চট্টগ্রাম   রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১  

শিরোনাম

কয়রায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের জন্য হাহাকার

খুলনা প্রতিনিধি :    |    ০৬:৪৬ পিএম, ২০২১-০৬-০২

কয়রায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের জন্য হাহাকার

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কয়রা এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির শিকার মানুষগুলো এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। খাদ্য বিশুদ্ধ পানি ওষুধের অভাবে দুর্ভোগ বাড়ছেই। ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত রোগব্যাধি। গবাদিপশুর একমাত্র খাদ্য খড় পানিতে পচন ধরেছে, আবার কোথায়ও জোয়ারের তোড়ে ভেসে গেছে। এ কারণে গবাদিপশুর খাদ্য নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। কেউ কেউ লোনা পানির ভিতর বন্দী অবস্থায় রয়েছেন, কেউ কেউ ঘরবাড়িসহ সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। বিশেষ করে মাছের ঘের, খামার, উঠতি ফসল, ব্যবসা হারিয়ে তারা কঠিন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ফলে অনেকে ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রকাশ করে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি জানাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ভেঙে যাওয়া বাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত দেখতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান বাবু। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়রা পাউবোর ১৩/১৪-১ ও ১৩/১৪-২ নম্বর পোল্ডারের (চারদিকে নদীবেষ্টিত দ্বীপ অঞ্চল) অন্তর্ভুক্ত। এর পূর্ব পাশে সুন্দরবনের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী, দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে কপোতাক্ষ ও উত্তর পাশে রয়েছে কয়রা নদী। উপজেলা খুলনার হলেও এলাকাটি পাউবোর সাতক্ষীরার অন্তর্ভুক্ত। ২৬ মে (বুধবার) ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে কয়রা, কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর পানি জোয়ারে ৬ থেকে ৭ ফুট বৃদ্ধি পায়। এতে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১১টি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং উপচে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়। বাড়িঘরে জোয়ারের পানি ঢোকায় ২৫ হাজারের মতো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। কয়রা উপজেলার অধিকাংশ লোকজন কৃষিজীবী, সুন্দরবনে কাঠ ও গোলপাতা কেটে, মধু, মাছ ইত্যাদি সংগ্রহ করে জীবিকা অর্জন করে। কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের শাকবাড়িয়া নদীর গাতিরঘেরী বেড়িবাাঁধের ওপর আশ্রয় নেওয়া কুলসুম বেগম এক বুকে হতাশা ও কষ্ট নিয়ে বলেন, ‘ভালো কুরি (করে) বাঁধ মেরামত না করায় এট্টু (একটু) জোয়ার হুলিই (হলেই) আমরা ডুবি। ঘর ছাইরে (ছেড়ে) বাঁধে আইসে (এসে) উঠি। আমাগে খাবার নেই। লবণ পানি খাতি (খেতে) পারি না। শরীল (শরীর) গতর ভালো না। কষ্টে মানসির (মানুষের) মুখ হাড়ির তোলা (হাড়ির তলা) কুরি (করে) রাখছে’। তিনি বলেন, গাঙ বাড়ে (নদীর পাড়ে) যাগে (যাদের) বাড়ি সুন্দিবেলা (সন্ধ্যাবেলা) হলেই তাগে (তাদের) ছাবাল (ছেলে) ম্যাইয়ে (মেয়ে) লইয়ে (নিয়ে) চিন্তায় পড়ে যায়। জোয়ারে হুলি যদি আবারও ডুইবে যায়। দুই নম্বর বাগালী ইউনিয়নের বামিয়া গ্রামের কলেজ ছাত্র আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের বলেন, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ওষুধের অভাবে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছেই। বাঁধ ভেঙে এ ইউনিয়েনের গ্রামগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ এলাকা থেকে জোয়ারের পানি নেমে গেলেও অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাগুলোতে এখনও হাঁটুপানি রয়েছে। তবে, পানিবন্দি এলাকাগুলোতে নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে মারাত্মকভাবে। চরম খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের লোকজন পরিবার-পরিজন নিয়ে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের কেউ এখনও কোনো সরকারিভাবে ত্রাণ পায়নি। কিছু এনজিও বিশুদ্ধ পানি দিয়েছে। তাও আবার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। দক্ষিণ বেদকাশী এলাকার নাজমুল ইসলাম জানান, আমাদের এখানে দুই জায়গায় বেড়িবাঁধ ভেঙেছিল। এক জায়গায় রিংবাঁধ হয়ে গেছে। এক জায়গায় হয়নি। শাকবাড়িয়া নদীর গাতিরঘেরী বাঁধের ভাঙন এখনও ঠিক হয়নি। আংটিহারা বেড়িবাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামবাসী ঠিক করেছেন। আমাদের ইউনিয়নের প্রায় ৩০০ পরিবার মানুষ ওয়াপদার বেড়িবাঁধে রয়েছে। কয়েকটি পরিবার সাইক্লোন সেন্টারে রয়েছে। এলাকার মানুষ ত্রাণ নয় টেকসই বেড়িবাঁধ চাই। গোবিন্দপুর আব্দুল জব্বার মাধ‌্যমিক বিদ‌্যালয় সাইক্লোন সেন্টারে থাকা ইকবাল বলেন, মিষ্টি পানি ও খাবারের অভাব রয়েছে। অনেকবার দাবি করার পর মেডিকেল টিম এখন নিয়মিত আসছে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, মহারাজপুর, বাগালী ও উত্তর বেদকাশী তিনটা ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামে এখনও পানি রয়েছে। সবাই পানিবন্দি রয়েছেন। প্রত্যেক ইউনিয়নে দুই-আড়াই টন চাল দেওয়া হয়েছে। নগদ টাকা ও শুকনা খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। আরও ৫টন চাল এসেছে নগদ টাকাও এসেছে। যা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। বাঁধ মেরামত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়রায় ১২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ প্রকল্প একসঙ্গে তো বাস্তবায়ন হবে না। কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। কিছু চলমান রয়েছে। এছাড়া কিছু প্রকল্প প্রস্তাবিত রয়েছে।

রিটেলেড নিউজ

মন্ত্রীসভার রদবদলে মন্ত্রী হিসেবে সংযুক্ত হতে পারেন এমপি বাহার

মন্ত্রীসভার রদবদলে মন্ত্রী হিসেবে সংযুক্ত হতে পারেন এমপি বাহার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : : জান্নাতুল মাওয়া : এত উন্নয়নের পরও এখন নানাদিক বিবেচনায় বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের উত্থান এবং স্বাস্থ...বিস্তারিত


দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকার সম্পাদক নুরুল ইসলাম মারা গেছেন

দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকার সম্পাদক নুরুল ইসলাম মারা গেছেন

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বীর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, কক্সবাজারে সাংবাদিকতার পথিকৃৎ , দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকার সম্পাদক, কক্সব...বিস্তারিত


৭ই অক্টোবর থেকে জবিতে সেমিস্টার ফাইনাল 

৭ই অক্টোবর থেকে জবিতে সেমিস্টার ফাইনাল 

জবি প্রতিনিধি : স্থগিত হওয়া সেমিস্টার ফাইনাল আগামী ৭ ই অক্টোবর সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়েছেন জবি উপাচার্য অধ্যাপ...বিস্তারিত


নভেম্বর-ডিসেম্বরে হবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

নভেম্বর-ডিসেম্বরে হবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা পরবর্তী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হবে আগামী নভেম্বর মাসের শেষ দিকে বা ডিসেম্বরের শুরুর দিকে।...বিস্তারিত


চৌহালীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময়

চৌহালীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময়

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: : সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে গণম...বিস্তারিত


সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রবাসী নেতা কর্তৃক দলীয় অফিস সংস্কার

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রবাসী নেতা কর্তৃক দলীয় অফিস সংস্কার

সংকাদদাতা, সিরাজগঞ্জ: : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিএনপি'র জড়াজীর্ণ অফিসটি মেরামত, রং ও আংশিক আসবাবপত্রসহ চালে নতুন টিন লাগিয়ে ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

পার্বত্য ভিক্ষসংঘু ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ 

পার্বত্য ভিক্ষসংঘু ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ 

বিহারী চাকমা, রাঙামাটি : :   রাঙ্গামাটির লংগদু কলেজে পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও ম...বিস্তারিত


“ হিন্দুরা বাংলার দেশপ্রেমি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে আখ্যায়িত করে অশুর আর বাংলার দুশমন ক্লাইভকে আখ্যায়িত করে মা দূর্গা! ”

“ হিন্দুরা বাংলার দেশপ্রেমি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে আখ্যায়িত করে অশুর আর বাংলার দুশমন ক্লাইভকে আখ্যায়িত করে মা দূর্গা! ”

নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা :- :   নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা :- পলাশী একটি বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। এই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিল...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর