চট্টগ্রাম   সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১  

শিরোনাম

খুলনায় বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত

বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকছে মানুষ ছুটছে আশ্রয় কেন্দ্রে

খুলনা প্রতিনিধি :    |    ০৬:২২ পিএম, ২০২১-০৫-২৬

খুলনায় বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব এবং ভরা পূর্ণিমায় নদ-নদীতে জোয়ারে পানি স্বাভাবিকের থেকে প্রায় দুই ফিট বৃদ্ধি পেয়েছে। জোয়ারের পানির তেড়ে ভাঙছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। ইতোমধ্যে কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ উপচে লোকালয়ে নোনা পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয়রা বাঁধ ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও তা বেশিরভাগ স্থানে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ছুটছে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ ধেয়ে আসার খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ‘আম্পান’ বিধ্বস্ত খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলবাসী। দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছাসহ নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধের বাইরে ও বাঁধের কাছাকাছির বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে জলোচ্ছ্বাস ও বাঁধ ভাঙার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে কয়রা উপজেলার আংটিহারা, মঠবাড়ি লঞ্চঘাটের পশ্চিমপাশ ও একই এলাকার মোসলেম সরদারের বাড়ি সংলগ্ন ক্লোজার উপচে পানি প্রবেশ করেছে লোকালয়ে। অপরদিকে গোবরা ঘাটাখালী, কয়রা সদরের তহশীল অফিস সংলগ্ন বেড়িবাঁধ, দশহালিয়া, কাটকাটা, কাশিরহাটখোলা, দাকোপের নলিয়ান ও আন্ধারমানিক এলাকা, পাইকগাছার গড়ইখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ব্যাপক নাজুক অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় মানুষ বস্তা এবং মাটি দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মহারাজপুর গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, দশালিয়ায় পাউবোর বেড়িবাঁধ ১০টি স্থানে প্রায় ১শ’ হাত জায়গায় প্রবল জোয়ারের পানিতে ভেঙে গেছে। এতে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। ডুবে গেছে মাছের ঘের, বিশাল ফসলি জমি। এ এলাকার ৩১/৩২টি পরিবারের মধ্যে ৭/৮টি পরিবারের বসত বাড়ির মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। শত চেষ্টা করেও বেড়িবাঁধ রক্ষা করা যায়নি।
কয়রার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন সমাজকল্যাণ যুব সংস্থার সভাপতি মো. আবু সাঈদ খান বলেন, কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আংটিহারা এলাকার শ্রীপদ মন্ডলের বাড়ির সামনে দুপুরের জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। পূর্ণিমার প্রভাবে কপোতাক্ষ নদের পানি বেড়ে বেড়িবাঁধ উপচেও অনেক স্থানে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। এ নিয়ে এলাকার হাজারো মানুষ আতঙ্কে আছেন।
স্থায়ীদের অভিযোগ, বার বার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হলেও টেকসই বাঁধ নির্মাণে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। কখনো কখনো দায়সারা কাজ হয়েছে। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা মানুষের কষ্টের কথা কখনোই বিবেচনায় নেয়নি। যে কারণে আম্পানের এক বছর পার হতে না হতেই আবার ‘ইয়াস’র প্রভাবে পানিতে ডুবতে হচ্ছে।
দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, মঙ্গলবার দুপুরের জোয়ারের প্রবল ¯্রােতে ইউনিয়নের ২০ নম্বর পোল্ডারের চকরি-বকরি প্রতিরক্ষা বাঁধের আগের স্থান থেকে পুনরায় ভেঙে যায়। এতে বেশ কিছু এলাকা তলিয়ে যায়। পরবর্তীসময়ে ভাটার সময় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এলাকাবাসী ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত করে। এই এলাকার ৫ কিলোমিটারসহ ইউনিয়নের ১৩ কিলোমিটার বাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। লতা ইউপি চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন মন্ডল জানান, অত্র ইউনিয়নে প্রায় ২ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান গাজী জানান, সোলাদানা ইউনিয়নের ২৩ নম্বর পোল্ডারের পাটকেল পোতা, আমুড়কাটা স্লুইচ গেট, নুনিয়াপাড়া, বাসাখালী ও পতন, বেতবুনিয়া ও সোলাদানার আবাসন এলাকার আধা কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।
পাইকগাছার ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন জানান, লস্কর ইউনিয়নের ১০/১২নং পোল্ডারের ভরেঙ্গা স্লুইচ গেট, বাইনতলা গেট, আলমতলা গেট, আলমতলা দক্ষিণ বিলের গেট জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীরের ঘের সংলগ্ন এলাকার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া বাইনতলা খেয়াঘাট থেকে সানা বাড়ি পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ গোলদার জানান, রাড়–লী ইউনিয়নের ৯ নম্বর পোল্ডারের মালোপাড়া ও ভড়ভুড়িয়ার গেট এলাকার ১ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে দুপুরের কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানি উপচে মালোপাড়া তলিয়ে যায়।
খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ১ ও ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, খুলনাঞ্চলের নদ-নদীতে পানির স্বাভাবিক মাত্রা থাকে ৩ মিটারের কাছাকাছি। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট জলোচ্ছাস এবং পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে আরও দুই ফুট বেশি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত বেড়ি বাঁধগুলো ৪ মিটার পানির উচ্চতা ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম। তবে কোথাও কোথাও বাঁধের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তা অনেক নিচু অবস্থায় রয়েছে। ফলে  বিভিন্ন এলাকায় পানি বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। তবে পানির প্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, আগামী দুই দিনে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে। এর সাথে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস হলে পানি আটকানো সম্ভব হবে না।
কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির জানান, সোমবার রাত থেকে কয়রায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নদীতে ভাটা শুরু হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আবারো জোয়ার শুরু হয়। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ কয়রা উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারে জলোচ্ছ্বসের আতঙ্ক বিরাজ করছে। লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছে। এলাকায় মাইকিং করাসহ স্বেচ্ছাসেবীরা লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করছে।
খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দ্দার জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১১৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৫ লাখ মানুষ অবস্থান করতে পারবে। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) আওতায় ৫ হাজার ৩২০ জন ও রেড ক্রিসেন্টের ৫০জন কর্মী দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা করবে। ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেয়া হলে উপকূলীয় এলাকার মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে শুষ্ক খাবার, অর্থ, চাল-ডাল প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে সুন্দরবনের হরিণগুলোও : ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর কারণে সুন্দরবনে এর প্রভাব টের পেয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সুন্দরবনের দুবলার চর, হিরণ পয়েন্ট, পক্ষীর চরসহ বিভিন্ন স্থানে আছড়ে পড়তে থাকে সাগরের বড় বড় ঢেউ। ঢেউয়ের আঘাতে বিপর্যস্ত হতে শুরু থাকে সুন্দরবন। বনের বিভিন্ন স্থানে থাকা বন বিভাগের অফিসগুলোর নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। দুলবার চরসহ আশপাশের মিষ্টি পানির পুকুরগুলো লোনা পানিতে তলিয়ে গেছে। হরিণসহ কিছু বন্যপ্রাণী দুবলার চরের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
সুন্দরবনের দুবলা জেলে পল্লীর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) তানভীর হাসান ইমরান জানান, পূর্ণিমার জোয়ার আর পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দুই মিলে আরও শক্তিশালী হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। দুবলা ফরেস্ট অফিসের অফিস, স্টাফ ব্যারাক, মসজিদ, রান্নাঘর আগেই পানিতে ডুবেছে।
তানভীর হাসান আরও জানান, একমাত্র মিষ্টি পানির উৎস পুকুরও লবণ পানিতে ডুবে গেছে। হরিণের কিছু ছোট বাচ্চা আশ্রয় নিয়েছে পুকুর পাড়ে। বাকিগুলোর কী অবস্থা জানা নেই। এতটা সার্ভাইভাল অবস্থায় টিকে থাকাটাই জরুরি। দুর্যোগের সময় শুধু মানুষ নয়, বন্যপ্রাণীও অসহায়।

রিটেলেড নিউজ

দুর্নীতিবাজ মাফিয়া সিন্ডিকেটের  বিরুদ্ধে লাভ বাংলাদেশ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে : মিজানুর রহমান চৌধুরী

দুর্নীতিবাজ মাফিয়া সিন্ডিকেটের  বিরুদ্ধে লাভ বাংলাদেশ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে : মিজানুর রহমান চৌধুরী

চট্টগ্রাম ব্যুরো : : দেশপ্রেমিক মানবাধিকার সংগঠন লাভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যােগে  ১৬ সেপ্টে...বিস্তারিত


অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ৭ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ৭ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের সব অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদেশের কপি হাতে পাওয়ার স...বিস্তারিত


১০টি দৈনিক পত্রিকার ঘোষণাপত্র বাতিল 

১০টি দৈনিক পত্রিকার ঘোষণাপত্র বাতিল 

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত নয়টি দৈনিক বাংলা পত্রিকা ও একটি ইংরেজি ...বিস্তারিত


আমতলীতে অর্ধ শতাধিত সেতু ঝুকিপূর্ণ

আমতলীতে অর্ধ শতাধিত সেতু ঝুকিপূর্ণ

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা : : বরগুনার আমতলীতে ঝুকিপূর্ণ প্রায় অর্ধ শতাধিক আয়রণ সেতু রয়েছে। এই সেতুগুলো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝু...বিস্তারিত


সিরাজগঞ্জে করোনা উপসর্গ থাকা রোগীদের ঔষধ পত্র বিতরণ 

সিরাজগঞ্জে করোনা উপসর্গ থাকা রোগীদের ঔষধ পত্র বিতরণ 

সংকাদদাতা, সিরাজগঞ্জ: : সিরাজগঞ্জে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে স্থাপিত করোনা হেল্প সেন্টারে করোনা উপসর্গ থাকা রোগীদের সোমবার (...বিস্তারিত


প্রতিবন্ধীরা দেশের বোঝা নয়  সম্পদ

প্রতিবন্ধীরা দেশের বোঝা নয়  সম্পদ

সংকাদদাতা, সিরাজগঞ্জ: : প্রতিবন্ধীরা দেশের বোঝা নয় দেশের সম্পদ   বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার প্রতিবন্ধীদের সম্পদে গড়ে তো...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

পার্বত্য ভিক্ষসংঘু ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ 

পার্বত্য ভিক্ষসংঘু ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ 

বিহারী চাকমা, রাঙামাটি : :   রাঙ্গামাটির লংগদু কলেজে পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও ম...বিস্তারিত


“ হিন্দুরা বাংলার দেশপ্রেমি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে আখ্যায়িত করে অশুর আর বাংলার দুশমন ক্লাইভকে আখ্যায়িত করে মা দূর্গা! ”

“ হিন্দুরা বাংলার দেশপ্রেমি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে আখ্যায়িত করে অশুর আর বাংলার দুশমন ক্লাইভকে আখ্যায়িত করে মা দূর্গা! ”

নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা :- :   নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা :- পলাশী একটি বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। এই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিল...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর