ইতোমধ্যেই দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন চালুর মাধ্যমে ঢাকা ও কক্সবাজারের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। ফলে পর্যটন নগরীর সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান পুরাতন সেতুর পাশে কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতু নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে এবং এইভাবে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে অনুমোদিত হয়েছে।
বর্তমানে দেশের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে নির্বিঘ্নে রেল যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন সেতুটি নির্মিত হলে, এই অঞ্চলের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত কল-কারখানার পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম হবে। মূল প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৭০০ মিটার রেল-কাম-রোড ব্রিজ নির্মাণ, ৬.২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ, ২.৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪.৫৪ কিলোমিটার বাঁধ, ১১.৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক কাজ।
অতিরিক্ত ৬,৫৭৩.৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নের অনুমোদন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। প্রকল্পটির ভূ-রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। তিনি বলেন, এই বন্দরের অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ভারতের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, মাতারবাড়ী বন্দরে প্রয়োজনীয় কাজ এখনো শুরু হয়নি এবং বন্দরের উন্নয়নে রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
সভায় অনুমোদিত অন্য দুটি প্রকল্প হল- সাজেক রোড কানেক্টিভিটি, প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, ৩৭৬.৯৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত ও ৫,৯০১.২২২ টাকা দিয়ে রেসিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইইউটিডিপি)।
চট্টগ্রামবাসী দীর্ঘ দিনের এই প্রতীক্ষিত কালুঘাট সেতুটি নির্মাণ হবে শুনতে পেয়ে আনন্দে উচ্চাসিত। এর সুফল চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের মানুষ ভোগ করতে পারে তা-ই কাম্য রইলো
নিজস্ব প্রতিবেদক :: : ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে অস্থিরতা কোনোভাবেই কমছে না। গত রোববার আবারও ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যাল...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিশেষ ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত স...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেক চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল থেকে মোহাম্মদ রিপন ও...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ধোঁয়ার কুণ্ডলীর ভেতরে মানুষ খুঁজে পায় সাময়িক প্রশান্তি, কেউ খুঁজে পায় অভ্যাস, আর কেউ ক্লান্ত জীবনে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ঈদের সকাল গড়িয়ে দুপুর নামতেই দেশের অলিগলি, গ্রামের উঠোন আর শহরের মোড়ে মোড়ে জমতে থাকে কোরবানির পশুর...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited