শিরোনাম
চট্টগ্রাম ব্যুরো : | ০৬:০৩ পিএম, ২০২৬-০৫-১২
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, পক্ষপাতমূলক আচরণ ও আচরণবিধি ভঙ্গের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নানা অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন অপর দুই কর্মকর্তা। অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাখতে নমনীয়তা দেখানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা শর্ত পূরণ না করায় নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। জানা গেছে, পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগমসহ তিনজন বিএনপিপন্থী এবং দুইজন জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত। কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ ফরিদুল আলম ও এইচ এম আশরাফ উদ্দিন বুধবার (৭ মে) সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর দেওয়া এক আবেদনে মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা রৌশন আরা বেগম, নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম ও মো. সেলিম উদ্দিনকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, শুরু থেকেই সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকলেও মাত্র তিন ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ না করে পরদিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে আবেদনকারী দুই কর্মকর্তার কোনো স্বাক্ষর ছিল না। অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকাশিত তালিকায় ব্যাকডেট ব্যবহার করা হয়েছে এবং যথাযথভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া কয়েকজন প্রার্থীর নাম কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নতুন নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান তারা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মো. সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থেকে কেউ দলীয় ব্যানারে বক্তব্য দিলে তা কমিশনের নিরপেক্ষতা ও আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা শুরু থেকেই একটি গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছি। কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম আংশিক অর্থ পরিশোধের ভিত্তিতে চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল, যাতে নির্বাচন একতরফা না হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তারা বাকি টাকা পরিশোধ করেননি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ফরম বাতিল করা হয়েছে। সেলিম উদ্দিনের দাবি, বিষয়টি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, কারণ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সম্মিলিতভাবে ফরম সংগ্রহ করেছিলেন এবং পরে নিজেরাই তালিকাভুক্ত একজন প্রার্থীকে অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন। অথচ ওই প্রার্থীর নাম তাদের জমা দেওয়া তালিকায় ছিল এবং তিনি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগপন্থী একটি সংগঠনের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এখনো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ অবস্থানে আছি। বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট চেক ও নথিপত্রও জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল ও নতুন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত চট্টগ্রাম ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম। তিনি বলেন, তিনজন নির্বাচন কমিশনার জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষে হয়ে কাজ করছেন এবং আসন ভাগাভাগির প্রস্তাব না মানায় আমাদের কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রের ফি নগদে পরিশোধ করা হলেও পরে চেক–সংক্রান্ত অজুহাত তোলা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচন বর্জন ও নতুন তফসিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমাদের সমর্থিত দুইজন নির্বাচন কর্মকর্তা এখনো পদত্যাগ করে নাই। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের বিষয়ে সমিতির করণীয় নেই বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি ও জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার। তিনি বলেন, সমিতির দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেওয়া, যা ইতোমধ্যে করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা, মনোনয়ন গ্রহণ এবং বৈধতা যাচাই করেছে। কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আদালতে যেতে পারেন। নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা দেখবে নির্বাচন কমিশন ও আদালত। তিনি বলেন, সমিতি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, তবে এ বিষয়ে সভাপতির ব্যক্তিগতভাবে কোনো করণীয় নেই।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফ : সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার হালুয়া কান্দি মফিজ উদ্দিন তালুকদার স্ম...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফঃ বিগত সতেরো বছরে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সকল রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ...বিস্তারিত
মাহাদী বিন সুলতান, রাঙ্গামাটি: : সারাদেশের ন্যায় 'নৌযান শুমারি-২০২৬' সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাঙামাটিতে অংশীজনদের নিয়...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited