শিরোনাম
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম | ০৭:০৮ পিএম, ২০২৬-০৪-০৪
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির চট্টগ্রাম সার্কেলে ২০২৪ সালের বাৎসরিক দক্ষতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন (PER/ACR) নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আচরণগত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই গণহারে নম্বর কমিয়ে দেওয়ার ঘটনায় শতাধিক কর্মকর্তা সরাসরি পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময়েও দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “একটি প্রশাসনিক ত্রুটি হলে তা সংশোধনের উদ্যোগ দেখা যেত। কিন্তু এখানে অভিযোগ, ব্যাখ্যা, এমনকি লিখিত আবেদন থাকার পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই—যা বিষয়টিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”
গণহারে নম্বর কমানোর অভিযোগ কীভাবে:
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই পাঁচ জেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম সার্কেলের আওতায় রয়েছে ৭৮টি শাখা। এসব শাখায় প্রায় ৭ শতাধিক কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মরত।
ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য ১০০ নম্বরের পিইআর প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে ৫০ নম্বর থাকে বাৎসরিক কর্মসম্পাদন এবং বাকি ৫০ নম্বর আচরণগত মূল্যায়নের জন্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট অঞ্চল প্রধান ও করপোরেট শাখা প্রধানরা আচরণগত অংশে অনেক কর্মকর্তাকে পূর্ণ ৫০ নম্বর দিলেও প্রতিস্বাক্ষরকারী তৎকালীন সার্কেল মহাব্যবস্থাপক তা একযোগে কমিয়ে ৪০ নম্বর নির্ধারণ করেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, “সবার আচরণ একই হতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে সবাইকে একইভাবে নম্বর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা স্বাভাবিক মূল্যায়নের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
নীতিমালা কী বলছে, বাস্তবে কী হয়েছে:
অগ্রণী ব্যাংকের পিইআর নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্মকর্তা যদি প্রতিবেদনকারী কর্মকর্তার মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন, তাহলে তাকে নির্দিষ্ট স্থানে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট রেটিং পরিবর্তনের কারণ উল্লেখ করতে হবে।
এ ছাড়া, আচরণগত মূল্যায়নে বিরূপ পরিবর্তন আনতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা নির্বাহীকে আগে লিখিতভাবে অবহিত বা সতর্ক করার বিধান রয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংক একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে “গোপনীয় প্রতিবেদন অনুশাসনমালা-২০২০ (ACR/PER Policy)” অনুসরণে বাধ্য। কিন্তু বাস্তবে এই নীতিমালার প্রয়োগে গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিরূপ (adverse) মূল্যায়ন দেওয়া হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যাখ্যা ও পর্যালোচনার সুযোগ থাকার কথা থাকলেও এখানে গণহারে ৫০-এর মধ্যে ৪০ নম্বর দেওয়া হয়েছে, যা কার্যত বিরূপ মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কিন্তু ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এসব নিয়মের কোনোটি মানা হয়নি। গণহারে নম্বর কমানো হলেও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, এমনকি সংশ্লিষ্টদের আগাম অবহিতও করা হয়নি।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “যদি আমাদের আচরণে সমস্যা থাকত, তাহলে অন্তত আগে জানানো হতো। কিন্তু কোনো নোটিশ ছাড়াই নম্বর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
সাফল্য থেকেও বঞ্চিত:
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সার্কেলের অনেক শাখা ২০২৪ সালের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার সব সূচক পূরণ করেছে। অনেক শাখা ব্যবস্থাপক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রশংসাপত্রও পেয়েছেন।
তবে এসব অর্জন পিইআরে প্রতিফলিত হয়নি। বরং সবাইকে একইভাবে কম নম্বর দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, “যে বছর আমরা ভালো পারফরম্যান্স করেছি, সেই বছরই এমন মূল্যায়ন দেওয়া হয়েছে—এটি আমাদের জন্য হতাশাজনক।”
পদোন্নতিতে প্রভাব: তালিকায় নেই চট্টগ্রাম;
২০২৫ সালের মার্চে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) থেকে উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদে ৬৫ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু ওই তালিকায় চট্টগ্রাম সার্কেল থেকে কেউ স্থান পাননি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিইআরে নম্বর কমিয়ে দেওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব শুধু চলতি বছর নয়, আগামী ৪-৫ বছর পর্যন্ত বহন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ পিইআর ব্যবহার করে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভবিষ্যতে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতাই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “এই একটি রিপোর্ট আমাদের পুরো ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলবে।”
‘হ্যাকিং’ ব্যাখ্যা, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে:
অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক দাবি করেন, তিনি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে কম্পিউটার ‘হ্যাক’ বা অন্য কোনো কারণে নম্বর পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল এবং একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাদের প্রশ্ন, “যদি হ্যাকিং হয়ে থাকে, তাহলে কেন তাৎক্ষণিক তদন্ত হয়নি? কেন এতদিনেও সংশোধন হয়নি?”
লিখিত আবেদনেও মিলেনি প্রতিকার:
ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একটি বিস্তারিত লিখিত আবেদন দাখিল করেন। সেখানে তারা উল্লেখ করেন— কোনো কারণ ছাড়াই আচরণগত নম্বর কমানো হয়েছে, পিইআর নীতিমালার বাধ্যতামূলক শর্তগুলো মানা হয়নি, আগাম সতর্ক বা অবহিত না করেই বিরূপ মূল্যায়ন দেওয়া হয়েছে এবং অনেক কর্মকর্তার অর্জন ও স্বীকৃতি প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়নি।
আবেদনে তারা ত্রুটিপূর্ণ পিইআর বাতিল করে নতুন করে সঠিক মূল্যায়ন প্রকাশের অনুরোধ জানান।
তবে অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এইচআর বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন:
কর্মকর্তাদের একটি অংশ বলছেন, মানবসম্পদ বিভাগ চাইলে সহজেই বিষয়টি শনাক্ত করতে পারত। কারণ, গণহারে একইভাবে নম্বর কমানো একটি অস্বাভাবিক বিষয়।
তাদের অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে এইচআর বিভাগ কার্যকর কোনো যাচাই-বাছাই বা তদন্ত না করে নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা গোষ্ঠীকে বঞ্চিত করার প্রচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।
তাদের মতে, “এইচআর যদি যথাযথ যাচাই করত, তাহলে এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ রিপোর্ট অনুমোদন পেত না।”
বৈষম্যের অভিযোগ ও হস্তক্ষেপের দাবি:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম সার্কেলের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের দাবি— নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, ত্রুটিপূর্ণ পিইআর বাতিল, নতুন করে সঠিক মূল্যায়ন প্রকাশ এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা।
ন্যায্য মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন:
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা যদি স্বচ্ছ ও ন্যায্য না হয়, তাহলে তা পুরো প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
একজন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা বলেন, “আমরা শুধু আমাদের প্রাপ্য ন্যায্য মূল্যায়ন চাই। এই বিষয়টির সুরাহা না হলে এটি শুধু আমাদের নয়, প্রতিষ্ঠানের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হবে।”
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন:
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক দক্ষতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন (পিইআর) শুধু একটি প্রশাসনিক নথি নয়; এটি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, পদায়ন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানে অস্বচ্ছতা বা অনিয়ম পুরো মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন,
“পিইআরে গণহারে একইভাবে নম্বর কমিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতির পরিপন্থী। যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “হ্যাকিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ এলে সেটি যাচাই না করে ফেলে রাখা আরও বড় প্রশ্ন তৈরি করে। এতে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পায়।”
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited