শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:৩৩ পিএম, ২০২৫-১২-১৮
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১৬ মাসের মহাকাব্যিক যাত্রায় ‘হতাশার শীতকাল’ থেকে বের করে নিয়ে আমাদের জন্য রেখে যাচ্ছেন এক স্বচ্ছ ও নির্মল বিচারিক আবহাওয়া, যা প্রকৃতপক্ষে আমাদের জন্য ‘আশার বসন্ত।’
প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সংবর্ধানায় এমন মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।
আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন প্রধান ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের এক নম্বর বিচার কক্ষে (প্রধান বিচারপতির এজলাস) প্রধান বিচারপতিকে বিদায় সংবর্ধনা দেয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়। সংবর্ধনার জবাবে প্রধান বিচারপতিও বক্তব্য দেন।
প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্যে করে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজামান বলেন, আপনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন চারদিক ছিল এক অভাবনীয় বৈপরীত্য। আপনি আপনার অভিষেক ভাষণে চার্লস ডিকেন্সের কালজয়ী উক্তি স্মরণ করেছিলেন। আপনার ১৬ মাসের এই মহাকাব্যিক যাত্রায় আপনি আমাদের সেই ‘হতাশার শীতকাল’ (উইন্টার অব ডিসপেয়ার) থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন। আপনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তখন ছিল আগস্টের সেই প্রচণ্ড উত্তাপ আর অস্থির সময়-চারদিকে ছিল বিপ্লবের অগ্নিশিখা, কোলাহল আর এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের হাতছানি। আজ আপনি যখন দায়িত্ব সমাপন করছেন তখন আপনি আমাদের জন্য রেখে যাচ্ছেন এক স্বচ্ছ ও নির্মল বিচারিক আবহাওয়া, যা প্রকৃতপক্ষে আমাদের জন্য ‘আশার বসন্ত’।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপনি উত্তরাধিকার সূত্রে এমন এক বিচারব্যবস্থা পেয়েছিলেন যেখানে প্রায়ই আইনের শাসনের পরিবর্তে সুবিধার শাসন জেঁকে বসেছিল। গত ১৬ মাসে আপনি ছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক সততার এক সুদক্ষ কারিগর। আপনার মেয়াদকালের এ অল্প সময়ে আপনি বহু যুগান্তকারী বা ট্রান্সফরমেটিভ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, যার সবগুলো উল্লেখ করার মতো সময় বা সুযোগ এখানে নেই। তবে আপনার গৃহীত ও বাস্তবায়িত উদ্যোগগুলোর মধ্যে না বললেই নয়, এরকম কয়েকটি হলো:
ক) পৃথক বিচারিক সচিবালয় (সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়): দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মাসদার হোসেন মামলার রায় ছিল এক চমৎকার কিন্তু উপেক্ষিত ব্লু-প্রিন্ট। আপনার সাহসেই একটি স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আজ এক দৃশ্যমান বাস্তবতা।
খ) মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা: আপনি রাজনৈতিক অনুকম্পায় নিয়োগের সংস্কৃতি ভেঙে দিয়েছেন। আপনার উদ্যোগে প্রণীত সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম জুডিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল আমাদের বিচারিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সংযোজন।
গ) মনোবল বৃদ্ধি ও জবাবদিহি: এ বছর ২৩২টি নতুন বিচারিক পদ সৃষ্টি এবং ৮২৬ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি ছিল এক বিশাল মাইলফলক। এছাড়া বিচারকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি নগদায়ন সুবিধা প্রদানের নির্দেশ কর্মকর্তাদের মনোবল তুঙ্গে নিয়ে গেছে।
ঘ) ডিজিটালাইজেশন: হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চে কাগজমুক্ত বিচার কার্যক্রম এবং হেল্পলাইন চালুর মাধ্যমে আপনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব করেছেন।
ঙ) কমার্সিয়াল কোর্ট প্রতিষ্ঠা: একুশ শতকের উপযোগী কার্যকর ও গতিশীল বিচার কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে আপনার নীতি-পরিকল্পনা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কমার্সিয়াল বা বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য আইন প্রণীত হয়েছে। বাংলাদেশ অচিরেই এই উদ্যোগের সুফল ভোগ করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
‘আপনি আমাদের সতর্ক করেছেন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা সহজ, কিন্তু তার আত্মাকে রক্ষা করা কঠিন। আপনি বলেছেন, আমরা যদি আমলনামায় স্বচ্ছ না থাকি, তবে কোনো সচিবালয় আমাদের রক্ষা করতে পারবে না। আপনার এই সতর্কবাণী আমাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে স্বল্প সময়ের এই মেয়াদকালে আপনি আপনার প্রজ্ঞা, মেধা ও দূরদর্শিতার দ্বারা স্থাপন করেছেন এক অনন্য বিচার বিভাগীয় মানদণ্ড যাকে আমি নাম দিয়েছি দ্য রেফাত স্ট্যান্ডার্ড, যা বিচারিক সাহসিকতা এবং পরম স্বচ্ছতার এক মূর্ত প্রতীক। আমরা অবগত হয়েছি যে, শিগগিরই আপনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র ভূমিতে যাত্রা করবেন এবং আগামী ২৭ ডিসেম্বর তারিখে আপনার স্বাভাবিক কর্মকালের অবসান হবে। কিন্তু নিশ্চিত থাকুন এই বিদায়কালে আপনি সঙ্গে নিয়ে যাবেন বাংলাদেশের আপামর মানুষের নিভৃত প্রার্থনা; রাশি রাশি ফুলের শুভেচ্ছা আর এক সমুদ্র সম্মান-ভালোবাসা।
‘সবশেষে, আমরা গভীরভাবে অনুধাবন করি যে, আমরা আপনাকে ভালোবেসেছিলাম, শ্রদ্ধায়, বিনয়ে, বিপ্লবে ও বিদ্রোহে। বিচার বিভাগীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে আপনি আমাদের কাছে চে গুয়েভারার মতোই এক বিপ্লবী চেতনার মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। আপনাকে একবার ভালোবাসতে শুরু করলে আপনার প্রত্যেক অনুসারীর কাছে সেই ভালোবাসা অবিনশ্বর হয়ে দাঁড়ায়’ বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
গত বছরের ১০ আগস্ট প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়ায় সংবিধান অনুসারে অবসরে যাচ্ছেন দেশের ২৫তম এই প্রধান বিচারপতি। আগামী ২৭ ডিসেম্বর তার কর্মজীবনের শেষ দিন। তবে ২৭ ডিসেম্বর অবকাশকালীন ছুটি থাকায় তার বিচারক জীবনের ইতি ঘটছে আজ ১৮ ডিসেম্বর।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited