শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:৪০ পিএম, ২০২৬-০৪-২৬
* বাসাবাড়ির ভেতরেই রাসায়নিক গুদাম!
*লাইসেন্সবিহীন কারখানার ছড়াছড়ি, নেই কার্যকর তদারকি
*প্রতিটি গলিতেই লুকানো বিস্ফোরক ঝুঁকি, নজরদারির অভাবে বাড়ছে আতঙ্ক
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ও ব্যস্ততম এলাকা চকবাজার—যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের আনাগোনা, বসবাস এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কোলাহল। তবে এই প্রাণচাঞ্চল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ বাস্তবতা—চরম অগ্নি ঝুঁকি ও অনিরাপদ বসবাস ব্যবস্থা।
ঘনবসতি, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং দাহ্য পদার্থের অনিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণ এই এলাকাকে পরিণত করেছে একটি ‘টাইম বোমা’-তে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চকবাজার অগ্নিকাণ্ড ২০১৯-এ অন্তত ৭১ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই ঘটনার ক্ষত এখনো শুকায়নি, এর মধ্যেই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রহমতগঞ্জ চূড়িহাট্টা এলাকায় একটি তিনতলা প্লাস্টিক কারখানায় আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চকবাজারের সরু গলি এবং ঘনবসতিপূর্ণ ভবনগুলোর ভেতরে এখনো অবাধে গড়ে উঠেছে রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের গুদাম। অনেক ক্ষেত্রেই এসব গুদাম বসতবাড়ির সঙ্গে মিশে রয়েছে, যা ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে চূড়িহাট্টা, ডাইলপট্টি ও রহমতগঞ্জসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা বর্তমানে উচ্চ অগ্নি ঝুঁকিতে রয়েছে।
এলাকায় নেই পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে, আর বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবস্থাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে যেকোনো সময় ছোট একটি স্ফুলিঙ্গ বড় ধরনের বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে পুরান ঢাকায় প্রায় ২৫ হাজার রাসায়নিক ও প্লাস্টিক কারখানা ও গুদাম ছিল। বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালের অগ্নিকাণ্ডের পর এসব ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম ও কারখানা আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়। এর মধ্যে দুটি ছিল দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার শ্যামপুরে ৫৪টি ভবন নির্মাণ করে রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া মুন্সিগঞ্জ ও টঙ্গীতেও পৃথক গুদাম স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। তবে এসব প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে এখনো রয়েছে প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং দিন দিন বাড়ছে প্লাস্টিক কারখানা ও অবৈধ গুদামের সংখ্যা। এলাকায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস হলেও তদারকিতে নেই কোনো কঠোরতা। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই নেই বৈধ লাইসেন্স—এমন অভিযোগও তুলেছেন তারা।
চকবাজারের বাসিন্দারা এখনো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের প্রশ্ন—এত বড় দুর্ঘটনার পরও কেন কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়নি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়। অন্যথায়, যে কোনো সময় আবারও ঘটতে পারে আরেকটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি—যার দায় এড়াতে পারবে না কেউই।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited