শিরোনাম
চট্টগ্রাম ব্যুরো : | ০৯:৪৫ পিএম, ২০২৬-০৭-১৮
চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার করিমগঞ্জ (শাম্বীর বাপের বাড়ি) এলাকায় একটি পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ শওকত ও তার পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আবদুল মুমিন, তার ছেলে মোঃ মুছা ও মোঃ ফারুক, মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ তাদের সহযোগীরা আদালতের নির্দেশনা, পুলিশি নোটিশ এবং বিচারাধীন মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শুধু জমি দখলের চেষ্টা নয়, বরং তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, সামাজিকভাবে চাপে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের প্রধান অভিভাবক রোকেয়া বেগম ও তার কাতারপ্রবাসী ছেলে মোহাম্মদ শওকত বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কাতার থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ:
নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ শওকত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগটি বাংলাদেশ দূতাবাস, দোহা, কাতারের মাধ্যমেও প্রেরণ করা হয়।
অভিযোগে শওকত উল্লেখ করেন, তার পিতা মরহুম ফজলুল কবিরের মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। তিনি দাবি করেন, তার পরিবারকে বৈধ উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জবরদখলের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগপত্রে আবদুল মুমিন, মোঃ মুছা, মোঃ ফারুক ও মহিনউদ্দিনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তারা বিরোধপূর্ণ জমিতে পাকা দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে বাধা দিলে শওকতের বড় ভাইকে মারধর করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শওকত তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, দেশে ফিরলে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো, গ্রেপ্তার করানো, হাত-পা কেটে ফেলা এমনকি হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি নিজ দেশে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
আদালতের দ্বারস্থ রোকেয়া বেগম:
পরিস্থিতির অবনতি হলে রোকেয়া বেগম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চট্টগ্রাম মহানগরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আবেদন করেন। পরে মিস মামলা নং-১৪৫৩/২০২৫ রুজু হয়।
আদালতের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের আদেশে নালিশি জমির দখল ও মালিকানা পরিস্থিতি তদন্ত করে স্কেচ ম্যাপসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানাকে বিরোধপূর্ণ ভূমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে আদালত মনে করেন।
আদালতের নোটিশে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ:
পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশনার আলোকে ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বায়েজিদ বোস্তামী থানা থেকে উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করা হয়।
নোটিশে প্রার্থীক হিসেবে রোকেয়া বেগম ও নুর নাহার বেগমের নাম এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে আবদুল মুমিন, মোঃ মুছা, মোঃ ফারুক, মোঃ শামসু, আবদুল জলিল, ফেরদৌস বেগম, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও মোঃ ইউছুপের নাম উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, বিরোধপূর্ণ ভূমিতে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ, মাটি ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ কিংবা সম্পত্তির অবস্থার পরিবর্তন করা যাবে না। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও সতর্কতা দেওয়া হয়।
যে জমি নিয়ে বিরোধ:
আদালতের নথি অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিটি চট্টগ্রাম জেলার পাঁচলাইশ মৌজার বিএস ৬১৫ ও ১১১৮ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত বিএস ১০৩৩২, ১০৩৩১ ও ১০২৯৪ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ১.৮৬ শতক ভূমি। জমিটির চৌহদ্দি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে -উত্তরে: হারুন, দক্ষিণে: শাহজান গং, পূর্বে: পুকুর, পশ্চিমে: জাহাঙ্গীর।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও এই বিরোধপূর্ণ ভূমিতে নতুন করে মাটি ভরাট ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
‘মামলা চললেও থামেনি দখলচেষ্টা’:
পরিবারটির অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও আবদুল মুমিন, মোঃ মুছা, মোঃ ফারুক, মহিউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা বিরোধপূর্ণ জমিতে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রোকেয়া বেগমের দাবি, জমিতে ভরাটকাজে বাধা দিতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা কার্যকর না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রবাসী ছেলের নিরাপত্তা শঙ্কা:
কাতারে কর্মরত মোহাম্মদ শওকত অভিযোগ করেন, দেশে ফিরলে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতে পারে। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার চালাচ্ছি। কিন্তু নিজের পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে আজ দেশে ফেরার বিষয়েও শঙ্কায় আছি।”
তার দাবি, পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি:
ভুক্তভোগী পরিবার বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
পরিবারটির ভাষ্য, আদালতের নির্দেশনা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফ : সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার হালুয়া কান্দি মফিজ উদ্দিন তালুকদার স্ম...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফঃ বিগত সতেরো বছরে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সকল রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ...বিস্তারিত
মাহাদী বিন সুলতান, রাঙ্গামাটি: : সারাদেশের ন্যায় 'নৌযান শুমারি-২০২৬' সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাঙামাটিতে অংশীজনদের নিয়...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited