শিরোনাম
আলাউদ্দিন বেলাল: | ০৮:১৮ পিএম, ২০২৫-০৫-০৭
চট্টগ্রাম দক্ষিণ কমিটি নিয়ে প্রশ্নের মুখে দল। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে রাজীব জাফর চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সদ্য ঘোষিত ৫৪ সদস্যের কমিটির ২৯ নম্বরে থাকা রাজীব একজন পরিচিত ‘আওয়ামী পরিবার’-এর সন্তান। তার বাবা-মা উভয়েই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা ছিলেন। কমিটির তালিকা প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়—ওঠে আদর্শ, রাজনৈতিক নিষ্ঠা ও কমিটি গঠনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন।
কে এই রাজীব জাফর চৌধুরী? রাজীবের বাবা জাফর আহমদ চৌধুরী ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) নির্বাচন করেন এবং ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কো-চেয়ারম্যান। তার মৃত্যুর পর ২০১৫ সালে শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে শোক প্রকাশ করেন, যা দলীয়ভাবে প্রচারিত হয়। মা হাসিনা জাফর ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী। ২০১৮ সালে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও প্যানেল মেয়র-১ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশ্ন উঠছে—তাহলে আদর্শ কোথায়? এমন স্পষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবার থেকে বিএনপির জেলা নেতৃত্বে একজনের আগমন অনেককেই বিস্মিত করেছে।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির একজন নেতা বলেন, “বিএনপিতে কী হচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারছি না। ত্যাগী নেতারা কোথায় যাবে?” ‘আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ’-এর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রাহী সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।” রাজীবের ব্যাখ্যা রাজীব দাবি করেছেন, তিনি ২০০৭ সাল থেকেই খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে অনুরাগী। তার ভাষ্য, বাবা হাওয়া ভবনের পরামর্শে ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর উৎসাহে আওয়ামী লীগ ছেড়েছিলেন এবং পরে ‘ট্রাক’ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন বিএনপির পরামর্শে দল ত্যাগ করলে ধানের শীষ না পেয়ে ‘ট্রাক’ প্রতীক কেন?
রাজীব বলেন, “আমার মা ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে ২০১৮ সালে নৌকার মনোনয়ন ফরম তুলেছিলেন, সেটাও সত্য। আমি একই নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন চেয়েছিলাম।” দলের ভিতরেই প্রশ্ন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, “আজ আমি ঢাকায় ব্যস্ত ছিলাম। পুরো তালিকা দেখিনি। কমিটি গঠনের দায়িত্ব বিভাগীয় সাংগঠনিক ইউনিটের।”
বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “এই কমিটি আদর্শের নয়, বরং সমঝোতার ফসল। এতে দলের মূল চেতনায় আঘাত লেগেছে।” আরও প্রশ্ন, আরও অস্পষ্টতা রাজনীতিতে রাজীবের সম্পৃক্ততা আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি—তাহলে তিনি হঠাৎ এখন কেন? জাফর আহমদের পদত্যাগ যদি সত্য হয়, শেখ হাসিনা কেন ২০১৫ সালে শোক জানালেন? রাজীব নিজে কখন বিএনপিতে যোগ দিলেন, তারও কোনো পরিষ্কার রেকর্ড নেই।
রাজীব বলেন, “এটা আওয়ামী লীগের বিষয়। বাবার ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল, হয়তো সে কারণেই তারা শোক জানিয়েছে।” চট্টগ্রামের রাজনীতিতে রাজীব জাফরের আবির্ভাব একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়; বরং এটি রাজনৈতিক পরিচয়, আদর্শ এবং দলীয় কাঠামোর ভিতরে কতটা ফাটল ধরেছে—সেই প্রশ্নগুলোকেই সামনে নিয়ে আসছে।
এই নিয়োগ আদর্শের বিজয়, না কি সুবিধাবাদের বহিঃপ্রকাশ—উত্তর দেবে সময়।
নিজস্ব প্রতিবেদক :: : ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে অস্থিরতা কোনোভাবেই কমছে না। গত রোববার আবারও ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যাল...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিশেষ ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত স...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেক চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল থেকে মোহাম্মদ রিপন ও...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ধোঁয়ার কুণ্ডলীর ভেতরে মানুষ খুঁজে পায় সাময়িক প্রশান্তি, কেউ খুঁজে পায় অভ্যাস, আর কেউ ক্লান্ত জীবনে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ঈদের সকাল গড়িয়ে দুপুর নামতেই দেশের অলিগলি, গ্রামের উঠোন আর শহরের মোড়ে মোড়ে জমতে থাকে কোরবানির পশুর...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited