বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬  

শিরোনাম

নারীর সম্ভ্রম রক্ষায় যে যুদ্ধ হয়েছিল

আমাদের বাংলা ডেস্ক :    |    ০৫:৫৭ পিএম, ২০২১-১২-০৯

নারীর সম্ভ্রম রক্ষায় যে যুদ্ধ হয়েছিল

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

ইসলাম আগমনের আগে জাহিলিয়াতের অন্ধকার যুগে নারীরা ছিল চরম অবহেলিত, ঘৃণিত। তখন তাদের বেঁচে থাকার অধিকারটুকু পর্যন্ত হরণ করা হতো।  কন্যাসন্তানকে জীবিত মাটিতে পুঁতে ফেলার নির্মম ঘটনাও ঘটেছিল সে সময়। ইসলাম এসে এই বর্বরতা রুখে দিয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে আয়াত অবতীর্ণ করে জাহিলি যুগের উগ্র অবিশ্বাসীদের এই বর্বরতার সমালোচনা করে মুসলমানদের নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেছেন। কোরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের কাউকে যখন কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। তাকে যে সংবাদ দেওয়া হয়, তার থেকে বাঁচতে সে নিজ সম্প্রদায় থেকে আত্মগোপন করে; সে চিন্তা করে যে হীনতা সত্ত্বেও সে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে দেবে। সাবধান! তারা যা সিদ্ধান্ত করে, তা কতই না নিকৃষ্ট।’ (সুরা : নাহল, আয়াত ৫৮-৫৯)

শুধু তাই নয়, ইসলামপূর্ব জাহিলি যুগে মানুষ এতটাই নিচে নেমে গিয়েছিল যে তারা তাদের নারীদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করাত। তাদের উত্তরাধিকার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করত। এমনকি স্বীয় উপার্জিত সম্পদে তাদের মালিকানা ছিল না, উপার্জন করে আনলেও স্বামীরা লুট করে নিত। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে আয়াত নাজিল করে তাদের সম্পদের অধিকারও নিশ্চিত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।’ (সুরা : নিসা, আয়াত ৩২)

ইসলাম নারীদের অধিকারকে এতটাই গুরুত্ব দেয় যে ইসলামের ইতিহাসে নারীর সম্ভ্রম রক্ষায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার ইতিহাস পাওয়া যায়। যে যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল ‘বনু কাইনুকা’ নামের একটি গোত্রের সঙ্গে।

বনু কাইনুকা ছিল ইহুদিদের তিনটি গোত্রের মধ্যে সর্বাধিক হিংসুটে একটি গোত্র। তারা সবাই মদিনায় অবস্থান করত এবং তাদের মহল্লাটি তাদের নামেই কথিত ছিল। পেশার দিকে থেকে তারা ছিল স্বর্ণকার, কর্মকার ও পাত্র নির্মাতা।

আবু আওন থেকে ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, একদিন জনৈকা মুসলিম নারী বনুু কাইনুকা গোত্রের বাজারে দুধ বিক্রি করে বিশেষ কোনো প্রয়োজনে এক ইহুদি স্বর্ণকারের কাছে গিয়ে বসে পড়েন। কয়েকজন দুর্বৃত্ত ইহুদি তাঁর মুখের নেকাব খোলানোর অপচেষ্টা করে, তাতে ওই নারী অস্বীকৃতি জানান। ওই স্বর্ণকার গোপনে মুসলিম নারীটির (অগোচরে) পরিহিত বস্ত্রের এক প্রান্ত তার পিঠের ওপরে গিঁট দিয়ে দেয়, তিনি তা বুঝতেই পারলেন না। ফলে তিনি উঠতে গিয়ে বিবস্ত্র হয়ে পড়েন। এ ভদ্র মহিলাকে বিবস্ত্র অবস্থায় প্রত্যক্ষ করে নরপিশাচের দল হো হো করে হাততালি দিতে থাকল। মহিলাটি ক্ষোভে ও লজ্জায় মৃতপ্রায় হয়ে আর্তনাদ করতে লাগলেন। তা শুনে জনৈক (প্রতিবাদী) মুসলিম ওই স্বর্ণকারকে আক্রমণ করে হত্যা করেন। প্রত্যুত্তরে ইহুদিরা মুসলিম লোকটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে হত্যা করে।

এরপর নিহত মুসলিমটির পরিবারবর্গ চিৎকার করে ইহুদিদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের কাছে ফরিয়াদ করেন। এর ফলে মুসলিম ও বনু কাইনুকার ইহুদিদের মধ্যে সংঘাত বাধে।

এ ঘটনার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল (তিনি এর আগে তাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করেছিলেন)। তিনি মদিনার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আবু লুবাবাহ ইবনে আবদুল মুনজির (রা.)-এর ওপর অর্পণ করে স্বয়ং হামজাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.)-এর হাতে মুসলিমদের পতাকা প্রদান করে আল্লাহর সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বনু কাইনুকা গোত্রের দিকে ধাবিত হন। ইহুদিরা তাঁদের দেখামাত্র দুর্গের মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে দুর্গের দ্বারগুলো ভালোভাবে বন্ধ করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠিনভাবে তাদের দুর্গ অবরোধ করেন। এই দিনটি ছিল শুক্রবার, হিজরি দ্বিতীয় সনের শাওয়াল মাসের ১৫ তারিখ। ১৫ দিন পর্যন্ত অর্থাৎ জুলকাদার নতুন চাঁদ উদয় হওয়া অবধি অবরোধ অব্যাহত থাকে। তারপর আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের অন্তরে ভীতি ও সন্ত্রস্তভাব সৃষ্টি করলেন এবং তাঁর নীতি এটাই যে, যখন তিনি কোনো সম্প্রদায়কে পরাজিত ও লাঞ্ছিত করার ইচ্ছা করেন তখন তিনি তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করে থাকেন। অবশেষে বনু কাইনুকা গোত্র আত্মসমর্পণ করল এবং বলল যে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের জান-মাল, সন্তান-সন্ততি এবং নারীদের ব্যাপারে যা ফায়সালা করবেন তারা তা মেনে নেবে। তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশক্রমে তাদের সবাইকে বন্দি করে নেওয়া হয়। (ইবনে হিশাম : ২/৪৭, আর রাহিকুল মাখতুম [বাংলা] : ২৪০-২৪২) 

রিটেলেড নিউজ

যে ঘরে নেমে আসে আল্লাহর রহমত

যে ঘরে নেমে আসে আল্লাহর রহমত

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায় তার নিজের পরিবারের সঙ্গে আচরণে। বাইরের মানুষের কাছে ভদ্র ও হাস...বিস্তারিত


কিয়ামতের দিন দাঁড়িপাল্লায় সবচেয়ে ভারী আমল কোনটি?

কিয়ামতের দিন দাঁড়িপাল্লায় সবচেয়ে ভারী আমল কোনটি?

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মানুষ সাধারণত মনে করে, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে ভারী আমল হবে বেশি বেশি নফল নামাজ, রোজা বা দান-সদকা। নিঃ...বিস্তারিত


জীবনের বড় লক্ষ্য কি শুধু দুনিয়া, নাকি আখিরাতের সফলতা?

জীবনের বড় লক্ষ্য কি শুধু দুনিয়া, নাকি আখিরাতের সফলতা?

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জীবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিক্ষক। এখানে প্রতিটি সম্পর্ক একটি পাঠ, প্রতিটি কষ্ট একটি উপলব্ধি, প্রতি...বিস্তারিত


অসাধারণ মানুষের গুণাবলি ও জীবনাদর্শ

অসাধারণ মানুষের গুণাবলি ও জীবনাদর্শ

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মানুষের সমাজে কেউ ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা খ্যাতির কারণে সম্মানিত হয়, আবার কেউ নীরবে ও অপ্রকাশ্যে জীবন য...বিস্তারিত


মহানবী (সা.)-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা

মহানবী (সা.)-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে অনন্য সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী করেছিলেন। তিনি তাঁকে এমন অনেক মর্যাদা দান কর...বিস্তারিত


লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত এখন সৌদি আরবের আরাফার ময়দান

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত এখন সৌদি আরবের আরাফার ময়দান

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত এখন সৌদি আরবের আরাফার ময়দান। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অ...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর