শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৭:৩৩ পিএম, ২০২৬-০৭-০৫
শিবুকান্তি দাশ :
দেশে এমনিতেই শ্রম বাজার সংকুচিত হয়ে আসছে। তার উপর যেন গজব নেমে আসতেছে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের উপর। পাঁচ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের উপর পড়বে কালো ছায়া। স্বাধীনতার পর থেকে তিলে তিলে গড়ে উঠা এই শিল্প খ্যাত হয় ‘ভাসমান লোহার খনি’ হিসেবে। আজকে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিযোগ হচ্ছে এ শিল্পে। কিন্তু জাহাজ শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের কোন নিরাপত্তা নেই। তারা আজ হতাশ। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ- উৎকন্ঠা। কিন্তু এই শিল্পকে দেখার যে প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃ প্রক্রিয়াজাত করণ বোড’ তারা যেন কিছুই জানেন না। কর্মকর্তারা মুখ খুলতেও যেন ভয় পায়। ডিজি থেকে নিচের কর্মকর্তারা শিল্প মন্ত্রী ও সচিবের দোহায় দিয়ে তাদের দায়িত্বকে হালাল করে যাচ্ছেন। টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃ প্রক্রিয়াজাত করণ বোড’র মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার ‘দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’ ঢাকা ব্যুারো প্রধানকে জানান, আজ সোমবার শিল্প মন্ত্রী বোর্ড মিটিং এর জন্য চট্টগ্রাম আসবেন। তার সাথে শিল্পের সব বিষয়ে কথা বলা হবে। বিশেষ করে এ শিল্পের উন্নয়ন ও ব্যাবসায়ীদের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মিটিং এর পর তিনি বিস্তারিত জানাবেন।
এ বিষয়ে আরো জানতে বাংলাদেশ হাজাজ পুণঃ প্রক্রিয়াজাত করণ বোর্ড’র পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মজিদ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নতুন আসছি। মূলত আমি শিল্প মন্ত্রনালয়ের আইন শাখায় কাজ করি। ব্যাবসায়ীদের উপর হামলা,চাঁদাবাজির ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আমাদের ডিজি ভালো বলতে পারবেন।
বোর্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাবসায়িদের উপর চাঁদাবাজি কিংবা তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচিব স্যারকে জানানো হয়েছে। সচিব স্যার যে নির্দেশনা দেবেন সেভাবে বোর্ড কাজ করবে।
আজকে শিপ ব্রেকিং বা জাহাজভাঙা শিল্প হুমকির মুখে। এই শিল্পে বিনিয়োগকৃত কোটি কোটি টাকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে গ্রিন ইয়ার্ড তৈরি করা হলেও একের পর এক শিপইয়ার্ডে হামলা, মালামালবাহী যানবাহনে বাধা, রাস্তা বন্ধ, লুটপাট, কর্মকর্তাদের মারধর এবং চাঁদা দাবির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নানা অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনায় অনেক ইয়ার্ড ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো নতুন করে টিকে থাকার সংগ্রাম করছে সংঘবদ্ধ চক্রের অপতৎপরতায় সেগুলো আদৌ চালু রাখা যাবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিকেরা থানা পুলিশ থেকে শুরু করে নানা দুয়ারে ধর্ণা দিয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড গ্রিন ইয়ার্ড তৈরির চ্যালেঞ্জের পর নতুন আপদ চাঁদাবাজি, হামলা উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ চান ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘাটের দশকে আকস্মিক ও অপরিকল্পিতভাবে সীতাকু-ের দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হয়েছিল শিপ ব্রেকিং শিল্প। ১৯৬০ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে এমভি সী আল ফাইন নামে বৃহৎ একটি জাহাজ সীতাকু- উপজেলার ফৌজদারহাট সমুদ্র উপকূলের ডাঙ্গায় উঠে আসে। অনেক চেষ্টা করেও জাহাজটিকে সাগরে ভাসানো সম্ভব হয়নি। পরে মালিকপক্ষ জাহাজটি নিলামে বিক্রি করে দেন। স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী জাহাজটি কিনে নিয়ে কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করেন। পরবর্তীতে জাহাজটি ভেঙে বিক্রি করা হয়। স্বাধীনতার পর কয়েকটি জাহাজ এনে ভেঙে বিক্রি করা হয়। ১৯৭২ সাল থেকে টুকটাক জাহাজ আমদানি শুরু হলেও ১৯৭৯ সালে এসে ব্যবসাটি জমজমাট হয়। আশির দশকে সীতাকু-ের ফৌজদারহাট উপকূলীয় এলাকায় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড তৈরি হতে থাকে। পরবর্তীতে নানা ধাপে শিপ ব্রেকিং শিল্পের বিকাশ ঘটতে থাকে। ফৌজদারহাট থেকে কুমিরা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার উপকূল এলাকায় এর বিস্তার ঘটে। দেড়শটির বেশি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড গড়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পুরনো জাহাজ কিনে এনে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করার মাধ্যমে এই শিল্পের সাথে জড়িত হন হাজার হাজার মানুষ। একসময় প্রায় দুই লাখ শ্রমিক এই শিল্পে কাজ করতে থাকেন। পরোক্ষভাবে যুক্ত হন আরো প্রায় তিন লাখ মানুষ। বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার ট্যক্স প্রদান ছাড়াও দেশের অর্থনীতিতে এই শিল্প বড় ভূমিকা রাখতে থাকে। বিভিন্ন ব্যাংক হাজার হাজার কোটি টাকা এই শিল্পে বিনিয়োগ করে। শুধুমাত্র শিপ ব্রেকিং শিল্পকে টার্গেট করে সীতাকু-ের দক্ষিণাঞ্চলে দেশের সবগুলো তফশিলী ব্যাংক আলাদা শাখা স্থাপন করে কার্যক্রম চালাতে থাকে। শিপ ব্রেকিং শিল্প খ্যাত হয় ভাসমান লোহার খনি হিসেবে। জাহাজ কেটে টুকরো করে লৌহা হিসেবে বিক্রি করা মূল ব্যবসা হলেও এর সাথে ফার্নিচার, ক্রোকারিজ, ইলেকট্রিক সামগ্রী, নানা রকমের বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সামগ্রীর বিশাল বাজার উড়ে ওঠে। বলা হয়, একটি জাহাজ মানে ছোট্ট একটি দেশ। একটি দেশের নাগরিকদের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই থাকে এসব জাহাজে। লোহা ছাড়াও মূল্যবান তামা, পিতল, স্টেনলেস স্টিল, নানারকম ফার্নিচার, রাডার, টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, কম্পিউটার, ক্রোকারিজ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, টেলিভিশন, সুই-সুতো মিলে হরেক রকমের পণ্য থাকে একেকটি জাহাজে। এসব জাহাজে যা পাওয়া যায় সবকিছুর চাহিদা রয়েছে দেশে-বিদেশে। শিপ ব্রেকিংয়ের কল্যাণে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ দ্রব্য সহজে পাওয়া যায়, যা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় উচ্চ মূল্যে। ফৌজদারহাট থেকে কুমিরা পর্যন্ত এলাকা সরগরম থাকত উপরে উল্লেখিত বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসায়ীদের পদভারে এলাকা সরগরম সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের ধনাঢ্য অনেক ব্যবসায়ী শিপ ব্রেকিং শিল্পের সাথে জড়িত হন। বিভিন্ন ব্যাংক এগিয়ে এসে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। এই শিল্প থেকে প্রাপ্ত লোহা দিয়ে রি রোলিং মিলগুলোতে রড তৈরি করা হয়। মেল্টিং স্ক্র্যাপ দিয়েও তৈরি হয় রড। দেশের রডের চাহিদার একটি বড় অংশের যোগান শিপ বেকিং সেক্টর থেকে দেওয়া হচ্ছিল।
কিন্তু সময় পাল্টাতে শুরু করেছে। নানা সংকটে পড়ে অনেক শিপ ব্রেকিভবিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। ঋণখেলাপি হয়ে দেশ ছেড়েছেন কেউ কেউ বাণিজ্যের অবস্থা নাজুক হওয়ায় অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। অন্তত ইয়ার্ড তৈরি হলেও সাম্প্রতিক হিসেবে চালু শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের সংখ্যা কয়েকটি। এর মাঝে গ্রিন শিপ ইয়ার্ড গড়ে তোলার বাধ্যবাধকতার কারণে ইয়ার্ডকে এক থেকে দুইশ কোটি টাকা বাড়তি বিনিয়োগ করতে হয়। এ বিনিয়োগের ধকল সামলাতে না পেরে অনেক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড গত দুই-তিন বছর কোনো জাহাজ আনতে পারেনি। একসময় সীতাকু-ের ইয়ার্ডগুলোতে গড়ে ২৫টি পর্যন্ত জাহাজ আসত। এখন জাহাজের আকাল চলছে। শিপ ব্রেকিং সেক্টরের বেহাল এই অবস্থার মাঝে নতুন আপদ হিসেবে দেখা চাঁদাবাজি। সাম্প্রতিক সময়ে সীতাকু-ের অন্তত সাতটি শিপইয়ার্ডে চাঁদা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইয়ার্ডগুলোর মধে বিওবি শিপ রিসাইক্লার্স, বারাকা শিপব্রেকিং, সাগরিকা শিপব্রেকিং, জনতা শি ফোরস্টার, মেহেরুন শিপব্রেকিং এবং টি আর শিপব্রেকিং ইয়ার্ড। অভিযোগ অনুযায়ী, বারআউলিয়া এলাকায় অবস্থিত বিওবি শিপ রিসাইক্লন চক্র মালিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পথ রোধ করে জিম্মি করার চেষ্টা করে। সময় তাদের বহনকারী গাড়িতে হামলা, কর্মকর্তাদের মারার এবং চাঁদা দাবী করা হয়। সাগরিকা ও বারাকা শিপ ইয়ার্ডে যাতায়াতের পথে টিনের বেড়া দিয়ে করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে আরেকটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ জনতা, ফোরস্টার ও মেহেরুন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে মালামালবাহী যানবাহন চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। শতাধিক দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে প্রবেশ করে মালামাল লুটপাট করে, কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ইয়ার্ড দখলের চেষ্টা করে। একজন শিপ ব্রেকিং বলেছেন, একশ কোটির বেশি টাকা ব্যয় করে আমাদের ইয়ার্ডকে গ্রিন রূপান্তর করেছি। টাকার যোগান কমে যাওয়ায় ছোট একটি জাহাজ এনে কাট করছি। কিন্তু দাগী একজন সন্ত্রাসীর কারণে আমাদের ইয়ার্ডে গাড়ি প্রবেশ করতে পারছে না। সে টিন দিয়ে আমাদের ইয়ার্ডেও রাস্তা ঘেরাও করে দিয়েছে। ওই সন্ত্রাসী কিরিচ নিয়ে রাস্তায় অবস্থানের পাশাপাশি ক্রমাগত হুমকি-ধমকি দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরপর একাধিক শিপইয়ার্ডে এ ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুন সীতাকু-ের বানুর বাজার এলাকায় বিএসবিআরএর জরুরি সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির নবনিযুক্ত প্রশাসক ও উপসচিব আবু সাফায়েত মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম। সভায় জাহাজ ভাঙা শিল্পে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসকের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল আইনশৃঙ্খলা শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কর্মকর্তাদে সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। প্রয়োজনে শিল্পাঞ্চলে নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited