শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৫:৩৮ পিএম, ২০২৫-১২-২৩
ডা. মনিরুজ্জামান :
জীবন চলার পথে সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ থাকবেই। তবে সমস্যায় পড়লে করণীয় বুঝতে পারা এবং বিশ্বাসের সঙ্গে তা মোকাবিলা করতে পারলেই মেলে কাঙ্ক্ষিত ফল। একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, সমস্যায় পড়ে দুশ্চিন্তা করলে আমাদের জীবনে অতিরিক্ত একটি ঘণ্টা যেমন যোগ হয় না, তেমনই দুশ্চিন্তা কখনো আমাদের ভালো কিছু দিতে পারে না। তাই সমাধান চাইলে সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে টেনশন বা দুশ্চিন্তাকে আগে দূরে সরাতে হবে। আর টেনশন বা দুশ্চিন্তা দূর করতে মেডিটেশনের ওপর ভরসা করছেন মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক কিংবা সমাজ বিজ্ঞানীরা।
বিশিষ্ট গবেষক ডা. রিচার্ড ডেভিডসন গবেষণা করে দেখেছেন, যেসব মানুষ নেতিবাচক চিন্তা ও দুশ্চিন্তায় অভ্যস্ত, তাদের ব্রেনের ডানদিকের প্রি-ফ্রন্টাল করটেক্স বেশি কাজ করে। যারা বেশি উদ্যমী, আগ্রহী, সুখী, আত্মতৃপ্ত তাদের বাঁ দিকের প্রি-ফ্রন্টাল করটেক্স বেশি কাজ করে। মেডিটেশন ব্রেনের কাজকে ডান দিকের এ দুঃখ, কষ্ট, হতাশা, নেতিচিন্তা থেকে সরিয়ে বাঁ দিকের ইতিবাচক, সুখী, আত্মবিশ্বাস, উদ্যমী অংশে নিয়ে যায়। এ থেকে প্রমাণিত হয় মেডিটেশন মানুষকে দুশ্চিন্তার বদলে প্রশান্ত, আত্মতৃপ্ত, সুখী ও সুচিন্তায় অভ্যস্ত করে তোলে।
আমেরিকাতে স্ট্রেস বা টেনশনের ওপর প্রচুর গবেষণা হয়েছে। ৩০ বছর ধরে এসব গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রফেসর ডা. হার্বার্ট বেনসন। গবেষণা রিপোর্টে টেনশনের ফলে সৃষ্ট রোগের দীর্ঘ তালিকায় উঠে এসেছে হৃদরোগ, মাইগ্রেন, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা, নার্ভাসনেস, মিসক্যারেজ, ভয়-আতঙ্ক, বুকে ব্যথা, ক্লান্তি, অবসাদ, ত্বকের রোগ, মনোযোগের সমস্যা, পেটের পীড়া, গ্যাস্ট্রিক, আমাশয়, আইবিএস, ওজন হ্রাস/বৃদ্ধি, পিঠে ব্যথা, ক্যানসার, বিষণ্নতা-অবসাদ, হাত-পায়ের তালু ঘামা, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াসহ আরও অনেক কিছু।
পবিত্র কুরআনের সূরা ইনশিরাহ-এর ৫-৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মনে রেখো, প্রতিটি কষ্টের ভেতরেই রয়েছে স্বস্তি! নিঃসন্দেহে প্রতিটি কষ্টের ভেতরেই রয়েছে স্বস্তি!’ অর্থাৎ প্রতিটি সমস্যার ভেতরেই রয়েছে তার সমাধান, প্রতিটি সমস্যার ভেতরেই রয়েছে নতুন সম্ভাবনা। আসলে সমস্যায় পড়লে সাধারণত তাৎক্ষণিক সমাধান পেতে আমরা অস্থির হয়ে পড়ি। উত্তেজনা, অস্থিরতা যত বাড়ে সমস্যা তখন আরও প্রকট হতে শুরু করে। সুতা জট পাকাতে শুরু করলে হুলুস্থুল করে এদিক-সেদিক টেনে জট ছাড়াতে গেলে দেখা যায় আরও বেশি জট পাকাচ্ছে। অথচ জট ছাড়াতে যেখানে জটের সৃষ্টি হয়েছে, সেখানেই মনোযোগ দিতে হবে। সেখান থেকেই খোলার চেষ্টা করতে হবে। আমাদের জীবনে যত সমস্যা, প্রতিটি সমস্যার সমাধান তার গোড়াতেই থাকে। আমরা সমস্যার উৎপত্তিতে খোঁজ না করে ডালপালাতে খুঁজতে থাকি, আশপাশের কান-কথাকে পাত্তা দিই, নেতিবাচক ও হতাশাব্যঞ্জক কথা শুনে সমাধানের পথ হারিয়ে ফেলি। শুরু হয় টেনশন, একের পর এক বিপদের কল্পনা। মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। ভালো কিছু নিয়ে ভাবার আর উপায় থাকে না। এজন্যই প্রয়োজন মেডিটেশন।
মেডিটেশন কী করে? মনটাকে পরিষ্কার করে। নেতিচিন্তা, অহেতুক বিপদ কল্পনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। শুদ্ধ অন্তর, সুখী মন তখন সমাধানের সূত্রকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়। নতুন ধারণা, নতুন উপলব্ধি, নতুন সত্য, নতুন পথ সে খুঁজে পায়। মন তাকে বাতলে দেয় মুক্তির পথ, সমস্যা থেকে বেরোনোর পথ। মন আশাবাদী হয়, উপায় আছে এবং অবশ্যই আছে। সান্ত্বনা এবং এ আশাই তখন আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। তাই সমস্যা সৃষ্টি হলে টেনশন নয়; তাকে স্বাগত জানানো শিখতে হবে। কারণ একটি নতুন সমস্যা সৃষ্টি হওয়া মানে সম্ভাবনার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। একজন ধ্যানী কখনো সমস্যার বৃত্তে আটকে পড়েন না বরং তিনি সমস্যা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। করণীয় ঠিক করতে পারেন।
যুগে যুগে মহামানবেরা মেডিটেশন করতেন, মুনি, ঋষি, ওলি, বুজুর্গরা মেডিটেশন করতেন। ধ্যানের গভীরে থাকাকালেই তারা সত্য উপলব্ধি করতে পেরেছেন। স্রষ্টাকে পাওয়ার জন্য, সত্যজ্ঞান লাভের জন্য যে তাগিদ তাদের মনে সৃষ্টি হয়েছিল, ধ্যানস্থ হয়েই তারা তাদের প্রশ্নের উত্তর লাভ করেছিলেন।
ভালো ভাবনাও সমাধানের পথে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রে ‘সমস্যা’ শব্দটি যত কম বলা যায়, সে সচেতনতাও সমাধানের পথকে সহজ করে। বিপদে পড়েছি, অসুবিধায় আছি, কঠিন সময় যাচ্ছে, জটিল পরিস্থিতি, বড়ই সংকট, বিরাট ঝামেলাজাতীয় সব নেতিবাচক শব্দমালা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। অর্থাৎ ভালো ভাবনা ভালো বলার অনুরণন সৃষ্টি করতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। অতএব, সমস্যা এলে যত অস্থির হব, সমস্যা তত তালগোল পাকিয়ে যাবে, টেনশন সৃষ্টি হবে। সমস্যা তখন সংকটে রূপ নেবে, তিল থেকে তাল হবে। তাই মেডিটেশনে যত নিয়মিত হব, সমস্যার জট তত খুলতে থাকবে। সমাধান ধরা দেবে আমাদের হাতের মুঠোয়। আমরা পাব সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। লাভ করব টেনশনমুক্ত সফল জীবন। সবাইকে বিশ্ব মেডিটেশন দিবসের শুভেচ্ছা।
ডা. মনিরুজ্জামান : এক্সপার্ট ইন লাইফস্টাইল মডিফিকেশন, কো-অর্ডিনেটর, কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাব
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ইতিহাসে কিছু মানুষ জন্ম নেন একটি দেশকে বদলে দিতে, আবার কিছু মানুষ তাঁদের জীবন ও আদর্শ দিয়ে সমগ্র ব...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মে. জে. (অব.) এইচআরএম রোকন উদ্দিন প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরে একটি নীরব যন্ত্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মেজর (অব.) মনজুর কাদের সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছিলেন, ‘চীনকে ঘুমাতে দাও; যখন সে জেগে উঠবে, সে বিশ্বকে কা...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কাজী আব্দুল্লাহ আল বোরহান রিজভী বাংলাদেশ গত এক দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং সামাজ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্ত...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আবদুল্লাহ মজুমদার : শহরের ব্যস্ত মোড়ে দাঁড়ানো ক্ষুদ্র দোকানি, গ্রামের হতাশ তরুণ কিংবা চাকরির আশায়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited