শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৮:১৮ পিএম, ২০২৬-০৫-১৪
আবদুল্লাহ মজুমদার :
শহরের ব্যস্ত মোড়ে দাঁড়ানো ক্ষুদ্র দোকানি, গ্রামের হতাশ তরুণ কিংবা চাকরির আশায় প্রতিদিন ঘুরে বেড়ানো শিক্ষিত যুবক—সবাই যেন আজ এক অদৃশ্য চাপের ভেতর বসবাস করছে। কোথাও চাঁদার ভয়, কোথাও কর্মহীনতার দীর্ঘশ্বাস, কোথাও আবার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের অন্ধকার। দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই সংকটগুলো এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রীয় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ ক্রমেই ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে।
চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে সাধারণত একক কোনো কারণ কাজ করে না। দুর্বল আইন প্রয়োগ, প্রশাসনিক শিথিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়—সব মিলিয়ে এ ধরনের অপরাধের বিস্তারের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অপরাধীরা স্থানীয় প্রভাব কিংবা রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, ক্ষোভ এবং অনাস্থা বাড়তে থাকে। ব্যবসায়ী, পরিবহন খাত কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যখন নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার হন, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বেকারত্ব দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সংকট। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও যখন উপযুক্ত কাজের সুযোগ তৈরি হয় না, তখন সমাজে এক ধরনের মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। এই হতাশা শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই প্রভাব ফেলে না; বরং সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেক সময় মানুষকে ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা অপরাধপ্রবণতার ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।
বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও সহায়তা কর্মসূচি—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, ভর্তুকিভিত্তিক খাদ্য সহায়তা কিংবা অন্যান্য কার্ডভিত্তিক সুবিধা—নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি করছে। নিঃসন্দেহে এসব উদ্যোগ মানবিক সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বাস্তবতা হলো, এসব কর্মসূচি মূলত সাময়িক সহায়তা প্রদান করে; বেকারত্বের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পারে না। কারণ মানুষ দীর্ঘদিন সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না, বরং মর্যাদার সঙ্গে আয় করার সুযোগ চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের প্রধান পথ হলো টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি। শিল্পায়নের প্রসার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতকে শক্তিশালী করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার বিস্তার এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বিশেষ করে তরুণদের জন্য বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি। শুধু ডিগ্রিনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নই বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেলে শুধু বেকারত্বই কমবে না; বরং সামাজিক অপরাধপ্রবণতাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। কারণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মানুষকে স্থিতিশীলতা দেয়, আত্মবিশ্বাস তৈরি করে এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়ায়। বিপরীতে দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব হতাশা, ক্ষোভ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার জন্ম দেয়, যা অপরাধপ্রবণতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক নীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই; বরং এই দুই বাস্তবতাকে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
একটি সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে—একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়, যখন তার নাগরিকেরা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়। চাঁদাবাজির ভয়, বেকারত্বের হতাশা এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার মাঝেও যদি রাষ্ট্র সুশাসন, স্বচ্ছতা ও মানবিক পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেয়, তবে সমাজে আস্থা ফিরে আসতে পারে। আর সেই আস্থাই হতে পারে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণের ভিত্তি—যেখানে মানুষ ভয় নিয়ে নয়, আশার আলোকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখতে পারে।
লেখক: সভাপতি, সেভ দ্য রিভার্স বাংলাদেশ সোসাইটি , চট্টগ্রাম।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ইতিহাসে কিছু মানুষ জন্ম নেন একটি দেশকে বদলে দিতে, আবার কিছু মানুষ তাঁদের জীবন ও আদর্শ দিয়ে সমগ্র ব...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মে. জে. (অব.) এইচআরএম রোকন উদ্দিন প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরে একটি নীরব যন্ত্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মেজর (অব.) মনজুর কাদের সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছিলেন, ‘চীনকে ঘুমাতে দাও; যখন সে জেগে উঠবে, সে বিশ্বকে কা...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কাজী আব্দুল্লাহ আল বোরহান রিজভী বাংলাদেশ গত এক দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং সামাজ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্ত...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : ড. রাধেশ্যাম সরকার বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারায় নির্মাণখাত একটি অপরিহার্য বাস্তবতা। শহর থ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited