শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ১২:১৭ পিএম, ২০২৬-০৭-১৮
এস.এফ.এম.মোস্তাঈন বিল্লাহ:
একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক সভ্যতার চূড়ান্ত বিকাশের যুগে দাঁড়িয়ে আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মানুষ কি সত্যিই মানুষ আছে, নাকি কেবল মানব আকৃতির এক স্বার্থপর সত্তায় পরিণত হয়েছে? চারদিকে উন্নয়নের জয়গান, প্রযুক্তির বিস্ময় আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান যতই সমৃদ্ধ হোক না কেন, মানবিকতার শূন্যতা আজ সমাজকে নীরবে গ্রাস করছে। যেন মানুষের ভিড়ে মানুষ আছে, কিন্তু মানবতা নেই।
একসময় বিপদে-আপদে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াত। প্রতিবেশীর কান্না নিজের হৃদয়কে নাড়া দিত। অসহায়ের আর্তনাদ বিবেককে জাগ্রত করত। অথচ আজকের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সড়কে দুর্ঘটনায় রক্তাক্ত মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, আর আশপাশের অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়ানোর পরিবর্তে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত। ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না, বৃদ্ধ পিতামাতার অসহায়ত্ব কিংবা দুর্যোগকবলিত মানুষের আহাজারি যেন আর মানুষের বিবেককে স্পর্শ করে না।
বর্তমান সমাজে অর্থ, ক্ষমতা ও ব্যক্তিস্বার্থের নির্মম প্রতিযোগিতায় মানবতা আজ সবচেয়ে বড় পরাজিত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। সত্য বলার অপরাধে মানুষ হুমকির মুখে পড়ছে, অথচ সমাজের একটি অংশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। দুর্নীতি, অনিয়ম, শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পরিবর্তে অনেকে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য অন্যায়ের সঙ্গেই আপস করছে। ফলে মানবিক মূল্যবোধ আজ স্বার্থের কাছে জিম্মি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, পাহাড় ধস কিংবা বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের করুণ চিত্র বারবার আমাদের সামনে আসে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাহায্যের চেয়ে প্রচারণার আগ্রহ বেশি।
মানবিক সহায়তাও কখনো কখনো লোক দেখানো কর্মসূচিতে পরিণত হয়। অসহায় মানুষের চোখের জল যেখানে বিবেককে নাড়া দেওয়ার কথা, সেখানে তা অনেকের কাছে কেবল একটি সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়াও মানবতার অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। বৃদ্ধ বাবা-মা আজ অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের কাছে বোঝা, আত্মীয়তার সম্পর্কগুলো স্বার্থের দেয়ালে আবদ্ধ।ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ত্যাগের মতো মানবিক গুণাবলি ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। ফলে সমাজে বাড়ছে একাকীত্ব, হতাশা এবং মূল্যবোধের সংকট।
তবে এখনও মানবতার প্রদীপ সম্পূর্ণ নিভে যায়নি। প্রতিকূলতার মাঝেও কিছু মানুষ নীরবে মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। কেউ অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছেন, কেউ বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ আবার নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করছেন। তারাই প্রমাণ করেন মানবতা এখনও বেঁচে আছে, যদিও তা সংখ্যায় কম।
সচেতন মহলের মতে, মানবিক মূল্যবোধ পুনর্জাগরণের জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে কেবল শিক্ষিত নয়, মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। কারণ মানবতা ছাড়া জ্ঞান, সম্পদ ও ক্ষমতা কখনোই একটি সভ্য সমাজ নির্মাণ করতে পারে না।
আজ সময় এসেছে নিজেকে প্রশ্ন করার আমরা কি সত্যিই মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব পালন করছি? নাকি কেবল স্বার্থের মোহে মানবতার কবর রচনা করছি? মনে রাখতে হবে, মানবতা হারিয়ে গেলে সভ্যতার সব অর্জনই অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই আসুন, বিবেককে জাগ্রত করি, অসহায়ের পাশে দাঁড়াই এবং মানুষ মানুষের জন্য এই চিরন্তন সত্যকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করি।
মানবতার পুনর্জাগরণই হতে পারে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের একমাত্র পথ।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মাহমুদুর রহমান মাসুদ, ভালুকা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় 'ময়মনসিংহ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মাহমুদুর রহমান মাসুদ, ভালুকা প্রতিনিধি: ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতন দিবসের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন ...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটির কেন্দ্রীয় কবরস্থানে জায়গা সংকটের অভিযোগ, সম্প্রসারণ ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের প্রস্ত...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সিরাজগঞ্জ ব্যুরো : সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউণ্ডেশন সিরাজগঞ্জের উদ্যোগে জুলাই গণঅ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বৃদ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের চরকাটগিরাই এলাকায় অবস্থ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited