শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩:৫৫ পিএম, ২০২৫-১১-২৬
সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ (বুধবার) পিলখানায় বিজিবির ৫ ব্যাটালিয়ন মাঠে আয়োজিত নির্বাচন কেন্দ্রিক মক এক্সারসাইজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, আজ এখানে খুব সুন্দর একটি মহড়া দেখলাম। এটি পুরোপুরি আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতি বিবেচনায় করা হয়েছে। সাধারণত নির্বাচনে যেসব ধরনের ঘটনা ঘটে বা যে ভাবে নির্বাচন পরিচালিত হয়, সব কনসিভেবল ডাইমেনশন মাথায় রেখে বিজিবি প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ডিউটি নিয়মিত আসে না। ৪ থেকে ৫ বছর পরপর আসে বলে বাহিনীগুলোকে বিশেষ ট্রেনিং নিতে হয়। বিজিবির নিয়মিত কাজ সীমান্ত এলাকায়। পুলিশ ১৩০টি সেন্টারে নির্বাচনভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আনসার-বিডিবির মহড়া দেখেছি। তারাও প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। বিজিবির এ অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যাতে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। সে জন্য সদস্যদের তৈরি করছে।
সিইসি বলেন, প্রতিটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সদস্যদের নিয়ে দায়িত্বশীলতার সাথে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা আশা করি এই প্রশিক্ষণ নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ প্রভাব ফেলবে। আমি আশা করি সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিক এবং ১৩ কোটি ভোটার মিলে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অর্জন করবো।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমি বলবো না যে পরিস্থিতি পারফেক্ট লেভেলে চলে গেছে। তবে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। আপনারা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন, রাস্তায় চলাচল করতে পারছেন। ভোটের তারিখ আসতে আসতে এটা আরও উন্নতি হবে। ৩০ তারিখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আবারও বৈঠক হবে এবং সেদিনই ডেপ্লয়মেন্ট স্ট্র্যাটেজি চূড়ান্ত করা হবে। পুলিশ চাইলে একজন দুজন মোতায়েন করা যায়। কিন্তু এভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা যায় না। সেনাবাহিনী কন্টিনজেন্ট আকারে কাজ করে। তাই তাদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত যথাযথ বিবেচনার পর নেওয়া হবে।
একটি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণার প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “যারা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে, তাদের ব্যাপারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিক, ভোটার, দেশবাসী—সবাই মিলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিহত করতে হবে।”
সরকারের উপদেষ্টাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে তিনি বলেন, এটা সরকারের নীতি-নির্ধারণী বিষয়। নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ঝুঁকি অ্যাসেসমেন্ট করেছি। রেড, ইয়েলো ও গ্রিন—এই তিন জোনে ভাগ করে বাহিনী মোতায়ন করা হবে।
এ দিকে বিজিবি জানিয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে বিজিবির ১২১০ প্লাটুন সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। সন্দীপ, হাতিয়া ও কুতুবদিয়া ব্যতীত সকল উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। সীমান্তবর্তী ১১৫টি উপজেলার মধ্যে ৬০টি উপজেলায় বিজিবি সদস্যরা এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে।
মক এক্সারসাইজ অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কড়াইলের আগুনে নিঃস্ব হাজারও পরিবার
প্রাণে বাঁচলেও রক্ষা পায়নি ‘সুতা পরিমাণ’ সম্পদও
কড়াইল বস্তির আগুনে অন্তত দেড় হাজার ঘরবাড়ি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুনের সময় কোনোভাবে প্রাণ বাঁচাতে পারলেও সহস্রাধিক পরিবার সম্পদের দিক থেকে পুরোপুরি উজাড় হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে তারা বলছেন, জীবন আছে ঠিকই, কিন্তু বসতঘর, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, ভবিষ্যতের সব পরিকল্পনা সবকিছুই আর অবশিষ্ট নেই।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে কড়াইল বস্তি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কড়াইল বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণে রক্ষা পেলেও সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে অন্তত দেড় থেকে দুই হাজার পরিবার। বস্তির প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, চারবার আগুন দেখছি এই এলাকায়। কিন্তু এবার যেভাবে ছড়াইছে—কেউ বুঝতেই পারে নাই। চোখের সামনে আগুন ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে গেছে।
বস্তির বউবাজার এলাকার একটি দ্বিতল টিনের ঘরের দুতলায় থাকতেন মো. রাজু মিয়া। গত তিন বছর ধরে এই এলাকায় তিনি ভাড়া থাকেন। আগুন লাগে তার ঘরের কাছাকাছিই। তিনি বলেন, দুতলায় ঘুমাইতেছিলাম। মানুষ চিৎকার না করলে বেরও হতে পারতাম না। সবকিছুই পুড়ে গেছে।
ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপে খুঁজতে খুঁজতে তিনি পেয়েছেন শুধু একটা পুরোনো বটি, একটা পুড়ে যাওয়া ফ্যানের অংশ আর কিছু লোহার রড। বাকিটা ছাই। তার হিসাব, টিভি, ফ্রিজ, ফার্নিচার মিলিয়ে অন্তত দুই লাখ টাকার ক্ষতি। রাজুর ভাষায়, আমরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ বেঁচে আছি, কিন্তু কোনো কিছু সুতা পরিমাণও বাঁচাইতে পারি নাই।
অন্যদিকে সিএনজি চালক মো. শুক্কুর আলী ছিলেন বাড়ির বাইরে। আগুনের খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখেন ঘরের ধারে-কাছে যাওয়া যায় না। তিনি বলেন, যে শার্টটা পরে বের হয়েছিলাম, এটাই এখন আমার সব। দুই বাচ্চা আর বউ কোনো রকমে দৌড়ায়া বের হইছে। যা ছিল সব পড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন আমরা পথে।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত আসমা আক্তার বলেন, মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করতাম। অনেকদিনের চেষ্টায় ঘরে কিছু জিনিসপত্র করেছিলাম। আমার সব শেষ। এই বয়সে আবারও নতুন করে সবকিছু জোগাড় করা কঠিন। কোথায় যাব কোথায় থাকবো কিছুই বলতে পারছি না।
কড়াইল বস্তির ভয়াবহ এই আগুনে মানুষ বেঁচে গেছে ঠিকই, কিন্তু জীবন যাপনের সমস্ত ভিত্তি ভস্মীভূত হয়ে পড়েছে। পুড়ে যাওয়া পুরো বস্তিতে এখন শুধু আগুনে পোড়া গন্ধ আর সর্বস্ব হারানো মানুষের আর্তনাদ—যা মনে করিয়ে দিচ্ছে, আগুন তাদের জীবন কেড়ে নিতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু জীবন গড়ার সব উপাদান কেড়ে নিয়েছে।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited