শিরোনাম
সাজেদা হক : | ০৭:৫৯ পিএম, ২০২৪-০৯-০২
নজরুল ইসলাম (ছদ্মনাম), কাজ করেন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে।ঢাকা শহরে মাথা গোজার ঠাঁই করার পরিকল্পনা করছিলেন দীর্ঘদিন। হঠাৎ তাঁর নজরে আসে মার্স পার্ক লিমিটেডের মুক্তধারা সিটির একটি বিজ্ঞাপন চিত্র। বিজ্ঞাপনে নিশ্চয়তা দিচ্ছে নিষ্কন্টক জমিতে স্বপ্নের আবাসের। যোগাযোগ করলেন বিজ্ঞাপনে দেয়া নাম্বারে। দীর্ঘ মেয়াদী কিস্তিতে কিনলেন পাঁচ কাঠার একটি প্লট। এটা ২০১৭ সালের কথা। এখন চলে ২০২৪। জমি বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিলো ২০২৩ এ। কিন্তু প্রতিবার টালবাহানা করছেন। জমিও বুঝে দিচ্ছেন না, টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।
মনোয়ারা সুলতানা (ছদ্মনাম), কাজ করেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। ঢাকা নিজের একখন্ড জমি কিনে সন্তানদের জন স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। প্রতিবেশীর মুথে শোনেন মুক্তধারা সিটির কথা। বুকিং দেন ৫ কাঠার প্লট । তিনি পরিশোধ করেন এককালীন টাকা। কিন্তু জমির রেজিস্ট্রেশন হলেও আজ অবধি জমি দখলে নিতে পারেন নি মনোয়ারা সুলতানা।
শুধু নজরুল কিংবা মনোয়ারাই নয়, বাহারি বিজ্ঞাপন আর সেলসম্যানদের চটকদার কথায় মুক্তধারা সিটির প্রায় ৪০০ প্লট বিক্রি। রাস্তার দু্’পাশের ১২০০ বিঘা জমি নিজেদের দাবি করে চলছে বালি ভরাটের কাজ। আর তাদের এই চটকদার বিজ্ঞাপন, বাহারী স্বপ্নের ফাঁদে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। যারা স্বপ্ন দেখছিলেন নিজের স্থায়ী ঠিকানার। একখন্ড জমিতে নিজের বাড়ি করার স্বপ্নে যারা বিভোর সেইসব স্বপ্নবাজ মানুষকেই টার্গেট করছে মুক্তধারা সিটির কর্তা ব্যক্তিরা।
কেরানীগঞ্জে ছোট-বড় ৭০ থেকে ৮০টি আবাসিক প্রকল্প আছে। এসবের একটিরও অনুমোদন নেই। এরই মধ্যে ১৫টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে রাজউক। এক পাশে বুড়িগঙ্গা, আরেক দিকে ধলেশ্বরী। এই দুই নদীর মাঝের এলাকা কেরানীগঞ্জ। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নসহ মূল ঢাকা শহরের কাছে হওয়ায় এলাকাটির জমির চাহিদা বাড়ছে। ফলে সেখানে নজর পড়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের। এরই মধ্যে নামে-বেনামে গড়ে তোলা হয়েছে ৭০-৮০টি আবাসিক প্রকল্প, যার একটিরও অনুমোদন নেই। ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলাটি রাজউকের আওতাধীন। এই এলাকায় বেসরকারিভাবে কোনো আবাসিক প্রকল্প নিতে হলে রাজউক থেকে নকশাসহ অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা অনুযায়ী এই অনুমোদন নিতে হয়। অথচ অনুমোদনহীন প্রকল্পের মধ্যে ১৫টির প্লট বিক্রি বন্ধে প্রকল্প মালিক ও স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এই ১৫টি প্রকল্পের একটি হলো মুক্তধারা সিটি।
সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আবাসিক প্রকল্পে প্লট কেনার পর সেখানে বৈধভাবে বাড়ি করতে রাজউক থেকে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র ও নির্মাণ অনুমোদন নিতে হবে। তবে আবাসিক প্রকল্পের অনুমোদন না থাকায় প্রকল্প এলাকায় ভবন নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া যাবে না। এতে একজন গ্রাহক লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেও বৈধ উপায়ে বাড়ি করতে পারবেন না।
আপাতত তুলনামূলকভাবে বড় ১৫টিকে বালু দিয়ে প্রকল্প এলাকা ভরাট ও প্লট বিক্রির বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে বলা হয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো পশ্চিম ঘটারচর এলাকার মিলিনিয়াম সিটি; তারানগর এলাকার মধু সিটি, স্বপ্ন নিবাস ও সাফা গ্রিন সিটি; দেউলী মৌজার ম্যাক্স ওয়েল ওয়েস্টার্ন সিটি; আটি বাজার এলাকার আটি মডেল টাউন, সোপান দক্ষিণা সিটি, ঢাকা মডার্ন সিটি লিমিটেড; রোহিতপুরের সবুজ ছায়া গ্রুপ, কালাকান্দির সানওয়ে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেড; মাওয়া রোডের পাশে অ্যাপোলো হাউজিং লিমিটেড; কোন্দা ইউনিয়নের বসতভিটা ডেভেলপমেন্ট; ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রোডের পাশে নিউ ভিশন এবং তেঘরিয়া ইউনিয়নের সাউথ টাউন আবাসিক প্রকল্প।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজউক চিঠি দেওয়ার পরও আবাসিক প্রকল্পে প্লট বিক্রিসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলছে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মুক্তধারা সিটির বিপণন বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা আজাদ বলেন, তাঁদের প্লট বিক্রি অব্যাহত আছে। রাজউকের চিঠি পেয়েছেন কি না, জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
রাজউকের নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও তারা কিভাবে এখনও প্লট বিক্রি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আবাসিক প্রকল্পে প্লট কেনার পর সেখানে বৈধভাবে বাড়ি করতে রাজউক থেকে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র ও নির্মাণ অনুমোদন নিতে হবে। তবে আবাসিক প্রকল্পের অনুমোদন না থাকায় প্রকল্প এলাকায় ভবন নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া যাবে না। এতে একজন গ্রাহক লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেও বৈধ উপায়ে বাড়ি করতে পারবেন না। তারপরও মুক্তধারা সিটি প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন- এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুক্তধারা সিটির কর্মকর্তা মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোন কথা নাই। আপনারা যা খুশি তা লিখতে পারেন। (চলবে)
আবদুল্লাহ মজুমদার : : জাতীয় পরিচয়পত্র একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান দলিল। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাগর...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ভাত আমাদের খুব আপন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় তার উপস্থিতি এত স্বাভাবিক যে, ভাত নিয়ে আলাদা করে ভা...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার রাত গভীর। চারপাশ নিস্তব্ধ। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। ঘুম ভেঙে দরজা খুললেন মা। ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট। ঢাকার মাটিতে থেমে গেল কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের পথচলা। যে কবি একদিন অন্যায়ের ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : কোনো কোনো কণ্ঠ শুধু গান গায় না, একটি সময়কে ধারণ করে। আবদুর রহমান বয়াতীর কণ্ঠ ছিল তেমনই—মাটির গন্ধ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ফল প্রকাশের পর মোবাইলের পর্দায় ভেসে ওঠে কয়েকটি সংখ্যা। কারও জন্য সেই সংখ্যা আনন্দের, কারও জন্য হতা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited