শিরোনাম
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম | ১০:৪৪ পিএম, ২০২৪-১০-২৯
পতিত সরকার ও ভাইরাল ইস্যু ছাড়া কোনো মামলায় নিচ্ছে না পুলিশ প্রশাসন, এমনকি জিডি পর্যন্ত করা যাচ্ছে না বেশিরভাগ থানায়। প্রতিনিয়ত থানায় গিয়ে ফিরে আসছে অসংখ্য ভুক্তভোগী জনগণ।
প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, আমরা শুধুমাত্র উপরের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছি। উপরের মহল থেকে যে অর্ডার দিচ্ছে তা পালন করছি মাত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা কোনো অভিযানে গেলে আমাদের নিরাপত্তা কে দিবে? আমাদের ফাঁসিয়ে দিবে জনগণ।
বর্তমানে থানায় মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে পুলিশের উদাসীনতা ও গড়িমসি, সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করছে। থানায় মামলা গ্রহণ না করার ফলে অপরাধীরা অনায়াসে অপরাধ করে যাচ্ছে এবং ভুক্তভোগীরা বিচারের জন্য সঠিক পথে যেতে সাহস পান না। ফলে আইনশৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছে এবং সমাজে অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলছে।
গত ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে পুলিশের মধ্যে আতঙ্কের সঞ্চার হয়েছে, এবং তাদের দায়িত্ব পালনেও দ্বিধার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পুলিশ সদস্যরা নিজেরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অনিশ্চয়তা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।
নতুন প্রশাসনের প্রতি পুলিশের মধ্যে আস্থা ও সমর্থনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যের মনে হয়েছে যে, তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সুরক্ষিত নয়। তাদের অতীত কার্যক্রমের কারণে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থেকে তারা আতঙ্কিত। এ ধরনের আশঙ্কা তাদের মনোবল দুর্বল করে দিয়েছে, এবং অপরাধ দমনে যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে প্রয়োজন, তাতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, থানায় মামলা গ্রহণ না করা, এবং পুলিশের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়া দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি করছে। জনগণ ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য থানায় মামলা করতে গেলে অনেক সময় পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বা সরাসরি মামলা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারের পরিবর্তনের পর পুলিশের অনেক সদস্যের মনে আতঙ্ক এবং নিরাপত্তা সংকটের ধারণা তৈরি হয়েছে। এতে করে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও অনাস্থা জন্ম নিচ্ছে।
সাধারণ জনগণ কোনো অপরাধের শিকার হলে বা হুমকির সম্মুখীন হলে তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ দাখিল করে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করেন। কিন্তু পুলিশ যদি মামলার গ্রহণে গড়িমসি করে, ভুক্তভোগীরা তখন তাদের অভিযোগের প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হন। এই গড়িমসি বা মামলা গ্রহণ না করা অনেক সময় অপরাধীদের উৎসাহিত করে এবং তারা নিজেদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করে। এর ফলে অপরাধের মাত্রা বাড়তে থাকে এবং জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি অনাস্থা বাড়ে।
গত কিছু রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে অনেক পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ধারণা হয়েছে যে, তারা যেকোনো সময় রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হতে পারেন। ফলে তারা দায়িত্ব পালনে ভয় পাচ্ছেন এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধান্বিত হচ্ছেন। তাদের মনে এই আতঙ্ক জন্মেছে যে, তারা অভিযানে গেলে বা কোনো তদন্তে নামলে তাদের বিপদে ফেলার চেষ্টা হতে পারে। এই আতঙ্ক পুলিশি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।
পুলিশ যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। থানায় মামলা না নেওয়া, পুলিশি সক্রিয়তার অভাব এবং অপরাধীদের দমনে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। অপরাধীরা যদি বুঝতে পারে যে, পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বা মামলা গ্রহণ করছে না, তবে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। ফলে সমাজে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের ভেতরে এই আতঙ্ক দূর করতে এবং তাদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পুলিশি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহার যেমন- বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, এবং অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। একইসঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুলিশের উপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে থানায় মামলা গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে।
সরকারের উচিত পুলিশের মনোবল বৃদ্ধি এবং তাদের নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। থানায় মামলা গ্রহণ প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা, মিথ্যা মামলার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের আতঙ্ক ও নিরাপত্তা শঙ্কা দূর করা অপরিহার্য।
থানায় মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসি এবং পুলিশের নিরাপত্তা শঙ্কা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। পুলিশের উচিত নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জনগণের সহায়তা এবং পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়ন করলে সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা, এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক :: : ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে অস্থিরতা কোনোভাবেই কমছে না। গত রোববার আবারও ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যাল...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিশেষ ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত স...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেক চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল থেকে মোহাম্মদ রিপন ও...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ধোঁয়ার কুণ্ডলীর ভেতরে মানুষ খুঁজে পায় সাময়িক প্রশান্তি, কেউ খুঁজে পায় অভ্যাস, আর কেউ ক্লান্ত জীবনে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ঈদের সকাল গড়িয়ে দুপুর নামতেই দেশের অলিগলি, গ্রামের উঠোন আর শহরের মোড়ে মোড়ে জমতে থাকে কোরবানির পশুর...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited