শিরোনাম
চট্টগ্রাম ব্যুরো : | ০৭:০৬ পিএম, ২০২৬-০৬-০৩
কর্ণফুলীর বুকে ভেসে আসা নৌবহরের কলরবে একসময় মুখর থাকতো চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ। নদী ও খালনির্ভর এই বাণিজ্যকেন্দ্র থেকে দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিদিন শত শত টন পণ্য নৌপথে পরিবহন হতো। সময়ের পরিবর্তন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নৌপথের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় সেই ব্যস্ততা এখন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ বাজার দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। চাক্তাই, রাজাখালী ও বদরশাহ খাল ঘিরে গড়ে ওঠে এই বাণিজ্যিক অঞ্চল। নদীপথের সুবিধা কাজে লাগিয়ে শত শত বছর ধরে এখান থেকে দেশের বিভিন্ন দ্বীপ ও উপকূলীয় এলাকায় খাদ্যপণ্য, চাল, ডাল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানেও কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালী, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ এবং নোয়াখালীর হাতিয়াসহ কয়েকটি অঞ্চলে নৌপথে পণ্য পাঠানো হয়। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের তুলনায় সেই বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তারা চাক্তাই খালের মোহনায় নির্মিত স্লুইস গেটের সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, বড় আকারের ট্রলার ও নৌযান সরাসরি খালে প্রবেশ করতে না পারায় পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ধাপ যুক্ত হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের বাড়তি শ্রম ও ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। একইসঙ্গে খালের নাব্যতা কমে যাওয়াও নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় মাঝি ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় চাক্তাই খালের বিভিন্ন ঘাটে সারিবদ্ধভাবে নৌকা ও সাম্পান ভিড়তো। জোয়ারের সময় পণ্যবোঝাই নৌযান গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতো। এখন সেই দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়। খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নৌযান চলাচল আগের মতো সহজ নয়। বন্দরনগরীর এই ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্রে এখনও কয়েকশ শ্রমিক নৌযানে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ করেন। তাদের অনেকেই জানান, কাজের চাপ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সড়কপথে দ্রুত ও সহজে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও এখন ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ওপর বেশি নির্ভরশীল। চালের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বলছেন, একসময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধান এসে চট্টগ্রামে প্রক্রিয়াজাত হতো। পরে সেই চাল আবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হতো। কিন্তু জেলায় জেলায় আধুনিক রাইস মিল গড়ে ওঠায় চট্টগ্রামকেন্দ্রিক ব্যবসার পরিধি সংকুচিত হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, নৌপথ এখনো পুরোপুরি অচল হয়ে যায়নি। বিশেষ করে দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে টিকে আছে। তবে খালের নাব্যতা রক্ষা, স্লুইস গেটের প্রবেশপথ উন্নয়ন এবং নৌযান চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে এই ঐতিহ্যবাহী নৌবাণিজ্যে নতুন গতি ফিরতে পারে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ইতিহাস শুধু একটি বাজারের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের নদীনির্ভর বাণিজ্য সংস্কৃতিরও প্রতিচ্ছবি। সময়ের পরিবর্তনে এর গুরুত্ব কমে এলেও এখনও কর্ণফুলীর জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মিশে আছে শত বছরের বাণিজ্যিক ঐতিহ্যের স্মৃতি। সেই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক : পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর এবং জানুয়ারি মাসে বর্ধিত বেতন দেওয়ার বà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও তরুণ প্রজন্মের রাষ্ট্র মেরামতের আকাঙ্ক্ষà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলায় তথ্য গোপন করে নিম্ন আদালতের একই আদেশের বিপরীতে তিনবার à¦...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ মিজানুর রহমান, কুড়িগ্রাম :: সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত কুড়িগ্রাম জেà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্à¦...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ নাজিম উদ্দীন হাটহাজারী : ৩/১১/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৮ই কার্তিক) রোজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited