শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৪:২৯ পিএম, ২০২৬-০১-২৪
কখনো কখনো দোয়া কবুলে বিলম্ব হতে পারে। তবু মনে কোনো সংশয় রাখা যাবে না। আর শয়তানের কুমন্ত্রণার ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যদি দোয়াকারী গভীরভাবে চিন্তা করে তাহলে দোয়া কবুল দেরিতে হওয়ার ক্ষেত্রে নিজেকে দোদুল্যমান রাখবে না।
নিম্নে এমন কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো, যা একজন পাঠকের চিন্তাশক্তি ও দোয়া সুন্দর করবে।
ধৈর্য ধারণ করা : মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমরা তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমাদের কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৩৫)
কল্যাণ দ্বারা পরীক্ষিত হলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করা এবং মুসিবত দ্বারা পরীক্ষিত হলে ধৈর্য ধারণ করা মমিনের কর্তব্য। সুতরাং বিপদের সময় দীর্ঘ হলে সাবধান থাকা এবং বেশি পরিমাণে দোয়া করা উচিত।
দোয়া দেরিতে কবুল হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা : দোয়াকারীর ভুলের কারণে কখনো দোয়া কবুল হয় না। দোয়ার সময় সে হারাম বা সন্দেহপূর্ণ খাবার খেত অথবা দোয়ার সময় তার অন্তর অমনোযোগী ছিল। কিংবা সে নিষিদ্ধ পাপাচারে জড়িত ছিল। ফলে দোয়া কবুল হতে দেরি হলে নিজের মধ্যে অনুসন্ধান করতে হবে—কেন দোয়া কবুল হচ্ছে না? সে জন্য লক্ষ রাখতে হবে আল্লাহর সঙ্গে তার অবস্থা কি?
পাপ বর্জন করা : কোনো ব্যক্তি যদি তাকওয়া অবলম্বন করে তাহলে সে তার চাওয়া অনুযায়ী প্রাপ্ত হবে।
একমাত্র পাপই তার দোয়া কবুলের পথে অন্তরায়। জেনে রাখা আবশ্যক যে তাকওয়া প্রশান্তির কারণ, যা সব কল্যাণ উন্মুক্ত করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বস্তুত যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উপায় বের করে দেন। আর তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিক প্রদান করে থাকেন।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ২-৩)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য কর্ম সহজ করে দেন।
’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৪)
আল্লাহর বিশেষ হিকমত অনুধাবনে যত্নবান হওয়া : তিনি কাউকে কিছু দিলে সেটা যেমন হিকমতপূর্ণ আর কাউকে বঞ্চিত রাখলে তাও হিকমতপূর্ণ। সুতরাং অদৃশ্য হিকমতের অপেক্ষায় আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর অবশ্যই তোমরা এমন বহু কিছু অপছন্দ করো, যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর অবশ্যই এমন বহু কিছু পছন্দ করো, যা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর। প্রকৃত প্রস্তাবে আল্লাহ সবকিছু জানেন, কিন্তু তোমরা জানো না।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২১৬)
বান্দার জন্য আল্লাহর পছন্দ তার নিজের পছন্দের চেয়ে উত্তম : একটা গোপন বিষয়, যা আল্লাহকে ডাকার সময় বান্দাকে মনোযোগী হওয়ার ক্ষেত্রে উপযোগী করে তোলে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা শ্রেষ্ঠ বিচারক ও পরম দয়ালু। বান্দার জন্য কোনটা কল্যাণকর তিনিই অধিক জ্ঞাত। আর তিনি অধিক দয়াশীল তার স্বীয় ব্যক্তিজীবনের চেয়ে, এমনকি তার পিতা-মাতার চেয়েও। যখন তার ওপর এমন কিছু নাজিল হয়, যা সে অপছন্দ করে সেটাই তার জন্য কল্যাণকর। এটা আল্লাহ করে থাকেন বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে এবং তাদের ওপর
দয়াস্বরূপ। সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, তাকে না দেওয়াটাও একটা দান। এটা এ জন্য যে তিনি তাকে কৃপণতা ও অন্য খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখেন। মূলত তিনি বান্দার কল্যাণের দিকে লক্ষ রাখেন। অতঃপর তাকে না দেওয়াটাও কল্যাণকর বিষয়।(মাদারিজুস সালিকিন : ২/২১৫)
মানুষ তার কাজের ফলাফল সম্পর্কে অজ্ঞাত : সে এমন কিছু চায়, যা তার উপযোগী নয়; বরং তার জন্য ক্ষতিকর। এর উদাহরণ ওই উত্তেজিত শিশুর ন্যায় যে মিষ্টান্ন চায় অথচ সেটা তার জন্য ক্ষতিকর। সুতরাং মানুষের জন্য কোনটা কল্যাণকর আল্লাহই সর্বাধিক অবগত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা এমন বহু কিছু অপছন্দ করো, যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২১৬)
মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত পূর্ণ করা : আল্লাহ চান তাঁর বান্দারা মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত পূর্ণ করুক। তিনি তাদের বিভিন্ন রকমের মুসিবত দ্বারা পরীক্ষা করেন। কখনো দেরিতে দোয়া কবুলের মাধ্যমেও। যাতে তাঁর বান্দারা দোয়া নামক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের পূর্ণতার উচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারে। কেননা যথাযোগ্য ইবাদতেই বান্দার মর্যাদা পূর্ণ হয়। সুতরাং যখন একজন বান্দা যথাযোগ্য ইবাদত বৃদ্ধি করে তখন তার পূর্ণতাও বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে তার মর্যাদাও বেশি হয়। (উবুদিয়াত লি ইবনু তাইমিয়াহ, পৃ. ৮০)
প্রিয় ব্যক্তিদের কাছে কষ্ট আসে : আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের দুনিয়ায় কষ্টের সম্মুখীন করে থাকেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর কোনো বান্দার মঙ্গল সাধনের ইচ্ছা করেন তখন দুনিয়ায় তাকে অতি তাড়াতাড়ি বিপদ-আপদের সম্মুখীন
করেন। আর যখন তিনি কোনো বান্দার অকল্যাণের ইচ্ছা করেন তখন তার গুনাহের শাস্তি প্রদান থেকে বিরত থাকেন। অবশেষে কিয়ামতের দিন তাকে এর পরিপূর্ণ শাস্তি প্রদান করেন। আর আল্লাহ তাআলা যখন কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন তখন তাদের তিনি পরীক্ষায় ফেলেন। যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে তার জন্য (আল্লাহর) সন্তুষ্টি থাকে। আর যে তাতে অসন্তুষ্ট হয় তার জন্য (আল্লাহর) অসন্তুষ্টি থাকে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৯৬)
পরিশেষে দোয়া করে কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না; বরং দোয়া কবুল হোক বা না হোক, আল্লাহর কাছে দোয়া অব্যাহত রাখতে হবে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিম্নোক্ত হাদিস স্মরণ রাখতে হবে। যেখানে তিনি বলেছেন, কোনো মুসলিম দোয়া করার সময় কোনো গুনাহের অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের দোয়া না করলে অবশ্যই আল্লাহ তাআলা তাকে এ তিনটির একটি দান করেন। (১) হয়তো তাকে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তু দুনিয়ায় দান করেন অথবা (২) তা তার পরকালের জন্য জমা রাখেন অথবা (৩) তার কোনো অকল্যাণ বা বিপদ-আপদকে তার থেকে দূর করে দেন। (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ১১১৪৯; সহিহুত তারগিব, হাদিস : ১৬৩৩)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সব নেক দোয়া কবুল করুন। আমিন!
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায় তার নিজের পরিবারের সঙ্গে আচরণে। বাইরের মানুষের কাছে ভদ্র ও হাস...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মানুষ সাধারণত মনে করে, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে ভারী আমল হবে বেশি বেশি নফল নামাজ, রোজা বা দান-সদকা। নিঃ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জীবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিক্ষক। এখানে প্রতিটি সম্পর্ক একটি পাঠ, প্রতিটি কষ্ট একটি উপলব্ধি, প্রতি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মানুষের সমাজে কেউ ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা খ্যাতির কারণে সম্মানিত হয়, আবার কেউ নীরবে ও অপ্রকাশ্যে জীবন য...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে অনন্য সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী করেছিলেন। তিনি তাঁকে এমন অনেক মর্যাদা দান কর...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত এখন সৌদি আরবের আরাফার ময়দান। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited