শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৫:২৮ পিএম, ২০২৫-১২-০৯
রোকন বিশ্বাস-পাবনা :
২০২৫ সালের ২১ আগস্ট, পাবনা জেলার বিজ্ঞ আমলী আদালত–০৬-এ নিহত নাফিউল করিমের মা নাসিমা আক্তারকে অভিযুক্ত বানিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন ইব্রাহিম হোসেন। মামলার নম্বর সি.আর–২১৪/২০২৫ (ফরিদপুর)। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন তার ছেলে অভিমানের কারণে বিষাক্ত তরল পদার্থ পান করে আত্মহত্যা করেছে।
কিন্তু এখানেই দেখা দেয় প্রশ্ন, যদি নাফিউল আত্মহত্যাই করে থাকে, তবে কেন ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত দাফন করা হলো? কেন নিহতের চাচা নিজে ময়নাতদন্ত না করেই দাফনের উদ্যোগ নিলেন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর স্পষ্ট হবে তখনই, যখন কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হবে। সেখানেই বেরিয়ে আসবে সেদিন রাতের প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, এবং আসলে কী হয়েছিল নাফিউলের সঙ্গে।
মামলার বাদী ইব্রাহিম হোসেনের সাক্ষাৎকারে নতুন প্রশ্নের উত্তর উঠে আসে। নিহত নাফিউলের চাচা ইব্রাহিম হোসেনের সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক রোকন বিশ্বাসের কাছে বলেন, নাফিউল আমার ভাতিজা। ভোরের দিকে তার পরিবারের কান্নার শব্দ শুনে আমরা ছুটে যাই। তাকে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আমি যেতে পারিনি গরু বাছুর সামলানোর কারণে। তবে আমার ছোট ভাই, ছেলেরা, ভাস্তেরা এবং অনেকেই সাথে গেছে।
চিকিৎসকদের মতামত সম্পর্কে জানতে চাইলে ইব্রাহিম হোসেন আরো বলেন, আমি হাসপাতালে যাইনি। শুনেছি চিকিৎসকরা প্রথমে বলেছেন স্ট্রোক হয়েছে, আবার বলেছেন মুখে লালা-ঝরঝর অবস্থা বিষাক্ত কিছু খেয়ে থাকতে পারে। এসব কথাই আমার ছোট ভাই নজরুল ইসলাম চাঁদের কাছ থেকে শুনেছি।
এসোর্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে অনুসন্ধান করে আইসিইউ এর ইনচার্জের সাথে কথা বলে জানা যায়, আইসিইউতে যে চিকিৎসক দায়িত্বে ছিলেন তাকে দেখানো হয় এবং আমিও স্বচক্ষে দেখেছি নিহতের গলার দুই পাশেই ছিল নীল দাগ। শরীরের আরও কয়েক জায়গায়ও ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে। চোখে রক্ত জমাট বেঁধে দুই পাশ ফোলা ছিল এবং সেগুলোতেও নীলচে দাগ ছিল।
আইসিইউয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপনারা যদি আরও বিস্তারিত কিছু জানতে চান, তবে অবশ্যই ময়নাতদন্ত করতে হবে।
আইসিইউয়ের ইনচার্জ আরো বলেন, ময়নাতদন্ত করতে নিষেধ করে নিহতের সাথে আসা চাচা ও চাচাতো ভাই। স্টোকের আলামত ভিন্ন রকম হয় এই ধুয়াশা আরো পরিষ্কার হবে পোষ্ট মর্টেম করলে।
আত্মহত্যা নাকি হত্যা এজাহারে দুই রকম বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইব্রাহিম হোসেন সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন, আমার ভাইয়ের বউ (নাসিমা) যেভাবে লিখতে বলেছে, আমিও সেভাবেই লিখে দিয়েছি। চিকিৎসকদের কথাও এমনভাবে বলা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু এজাহারে নাসিমা আক্তার ‘বিষাক্ত তরল পান করে আত্মহত্যা’ নয়, বরং ‘শ্বাসরোধ করে হত্যা’ করা হয়েছে এ কথা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ মামলার ভেতরেই দুই ধরনের তথ্য বিদ্যমান, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নিহত নাফিউলের মোবাইল ফোন কোথায় গেল এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইব্রাহিম হোসেন প্রথমে স্পষ্ট উত্তর দিতে না পারলেও পরে স্বীকার করেন। “ফোনটা আমার ছোট ছেলে সবুজের কাছে ছিল।”
নিহতের মোবাইল ফোন কোথায় ছিল বা কে ব্যবহার করেছে এই বিষয়টিও মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা এ নিয়ে পরিবারের ভেতরেই বিরোধপূর্ণ বক্তব্য। দ্রুত দাফন, ময়নাতদন্ত না করা, এজাহারে ভিন্ন তথ্য, এবং মোবাইল ফোনের রহস্য সব মিলিয়ে নাফিউল করিমের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিল জটলা।
প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে তখনই যখন আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। সেই ফোরেন্সিক রিপোর্টই উন্মোচন করবে নাফিউলের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি হত্যাকাণ্ড।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ ছলিম উল্লাহ :গফরগাঁও ময়মনসিংহ দেশের সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি স্বাস্থ্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রৌহা গ্রামে অবস্থিত ডাক্তার খোক...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের ঝিলংজা মৌজায় চলমান বিডিএস জরিপের তসদিক কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে নান...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শেষে চতুর্থ দফায় পাওয়া গ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বৃষ্টিপাত বেড়ে নদ-নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছালে দেশের পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। শনি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited