শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৫:৩৫ পিএম, ২০২৫-১২-২৩
আবুল কাসেম হায়দার :
দেশে গরিব লোকের সংখ্যা বেড়েছে। দারিদ্র্য দূর করার জন্য আমাদের সরকারকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু আমাদের উদ্যোগ ও চেষ্টা অনেক কম রয়েছে।
২০২৫ সালে বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গরিব মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৬০ লাখ। দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে উলটো পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক বলছে, দেশে চার বছর ধরে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। সংস্থাটির অনুমিত হিসাব, ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার হতে পারে ২১ শতাংশের কিছু বেশি।
দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে থাকে। তারা উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো বিভিন্ন আঘাতের কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২২ সালে সংখ্যাটি ছিল ৬ কোটি ২০ লাখ। দেশে দারিদ্র্যের হার হিসাব করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সংস্থাটির খানা আয়-ব্যয় জরিপে এ তথ্য উঠে আসে। সর্বশেষ খানা আয়-ব্যয় জরিপ করা হয়েছিল ২০২২ সালে। তখন সার্বিক দারিদ্র্য হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবটি মূলত প্রাক্কলন, যা করা হয়েছে ‘মাইক্রো-সিমুলেশন মডেল’ নামের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে। শ্রমবাজারের গতিশীলতা, প্রবাসী আয় এবং সরকারের ভর্তুকি ব্যয়কে ভিত্তি ধরে মাইক্রো-সিমুলেশন মডেলে দারিদ্র্যের হার পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বাংলাদেশে বিগত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে উল্লেখযোগ্য হারে দারিদ্র্য কমতে শুরু করে (১৯৯১-৯২ সালে ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ)। ২০০০ সালের পর থেকে তা আরও গতি পায়। বাংলাদেশ দারিদ্র্য কমানোর দিক থেকে বিশ্বে সুনাম কুড়িয়েছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ পেছন দিকে হাঁটছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে মাসিক মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৫০ টাকা হলে নিু দারিদ্র্যসীমা এবং ৩ হাজার ৮৩২ টাকা হলে মোট দারিদ্র্যসীমা ধরা হয়।
দারিদ্র্য কেন বাড়ছে : সংস্থাটি বলছে, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ২০ লাখ কর্মসংস্থান কম হয়েছে। চাকরির বাজার সংকুচিত হওয়ার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি পড়েছে নারী ও তরুণদের ওপর। ২০১৬ সালের পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধরনে পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, এ সময়ে সামগ্রিকভাবে বছরে প্রায় ১৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার ৬৩ শতাংশই হয়েছে কৃষি খাতে। কৃষিতে কর্মসংস্থানে আয় কম। শহরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি অনেকটা স্থবির ছিল।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা গরিবদের চেয়ে ধনীরা বেশি পায়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালে সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের মাত্র অর্ধেক এসব সামাজিক সহায়তা পেয়েছে। অথচ সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের ৩৫ শতাংশও এসব সুবিধা পেয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে সামাজিক খাতে সরকারি ব্যয় বাড়িয়েছে ঠিকই, তবে উপকারভোগী নির্বাচনের দুর্বলতা এসব ব্যয়ের প্রত্যাশিত প্রভাবকে অনেকটাই খর্ব করে দিচ্ছে। ভর্তুকি দেওয়ার পদ্ধতিগত সমস্যার কারণে তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারই এর সুবিধা বেশি পায়। ফলে দারিদ্র্য হ্রাস ও বৈষম্য কমানোর অগ্রগতি সীমিত হয়ে পড়ে।
দারিদ্র্য কমার গতি বাড়াতে চারটি সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক : এক. উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থানের ভিত্তি মজবুত করা। দুই. দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ বিস্তৃত করা। তিন. গ্রামের দরিদ্রদের জন্য কার্যকর বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা; এবং চার. সমতাভিত্তিক ও দক্ষ রাজস্বনীতির মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা বাড়ানো।
দারিদ্র্য সংখ্যা কমানোর উপায় :
১. কর্মসংস্থান বাড়ানোর মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। বেকারত্ব কমলেই গরিব মানুষের সংখ্যা কমে আসবে। ব্যাংকের সুদের হার এখন ১৫-১৬ শতাংশ। গ্যাসের মূল্য অধিক এবং সরবরাহ সুনিশ্চিত নয়। বিদ্যুতের মূল্য এখন অনেক বেশি। ফলে নতুন শিল্প গড়ে উঠছে না। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে দেশি বিনিয়োগকারীদের আগেই এগিয়ে নিয়ে আসতে হবে। এজন্য নীতি সহযোগিতা ও সুদের হার ৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে।
২. গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সহযোগিতা সরকারকে বাড়াতে হবে। হালকা কর্মসূচির মাধ্যমে গরিব মানুষকে কাজ দিতে হবে। গরিব মানুষের পরিবারকে শিক্ষার আওতায় আনতে হবে। দ্বীপ ও চরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা ছাড়া দারিদ্র্য দূর করার বিকল্প কোনো উপায় নেই।
৩. আমাদের বাজারব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে। দরিদ্র মানুষের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নিশ্চিত ও ন্যায্যতা দিতে হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে এবং চাঁদাবাজদের বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। আইনের শাসনকে সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে।
৪. আমাদের রাজস্বনীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। সবার জন্য সমতাভিত্তিক রাজস্বনীতি প্রণয়ন করতে হবে। বেকার ভাতা ও বয়স্ক ভাতা বাড়াতে হবে। গ্রামভিত্তিক শিক্ষা স্থাপনে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি দুর্নীতিকে ‘না’ বলতে হবে। দুর্নীতি, ঘুস ও চাঁদাবাজি নির্মূলের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্য হার কমিয়ে আনতে হবে।
আবুল কাসেম হায়দার : প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, সাবেক সহসভাপতি এফবিসিসিআই
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ইতিহাসে কিছু মানুষ জন্ম নেন একটি দেশকে বদলে দিতে, আবার কিছু মানুষ তাঁদের জীবন ও আদর্শ দিয়ে সমগ্র ব...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মে. জে. (অব.) এইচআরএম রোকন উদ্দিন প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরে একটি নীরব যন্ত্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মেজর (অব.) মনজুর কাদের সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছিলেন, ‘চীনকে ঘুমাতে দাও; যখন সে জেগে উঠবে, সে বিশ্বকে কা...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কাজী আব্দুল্লাহ আল বোরহান রিজভী বাংলাদেশ গত এক দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং সামাজ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্ত...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আবদুল্লাহ মজুমদার : শহরের ব্যস্ত মোড়ে দাঁড়ানো ক্ষুদ্র দোকানি, গ্রামের হতাশ তরুণ কিংবা চাকরির আশায়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited