বাংলাদেশ   শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬  

শিরোনাম

বিচারকের সন্তান নিহত, কলম বিরতি  নতজানু প্রতিবাদ, মাথা উঁচু করা স্বাধীন সিদ্ধান্তই কেবল  নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে

আমাদের বাংলা ডেস্ক :    |    ০৫:৪৬ পিএম, ২০২৫-১১-১৫

বিচারকের সন্তান নিহত, কলম বিরতি  নতজানু প্রতিবাদ, মাথা উঁচু করা স্বাধীন সিদ্ধান্তই কেবল  নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে

---নবীন চাণক্য সেন 

রাজশাহীতে বিচারকের বাসায় ঢুকে ছুরিকাঘাত করে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া বিচারকের কিশোর সন্তানকে মেরে ফেলা হয়েছে। বিচারকের  স্ত্রীও গুরুতর আহত।এখনো আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। বিচারকদের উপর হামলা এবং বিচারকদের জীবননাশের হুমকি  
আমাদের সমাজে এখন আর অবাক করার মত বিষয়  নয়। বিচারকদের নিরাপত্তা সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। এটাও নতুন কিছু নয়। বোমা হামলার শিকার হয়ে বিচারকগণ প্রাণ হারিয়েছেন। নানাভাবে বিচারকদের জীবন হুমকির  সম্মুখীন হয়েছে। এটা সবাই জানেন যে বিচারকদের ব্যক্তিগত জীবন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জীবন  প্রতিটি মুহূর্তে একটি অদৃশ্য আক্রমণের আওতার মধ্যে থাকে। এটা সরকারও ভালোভাবে জানে। কিন্তু এই  হুমকি, আক্রমণ ও ঝুঁকির প্রতি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আজকাল  অনেকখানি নিস্পৃহ মনে হয়।ভাবখানা এমন, " ও, বিচারক! এই আর এমন কি।আমরাও তো ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি।" এদেশে আমরা কেউ আর কাউকে সম্মান দিতে চাই না।তাই মর্যাদার বিষয়টি না হয়  বঙ্গোপসাগরেই ফেলে দিলাম।  বিচারকদের যাপিত জীবন ও কর্মপদ্ধতির দিক বিবেচনায় নিলেও তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদাভাবে চিন্তা করা উচিত বলে মনে করি। বিচার করার সময় এবং সিদ্ধান্ত প্রদানের সময় গভীর চিন্তামগ্ন সময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে হয় বিচারকদের। এজন্য বিচার একটি দুরূহ সাধনার পবিত্র কাজ।সঠিক ও পবিত্রতার সাথে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হলে দাম্পত্য জীবন, পারিবারিক জীবন ও কর্ম পরিবেশ ইত্যাদি সবই ঝামেলা ও ঝঞ্জাট মুক্ত থাকতে হয়।বিচারক জীবন এমন যে, ডানে বামে কি ঘটছে তা দেখার এবং তা নিয়ে চিন্তা করার কোন সুযোগ নেই।প্রসবের সময় নিকটবর্তী হয়েছে এমন গর্ভবতী মায়ের  মত করে চলতে হয় বিচারকদের। প্রতিটি মামলায় বিচারকার্যের শুরু থেকে রায় প্রদান পর্যন্ত গর্ভবতী মায়ের মতই সতর্ক থাকতে হয় যেকোন বিতর্ক এড়ানোর জন্য এবং বিচার প্রক্রিয়াকে যেকোন খারাপ  প্রভাব থেকে মুক্ত  রাখার জন্য। বিচারক যখন দিনের কাজ শেষ করে ঘরে ফিরতে থাকেন তখন তিনি অনেকটা প্রাণশক্তিহীন ভাবলেশহীন শূন্য মস্তিষ্কের একজন মানুষ। আর তখনই দরকার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদর আর পরম যত্ন।

রাজশাহীর  ঘটনা কতটা ভয়াবহ তা কাউকে বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। ঘরে বাইরে কোথাও বিচারকরা নিরাপদ নয়। রাজশাহীর এই দুঃখজনক ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে,  বিচারকদের নিরাপত্তার  বিষয়টি নিয়ে  রাষ্ট্র প্রতিনিয়ত  অবহেলা প্রদর্শন  করেই যাচ্ছে।অন্য জেলাগুলোতে এরূপ ঘটনা  ঘটেনি বলে মনে করার  কারণ নাই যে, জেলাগুলোতে বিচারকরা নিরাপদে আছেন। 
বিভিন্ন জেলাতে খবর নিয়ে দেখা গেছে পুলিশ প্রশাসন বিচারকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে খুব একটা তৎপর এবং আন্তরিক নন। ৫ আগস্ট এর পরে এমনটি হয়েছে তা ভাবার  কোন কারণ নেই। বরং আগেও 
ঘরেবাইরে কোথাও বিচারকদের জান,মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা ছিল না। এমনকি বিচারকরা নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়েও পুলিশ প্রশাসন ও  নিজের বিভাগ থেকে কোনরূপ সহায়তা পায়নি। এখনো পায় না।
নিজেদের পারিবারিক সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাইলে অপরপক্ষ মন্ত্রণালয় এবং হাইকোর্টে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে মর্মে নালিশ  দিয়েছে বা দিচ্ছে ।আর বিচারকদের  কর্তৃপক্ষসমূহ বিচারকদের বিরুদ্ধে  এরূপ দরখাস্ত পেলে যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিচারকদেরকেই দোষী সাব্যস্ত করেন।আর কর্তৃপক্ষের
ওখানে এমন কিছু ভদ্রলোক বসে থাকেন যাঁরা বিচারক সহকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে এন্টারটেইন করে বিকৃত আনন্দ পান।উনারা ফিল্ডে থাকা সহকর্মীদের মাথার উপর ছড়ি ঘুরিয়ে মজা পান।কথায় আছে কাকের মাংস কাক খায় না।কিন্তু কিছু বিচারক শুধু মাংস নয়,সহকর্মীদের হাড্ডি, চর্বি ও রক্ত খাওয়ার জন্য বসে থাকেন।

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশ বিভাগ নানা কারণে নানাভাবে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। চেয়েছে নানাভাবে প্রভাবিত করতে।

ফ্যাসিস্ট সরকার 'ধরে আনতে বললে বেঁধে আনত'।সক্রিয় কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করতে বললে,নিরীহ শত শত মানুষকে জেলে ভরা হতো।রিমান্ড বাণিজ্য ছিল খুবই লাভজনক। '' আপনার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হবে না '' এই রূপ উপকারের আশ্বাস দিয়ে  লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হতো। ৫ আগস্টের পর চিত্র খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।জামিন সংক্রান্তে আইন উপদেষ্টার প্রকাশ্য নির্দেশনা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের কাজে জড়তা নিয়ে  এসেছে। পুলিশ বিভাগ  ভাবছে- জামিন নিয়ে আইন উপদেষ্টার  নির্দেশনা হলো তাঁদের নির্বিচার গ্রেফতার কার্যক্রমের প্রতি খোলাখুলি  সমর্থন।তথাপি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা পুলিশের আবেদন কিংবা ফরোয়ার্ডিঙকে সব সময় 'ডিটু' ( Ditto)  করছে না।এটাই পুলিশের অভিমানের কারণ।কিন্তু উনারা ভুলে গেছেন কোর্টের  আদেশ যাই হোক- আদালতের পবিত্রতা রক্ষা  ও বিচারকদের নিরাপত্তা দেয়াটা উনাদের  পেশাগত দায়িত্ব। এটা করতে তাঁরা আইনগতভাবেই বাধ্য। ফ্যাসিস্টদের আমলে নানাভাবে বিচারকদেরকে বিতর্কিত করে মর্যাদা হানি করা হয়েছে। অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলতে হয়- অভিভাবক হিসাবে নিম্ন আদালতকে শাসন করতে গিয়ে মিডিয়ার সাহায্য নেয়ার কারণে হোক কিংবা মাত্রাতিরিক্ত অসন্তুষ্টি প্রদর্শনের কারণে হোক, মানুষ নিম্ন আদালতের বিচারকদের মর্যাদা সম্পর্কে মিশ্র ধারণা লাভ করেছে।একজন সিনিয়র জেলা জজকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে ভর্ৎসনা করা হয়েছে। একজন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে সম্পূর্ণ অন্যায্যভাবে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।আঠারো বা বিশ জনের মত বিচারককে  বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। যে কারণেই হোক, এক কথায় তাঁদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কিন্তু কেন?  কারণটি আমাদের মতl সাধারণ মানুষের কাছে সুস্পষ্ট নয়। এডমিনদের চাকরি যাচ্ছে। পুলিশের চাকরি যাচ্ছে। কেউ জেলে যাচ্ছেন।তাহলে কি মানুষ ধরে নিবে- এক ধরণের সমতা প্রতিষ্ঠার  জন্য কোন উর্বরমস্তিষ্কের পরামর্শ ধরা হয়েছে? তাই  বলে সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্টকে পাশ কাটিয়ে যেতে হবে?বিনয়ের সাথে জাতি জানতে চাইতে পারে-অভিভাবক হিসাবে বিষয়টি কি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনা হয়নি?যতটুকু জেনেছি - যে আইনের অধীনে উনাদেরকে ফোর্সড অবসরে পাঠানো হয়েছে  সেই আইন নাকি উনাদের উপর প্রযোজ্য নয়।আর শোনা মতে- তাঁদের বিরুদ্ধে নাকি দুর্নীতি ও ফ্যাসিস্টদের সহযোগিতা করার অভিযোগ ছিল! তাই যদি হয়,তবে এমন অভিযোগ ত আরো মিমিমাম ৫০০ জনের বিরুদ্ধে আছে।প্রতিটি জেলায়  গিয়ে মাটিতে কান পাতলে মাটিও ওঁদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে।এই কথা বলার উদ্দেশ্য এই নয় যে,বিচারকদের চাকরিচ্যুত করা হোক,বরং এটা বলতে চাই যে, সবকিছু আইন মেনে করা উচিত। 
২০০৬ সালের পর চরিত্র, স্কুল জীবন পারিবারিক ইতিহাস ইত্যাদি  ভালোভাবে যাছাই বাছাই না করে তাড়াহুড়ো করে বছর বছর বিচারক নিয়োগ দেয়াতে এমন অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।ফ্যাসিবাদীদের এবং তাঁদের দোসরদের সাইজ করতে হবে! আইন খুব কড়া!এখন রাজনৈতিক মামলার আসামীদের জামিন দিলে চাকরি থাকবে না! গম্বুজে যাওয়া যাবে না।এই স্রোতের প্রবাহে পড়ে  সাধারণ চুরি আর মারামারি মামলাতেও জামিন এখন  সোনার হরিণ। বিশেষ করে, কোর্ট অংগনে সাধারণ কোন 
কিছুকে অকারণে বা ভুল কারণে  অস্বাভাবিক জটিল করা হলে কমবেশি সবাইকে  অনৈতিকতার হাওয়া স্পর্শ করে যায়।আর কিছু বললাম না।এর বেশি বললে বেয়াদবি হবে।জামিনযোগ্য মামলায়  ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মত মানুষকে বিচার বিভাগ দিয়ে  অপদস্থ করা হয়েছে।যে ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে হাজতে পাঠালেন, সেই ম্যাজিস্ট্রেটের পদটি তাঁর সময়ে সৃষ্ট। বলতে গেলে তাঁরই সৃষ্ট।এরূপ 
 অজস্র দৃষ্টান্ত মানুষ দেখেছে বিগত বছরগুলোতে। মোটাদাগে বিচারকদেরকে সকল কর্তৃপক্ষ  মানুষের সামনে 'খেলু'তে পরিণত করেছেনে একেবারে সচেততভাবে স্থূল কৌশল দিয়ে। বিচারকদের মানসম্মান ও নিরাপত্তা আজ সকল সরকারি ডিপার্টমেন্টের কাছেও যেন 'অতি ঠুনকো' আর হাস্যকর বিষয়। উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের অভিভাবক হলেও নিম্ন আদালত কিন্তু  উচ্চ আদালতের ভিত;এবং উচ্চআদালতের পক্ষ হয়ে  উচ্চ আদালতের মর্যাদা রক্ষাকারী বীরযোদ্ধা বা নাইট হলো নিম্ন আদালতসমূহ।সবাই যখন দেখল- নাইটদেরকে আর আগের মত সম্মান দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে না, ঠিক তখনই তাঁরা মাননীয়  প্রধান বিচারপতির মর্যাদা হানির চেষ্টা করল।২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে 
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন নিরাপত্তা প্ররক্ষা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। এটাতে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিকে রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ অন্যদের সঙ্গে একই কাতারে রাখা হয়। হাইকোর্টের বিচারকদের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের সঙ্গে রাখা হয়।কিন্তু ২০০১ সালের নির্দেশিকায় প্রধান বিচারপতি মহোদয় একই ক্রমিকে এককভাবে ছিলেন।পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে  ২০২৫ সালের  নির্দেশিকা বাতিল করা হয়।
বিচারকের পুত্র নিহত,স্ত্রী আহত!এমন কষ্টদায়ক ঘটনা আমাদের দেখতে হলো।আরো ভয়ংকর বিষয় হলো- পুলিশের বিবেচনাহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়ে পড়েছে। হত্যাকারী পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় এমনভাবে বক্তব্য রাখছে যেন ' 'টক শো' করছে। ভাবছি- ওখানকার পুলিশ বিভাগ কি কোন কারণে রাজশাহীর  বিচার বিভাগের উপর নাখোশ ছিল?
ওনাদের কাজকারবার দেখে তো মনে হচ্ছে " পাইছি,এবার একটু মজা দেখাই" টাইপের মনোভাব নিয়ে আছেন। অনেকেই আমাদের এমন মন্তব্যকে  কাণ্ডজ্ঞানহীন বলতে পারেন।কিন্তু ইতিহাস বলে - এদেশে এসব হয়।ফ্যাক্ট ইজ স্ট্রেনজার দেন ফিকশন।
মিডিয়াতে দেখলাম -বিচারকদের    এসোসিয়েশন কলম বিরতির কর্মসূচী ঘোষণা করেছে উনাদের নিরাপত্তা, আবাসনসহ কিছু  দাবী পূরণ না হলে।এটি অতীব নরম ও কোমল একটি প্রতিক্রিয়া। উনাদের  নেতৃবৃন্দ হয়তো বলবেন "এতটুকু করা ছাড়া আর কিইবা করার আছে?আমাদের কর্তৃপক্ষ না আবার এতটুকুকেই বেআইনি ও এখতিয়ারবহির্ভূত বিবেচনায়  ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং করে বসে! উনাদের ন্যায় সেন্স তো  আবার খুব প্রখর! '
সম্মানিত বিচারকদের বলি- "এসব মিঠা কর্মসূচিতে কিছু হবে না।আগামীকাল থেকে রাজনৈতিক মামলাগুলোতে  জামিন সংক্রান্তে জাস্টিফাইড অর্ডারগুলো দিতে থাকুন।এজাহারনামীয় না হলে জামিন দিতে থাকুন। এজাহারনামীয় হলেও ভিডিওতে দৃশ্যমান না হলে জামিন দিন।বদলীর পরোয়া করবেন না।একজনকে বদলী করলে আরেকজন এসেও জামিনের ক্ষেত্রে  ন্যায়সংগতভাবে একই স্পিরিটে কাজ করতে থাকুন। পুলিশ তদন্তে ইচ্ছাকৃত ভুল করলে যথাযথ ব্যবস্থা নিন।ওসিদের কাজকে বিধি মোতাবেক পর্যবেক্ষণ করে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসুন।ওসিদের, এসআইদের,কোর্ট ইন্সপেক্টদের কিংবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনে নিযুক্ত   কর্মকর্তাদের উচিত-অনুচিত  তদবীরের দরজা বন্ধ রাখুন।দেখবেন, নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আর বলা লাগবে না, বরং নিরাপত্তাই পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছে।" 
মানুষ মনে করে - পুলিশ, এডমিন মিলে গত ফ্যাসিস্ট সরকারকে টিকিয়ে রেখেছিল।আর ওঁরাও এটা বুঝিয়ে বুঝিয়ে ফ্যাসিস্টদের কাছ থেকে ব্যাপক সুযোগ সুবিধা আদায় করে নিয়েছিলেন।বিচারকদের ভাগ্য ভালো যে, মানুষ ক্লিয়ালি বুঝতে পারেনি যে, নতজানু বিচার বিভাগের কারণেই ফ্যাসিস্ট  সৃষ্টি হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন টিকেছিল।চিন্তা করুন ত একবার,পুলিশ ধরে নিয়ে আসল,কিন্তু আটকে রাখার গ্রাউন্ড না থাকায়  বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিয়ে দিল।প্রাত্যহিক চিত্র যদি এমন হতো,
তবে  ফ্যাসিস্ট সরকার একদিনও অন্যায়ভাবে টিকে থাকতে পারতো না। এই সিম্পল কিন্তু টেকনিক্যাল বিষয় যদি সাধারণ মানুষ বুঝতো আর সিরিয়াসলি নিত, তবে পুলিশের পরিণতিটা নির্ঘাত বিচারকদের দিকে ঘুরে যেত। স্বস্তির বিষয় হলো তখন এমন কিছু হয়নি।কিন্তু দু:খের বিষয় হলো আজকাল আইন উপদেষ্টা, উনার কিছু বিশ্বস্ত সহযোগী ও বিশেষ দুটি রাজনৈতিক দলের গুটিকয়েক নেতার ইশারায় কিছু বিচারক কিছু   উল্টাপাল্টা কাজ করছেন। এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ।এক্ষেত্রে বিচার বিভাগের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে সতর্ক করতে চাই - আগের মত ভাগ্য-ভালো নাও থাকতে পারে।

মাননীয় সুপ্রিম কোর্টর কাছে বিনয়ের সাথে   নিবেদন করবো- অস্বাভাবিক জামিন হলে হলে যেমন প্রয়োজনীয় সতর্কতার নির্দেশ প্রদান করেন,তেমনি অস্বাভাবিকভাবে জামিন না হলেও মানুষের আইনগত ও সাংবিধানিক  অধিকার রক্ষায় প্রতিনিয়ত   যাছাই-বাছাই করুন।কয়েকদিন আগে শুনে ভালো লাগল যে, বিচার বিভাগে নতুন অনেক পদ সৃষ্টি হয়েছে।বিভিন্ন পদে বিপুল ও রেকর্ড সংখ্যক পদন্নোতির প্রক্রিয়াও নাকি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে ।বেশ  উদ্বিগ্নও লাগছে এই ভেবে যে, এত বিশাল সংখ্যক বিচারকের জন্য এজলাস, খাসকামরাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যানবাহনের ব্যবস্থা কি আছে।থাকলে ত ভালো, না থাকলে খুবই বিব্রতকর ব্যাপার।এখানেও নিরাপত্তা ইস্যু প্রাসঙ্গিক।

যাই হোক, মাননীয় বিচারকগণ,
কলম বিরতির মত মিষ্টি পদক্ষেপে স্থির থাকবেন না।রাজনৈতিক অবস্থাসহ সকল পরিস্থিতি ভুলে থাকুন ।পরিস্থিতি রক্ষায় পুলিশসহ নানা বাহিনী আর বড় বড় প্রশাসকরা আছেন।আপনারা আইন মোতাবেক জাস্টিফাইড অর্ডার করতে থাকুন। ডানেবামে দেখার দরকার নেই, কোন খাতিরেরও দরকার নেই।,কারো চাকরি বাঁচানোরও দরকার নেই। নিজের কলম দিয়ে কেবল নিজের অর্ডার  করুন। নিজের কলম দিয়ে নিজের রায় লিখুন।প্রত্যেককে তাঁর যথাযথ  পাওনাটাই বুঝিয়ে  দিন।
আপনার আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ আর উপরোধ দিয়ে সচিব, আইন উপদেষ্টা কিংবা অন্য কোন কর্মকর্তা তো আদেশ লিখেন না।তা-ই যদি হয়,আপনি কেন অন্যের কথা শুনবেন।দেখবেন - সব স্কেলমাপা সোজা হয়ে যাবে।নিরাপত্তার চাদর নিয়ে বড় বড় লোকজন বিচার বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে।দেখবেন - একদিন ঠিকই এমন হবে, হে মাননীয় বিচারক মহোদয়গণ,
আপনাদের জন্য গভীর শ্রদ্ধা রইল।আপনাদের জীবন নিরাপদ হোক।
আপনারা সন্তান হারিয়েছেন।এই কষ্ট, এই ব্যথা ভুলে যাওয়ার নয়।সমবেদনা আর সান্ত্বনা দেয়ার মত দু:সাহস আমাদের না হোক।

রিটেলেড নিউজ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত


অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুপর্বার সাফল্যের ঝুলিতে ৫৩ পদক

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুপর্বার সাফল্যের ঝুলিতে ৫৩ পদক

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত


বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম এর উদ্বেগ : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম এর কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট মিজানুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার

বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম এর উদ্বেগ : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম এর কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট মিজানুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত


নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক

নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক "জুলাই অনির্বাণ" আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত


হাইকোর্টের রুল জারি: বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কে শুধু পুরুষের শাস্তি কেন অবৈধ নয়?

হাইকোর্টের রুল জারি: বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কে শুধু পুরুষের শাস্তি কেন অবৈধ নয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত


জুলাইয়ের বিচারই অগ্রাধিকার, চলবে গুম-ক্রসফায়ারের মামলাও : চিফ প্রসিকিউটর

জুলাইয়ের বিচারই অগ্রাধিকার, চলবে গুম-ক্রসফায়ারের মামলাও : চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অ...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর