শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৪:১১ পিএম, ২০২৫-০৭-০৫
ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
আজ রবিবার ৬ ই জুলাই ১৪৪৭ হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ।আরবি শব্দ ‘মহররম’-এর আভিধানিক অর্থ হলো মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ ইত্যাদি। যেহেতু অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত আছে এ মাসকে ঘিরে, তার সঙ্গে এ মাসে সুপ্রাচীনকাল থেকেই যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল এসব কারণেই এ মাসটি ফজিলতপূর্ণ। আরবি ‘আশারা’ শব্দের অর্থ দশ। আর আশুরা মানে দশম। ইসলামি পরিভাষায়, মহররমের ১০ তারিখকে ‘আশুরা’ বলে। সৃষ্টির শুরু থেকে মহররমের ১০ তারিখে তথা আশুরার দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। মুসলিম ইতিহাসে শোক, ত্যাগ, শিক্ষা ও প্রেরণার প্রতীক হয়ে আছে। এদিনের গুরুত্ব কেবল ঐতিহাসিক ঘটনার জন্যই নয়, বরং এর মধ্যে লুকিয়ে আছে ইসলামের ন্যায় ও সত্যের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা।
> মহররম মাসের মাহাত্ম্য
মহররম শব্দের অর্থ “নিষিদ্ধ” বা “পবিত্র”। ইসলামের আগমনের পূর্বেও আরবরা এই মাসকে সম্মান করত এবং এতে যুদ্ধবিগ্রহ থেকে বিরত থাকত। ইসলাম এই মাসের মাহাত্ম্য আরও বৃদ্ধি করে দেয়। কোরআনে উল্লেখিত চারটি সম্মানিত মাসের একটি হলো মহররম। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মহররম মাসকে আল্লাহর মাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এই মাসে নফল রোজা পালনের ফজিলত বর্ণনা করেছেন।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:“রমজানের পর আল্লাহর মাস মহররমের রোজা হলো সর্বোত্তম রোজা।”(মুসলিম শরিফ) মহররম আমাদেরকে তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান জানায়। এই মাসে নেক আমল করা, দান-সদকা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উত্তম।
> আশুরার ইতিহাস
মহররম মাসের ১০ তারিখ, আশুরা দিবসটি বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, এই দিনে আল্লাহ তাআলা নবী মূসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউন ও তার বাহিনী থেকে মুক্তি দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ নবী মূসা (আ.) সেদিন রোজা রেখেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদীনায় হিজরত করার পর দেখেন, ইহুদিরা এই দিনে রোজা রাখছে। তিনি বলেন, “আমরা মূসার প্রতি তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার।” এবং তিনি নিজেও আশুরার রোজা রাখতে শুরু করেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও তা রাখার নির্দেশ দেন।
> কারবালার শোকাবহ ঘটনা
ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হয় এই আশুরার দিনে। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম, কারবালার প্রান্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাথীরা সত্যের পথে অটল থেকে শাহাদাত বরণ করেন। জালিম ইয়াজিদের অন্যায় শাসনের বিপরীতে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর এ আত্মত্যাগ চিরকাল মানবতার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবে।কারবালার ময়দান আমাদের শিক্ষা দেয়, অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করা, সত্যের পক্ষে দৃঢ় থাকা এবং ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করতেও পিছপা না হওয়া।
> আশুরার শিক্ষা ও তাৎপর্য
আশুরা আমাদের শিখায়—
* সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকতে হবে।
* অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধাচরণ করাই মুসলমানের কর্তব্য।
* ত্যাগের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।
* ধৈর্য ও আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে।
এই দিনে আমরা রোজা রাখতে পারি, দান-খয়রাত করতে পারি, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করতে পারি। কারবালার শিক্ষা কেবল শোক পালন নয়, বরং তা আমাদের জীবনের চলার পথে ন্যায়ের পক্ষে শক্তি যোগায়।
> সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা
আজকের সমাজে অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও দুর্নীতি যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন আশুরার শিক্ষা আমাদের আলোকিত করে। ইমাম হোসাইন (রা.)-এর মতো সত্যের জন্য সাহসিকতার সঙ্গে দৃঢ় থাকতে হবে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায়ের বিজয়ের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
> আশুরা উপলক্ষে বর্জনীয় আমল সমূহ
১. আশুরা উপলক্ষে নিজেদের শরীরকে চাকু, ব্লেড, ছুরি কিংবা লাঠির আঘাতে রক্তাক্তকরণ। এ বছর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাও নিজেদের শরীরকে রক্তাক্ত করার বিষয়টিকে হারাম ফতোয়া দিয়েছেন।
২. আশুরা উপলক্ষে রণ-প্রস্তুতির মহড়া প্রদর্শন;
৩. আশুরা উপলক্ষে আলোকসজ্জা প্রদর্শন;
৪. আশুরা উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্বলন করা।
৫. তাজিয়া মিছিল ও প্রদর্শনী করা। ৬. মর্সিয়া করা। ৭. মহররমে বিয়ে শাদি থেকে বিরত থাকা। ৮. আশুরা উপলক্ষে নির্ধারিত নামাজ ও দোয়া পড়া। ৯. আশুরা উপলক্ষে বিশেষ বরকত পাওয়ার আশায় ঘরে ঘরে হালুয়া-রুটি বিতরণের রুসম-রেওয়াজ পালন করা। অনেকেই গরিব-অসহায়দের খাওয়ানোর দোহাই দিয়ে এটি জায়েজ বা বৈধ করার প্রচেষ্টা চালায়। মূলতঃ তা হয়না বললেই চলে।
তারপরও আশুরা উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি বিশেষ উল্লেখিত রুসুম রেওয়াজগুলো উদযাপন করে থাকেন। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে কিংবা কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক এসবের কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।
> রোজা রাখার দিকনির্দেশনা
আশুরা উপলক্ষে রোজা রাখার ব্যাপারে রয়েছে হাদিসের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। তাছাড়া রোজা রাখার দিনক্ষণ সম্পর্কেও রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। আর তাহলো-
১. আশুরার নফল রোজা মহররম মাসের ১০ তারিখ পালন করা সুন্নাত। এ দিন রোজা পালনকারীর বিগত বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয় বলে ঘোষণা করেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
২. সাহাবায়ে কেরাম যখন নবিজিকে জানালেন যে, ইহুদিরাও এ দিন আশুরা উপলক্ষে রোজা পালন করেন। তখন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, তবে আমরা মহররমের নবমীতেও তথা ৯ তারিখও আমরা রোজা রাখব। সে হিসেবে ৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম।
তবে ইহুদিদের অনুসরণ ও অনুকরণ থেকে নিজের বিরত রাখতে অনেকে নবমীতে রোজা রাখতে না পারলে আশুরার পরের দিন রোজা পালন করে থাকেন। আর তাতে দুইটি রোজা পালন করা হয়।
সেক্ষেত্রে ৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখলে হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পালন হয়ে যায়। আর ৯ তারিখ রোজা রাখতে না পারলে ১০ ও ১১ মহররম রোজা পালনের মাধ্যমে ইহুদিদের অনুসরণ থেকে বিরত থাকা যায়। আর এ কারণে অধিকাংশ ইসলামিক স্কলাররা আশুরার পরের দিন রোজা পালন করাকে বৈধ বলে মত দিয়েছেন। তবে উত্তম হলো ৯ ও ১০ মহররম রোজা পালন করা। কেউ কেউ আবার ৯-১১ মহররম এ তিনদিন রোজা পালনের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন।তাই আমাদেরকে ইবাদত বন্দেগিতে মগ্ন হওয়া ও হজরত হুসাইন (রা.)সহ সব মুসলমানের জন্য প্রার্থনা করা, ইসলামের স্বার্থে ধৈর্যধারণ ও ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকা। তাদের মনে রাখা উচি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়, ‘ফিরে এল আজ সেই মুহররম মাহিনা। ত্যাগ চাই, মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না।’আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মহররম মাসের মর্যাদা রক্ষার তাওফিক দান করুন। আশুরার রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। বিগত এক বছরের সগিরাহ গোনাহ থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক, কলাম লেখক ও গবেষক
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যান সোসাইটি।
ইমেইল, drmazed96@gmail.com
নিজস্ব প্রতিবেদক :: : ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে অস্থিরতা কোনোভাবেই কমছে না। গত রোববার আবারও ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যাল...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিশেষ ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত স...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেক চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল থেকে মোহাম্মদ রিপন ও...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ধোঁয়ার কুণ্ডলীর ভেতরে মানুষ খুঁজে পায় সাময়িক প্রশান্তি, কেউ খুঁজে পায় অভ্যাস, আর কেউ ক্লান্ত জীবনে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ঈদের সকাল গড়িয়ে দুপুর নামতেই দেশের অলিগলি, গ্রামের উঠোন আর শহরের মোড়ে মোড়ে জমতে থাকে কোরবানির পশুর...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited