বাংলাদেশ   সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

শিরোনাম

পার্বত্য চুক্তির ২৮ বছরে শান্তি ফেরেনি পাহাড়ে, নিহত-১৪২৬,অপহৃত-২৫’শ পুর্নমূল্যায়নের দাবি স্থানীয়দের

রাঙামাটি প্রতিনিধি :    |    ০৮:২৬ পিএম, ২০২৫-১২-০১

পার্বত্য চুক্তির ২৮ বছরে শান্তি ফেরেনি পাহাড়ে, নিহত-১৪২৬,অপহৃত-২৫’শ পুর্নমূল্যায়নের দাবি স্থানীয়দের

আজ ২রা ডিসেম্বর। সংঘাত-সশস্ত্র তৎপরতা নিরসন করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের এই দিনে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আজ ২৮ বছর পূর্ণ হলেও কাঙ্খিত শান্তি ফেরেনি পাহাড়ে। বরং চুক্তির পরবর্তী সময়ে নতুন নতুন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের উত্থানে আরও জটিল হয়েছে তিন পার্বত্য জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও পারস্পরিক সংঘাতে এখনও উত্তাল তিন পার্বত্য জেলা। হানাহানি আর ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে পার্বত্য অঞ্চল এখনো অশান্ত।
সরকারি একাধিক সূত্রে জানাগেছে; গত ২৮ বছরে পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছে ১,৪২৬ মানুষ এবং অপহরণের শিকার হয়েছে ২,৪৯৭ জন। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে আছেন সেনাবাহিনীর ১৭১, বিজিবির ১১০, পুলিশের ৩৮০ এবং আনসারের ১৬ সদস্য।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ৭৫ পরবর্তী প্রায় দুই দশকের সংঘাত বন্ধে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকায় সরকার আর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি নামে অবহিত।
সরকারের পক্ষে জাতীয় সংসদের তৎকালীন চীফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও উপজাতীয়দের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির দুইমাস পরে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে অস্ত্র সমর্পণ করেছিল শান্তিবাহিনীর সদস্যরা। এর পর পার্বত্য এই চুক্তির ২৮ বছর পরও পাহাড়ে এখনো এই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে টানাপোড়েন লেগেই আছে। পাহাড়ি-বাঙ্গালীদের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। পক্ষে বিপক্ষে বিভেদ তৈরী হওয়ায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে থমকে দিয়েছে। তাই পার্বত্য শান্তিচুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠিকে নিয়ে পূর্ণমূল্যায়ন করা দরকার।
এদিকে, পার্বত্য চুক্তির পরবর্তী দুই যুগে পাহাড়ে একে একে উত্থিত হয়েছে ৬টি সশস্ত্র সংগঠন। জেএসএস (সন্তু); জেএসএস সংস্কার (এমএন লারমা); ইউপিডিএফ (প্রসীত); ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক); মগ লিবারেশন পার্টি (এমএলপি); ও কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এই ছয়টি সংগঠন। এদের পারস্পরিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও সশস্ত্র অনুশীলনের কারণে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন নানাভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে এসব সংঘাত পাহাড়ের সম্পত্তি, যোগাযোগব্যবস্থা ও উন্নয়ন প্রকল্পেও বাধা সৃষ্টি করছে। শান্তির পথ আটকে আছে অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও দলীয় সংঘাতের কারণে।
স্থানীয়দের দাবি; অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ এবং সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে সরকারের আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
এদিকে চুক্তি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় নাগরিক পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তারা জানান, পার্বত্য চুক্তিতে স্থানীয় সকল জনগোষ্টির স্বার্থ নিশ্চিত করা হয়নি; এছাড়া একজন পতিত স্বৈরাচারের হাতে এই চুক্তি হয়েছিলো। সেই স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এখন পালিয়েছে তার সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে। তাই সকল জনগোষ্টির অধিকার খর্বকারি পার্বত্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মুজিব।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য হাবিব আজম জানিয়েছেন, পাহাড়ি-বাঙ্গালীসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগোষ্টির সকলের সাথে আলোচনা করে পার্বত্য চুক্তির পুর্নমূল্যায়ন খুবই জরুরী। কেউই যাতে বৈষম্যের শিকার না হয়। তাহলেই শান্তি সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।
পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে ১৯৯৭ সালে যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ হয়নি এখনো। তাই পার্বত্য চুক্তির পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়নের বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকার এগিয়ে আসবে এমনটা প্রত্যাশা জনসংহতি সমিতির।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ সভাপতি সাবেক এমপি উষাতন তালুকদার বলেন, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৫টি রাজনৈতিক সরকার ও ২টি তত্বাবধায়ক সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ট থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো সরকারই রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসেনি। তাই ২৮ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আপামর জনসাধারণ তথা বর্তমান সরকার ও আগামীতে নির্বাচিত সরকারকে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করতে উদার মন নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন তিনি।
 

রিটেলেড নিউজ

সরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে রুফটপ সোলার স্থাপনে উদ্যোগ

সরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে রুফটপ সোলার স্থাপনে উদ্যোগ

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ ছলিম উল্লাহ :গফরগাঁও ময়মনসিংহ দেশের সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি স্বাস্থ্...বিস্তারিত


গফরগাঁওয়ে বন্ধ বিদ্যালয়ে সরকারি ভিজিট, সরেজমিনে নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী!

গফরগাঁওয়ে বন্ধ বিদ্যালয়ে সরকারি ভিজিট, সরেজমিনে নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী!

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রৌহা গ্রামে অবস্থিত ডাক্তার খোক...বিস্তারিত


কক্সবাজার দিয়ারা সেটেলমেন্ট অপারেশন ক্যাম্পে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হওয়ায় অপপ্রচার! 

কক্সবাজার দিয়ারা সেটেলমেন্ট অপারেশন ক্যাম্পে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হওয়ায় অপপ্রচার! 

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের ঝিলংজা মৌজায় চলমান বিডিএস জরিপের তসদিক কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে নান...বিস্তারিত


চতুর্থবারের মতো খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স, মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

চতুর্থবারের মতো খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স, মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শেষে চতুর্থ দফায় পাওয়া গ...বিস্তারিত


কুড়িগ্রামে বিএনপির ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কুড়িগ্রামে বিএনপির ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ...বিস্তারিত


বাড়ছে পানি, ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

বাড়ছে পানি, ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৃষ্টিপাত বেড়ে নদ-নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছালে দেশের পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। শনি...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অ...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর