শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৭:২৪ পিএম, ২০২৬-০৩-২৫
মিজানুর রহমান চৌধুরী :
রাজনীতি মানে কি ধোঁকাবাজি? অব্যাহত বাটপারি, মিথ্যাবাদিতা ও প্রতারণা করা! আজকের বাস্তবতায় এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে। মন্ত্রী-এমপিরাও এক্ষেত্রে বেশ দক্ষতার সাথে সমর্থন দিয়ে এসব বলে বেড়াচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই দেখা যায়, তাদের সকাল ও বিকেলের বক্তব্যের সাথে কোনো মিল নেই। সকালে একরকম বক্তব্য, আর বিকেলে তা পাল্টে একদম বিপরীত বক্তব্য— যেন হায়া-শরমের কোনো তোয়াক্কাই নেই।
সারাদেশের চিহ্নিত গুণ্ডা-ধান্দাবাজ অপরাধী চক্রগুলো এখন জাতীয়তাবাদী সরকার সমর্থক হয়ে গেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে তারা নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে। ফলে দেশে যা হওয়ার, তাই হচ্ছে—আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ, ন্যায়বিচার অধরাই থেকে যাচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ দিন দিন আস্থাহীন হয়ে পড়ছে।
জুলাই বিপ্লবকে বিএনপি নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ ছয় মাস আগের বক্তব্যে রক্তাক্ত ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে নজিরবিহীন বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। সেই সময়ের বক্তব্যে তিনি যে স্বীকৃতি ও গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তা জনমনে আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু ছয় মাস না পেরোতেই তিনি এ জুলাই বিপ্লবকে সরাসরি অস্বীকার করে বক্তব্য প্রদান করেন, যা মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার চলছে। এমন অবস্থান পরিবর্তন মানুষের মনে প্রশ্ন তোলে—এ কি কৌশল, নাকি সুবিধাবাদী রাজনীতি?
৭২-এর সংবিধান থেকে বিএনপি এক চুলও নড়তে চায় না! সংবিধান অবশ্যই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি, কিন্তু এর অপব্যবহার বা একপেশে ব্যাখ্যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে। যেভাবে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সংবিধানের দোহাই দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যা-ইচ্ছে তাই করেছিল, বর্তমানে বিএনপির কতিপয় শীর্ষ নেতারাও একই পদ্ধতিতে দেশ চালানোর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নেও গাদ্দারি করে যাচ্ছে। অথচ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি-জামাতসহ রাজনৈতিক দলগুলো অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। সেই অঙ্গীকার থেকে সরে আসা বা তা উপেক্ষা করা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল—যা রাজনৈতিক নৈতিকতার বড় ধরনের অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়।
ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত গডফাদাররা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেন আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত চিহ্নিত মাফিয়া-খুনিরা এমপি ও মন্ত্রী হয়েছে—এমন অভিযোগ যখন জনমুখে ঘোরে, তখন রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা ভেঙে পড়াই স্বাভাবিক।
আবারও পরিবারতন্ত্রকে ব্যবহার করে সিন্ডিকেট লুটেরা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রে সীমিত কয়েকটি গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়তে থাকলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। বারবার সংবিধানের দোহাই দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে সেই সংবিধানের চেতনা কতটা রক্ষা করা হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এসবের কারণে দেশপ্রেমিক সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও বিপ্লবীরা চরম হতাশায় দিনাতিপাত করছেন। যারা সত্য বলার সাহস রাখেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান—তাদের কণ্ঠস্বর দিন দিন ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। এতে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে দুঃসাহসী, অকুতোভয় লেখক, সাংবাদিক ও বক্তাদের সাথে মতবিনিময় করে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং লাল-সবুজের পতাকার সম্মান রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ লড়াই চলমান রাখতে হবে। ন্যায়, সত্য ও গণমানুষের অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানই পারে একটি সুস্থ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একসময় একটি চাকরি মানেই ছিল একটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, স্বস্তি ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। মাস ...বিস্তারিত
মিজানুর রহমান চৌধুরী : ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে ছাত্র-জনতার রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ীদের বিজয় বেহাত করে মাফিয়া চক্রে...বিস্তারিত
মিজানুর রহমান চৌধুরী : “রাষ্ট্র আসলে কারা চালায়?” — এই প্রশ্নটি আজ আর কেবল কৌতূহল নয়, এটি এক তীব্র বাস্তবতা। একটি স্বা...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ভাষাশহিদ সালামের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ গঠিত হয়েছে। শনিবার ঢাকার গুলশানে আয়োজিত এক বৈঠকে র...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মিজানুর রহমান চৌধুরী: আমাদের গ্রামীন জনপদে ভিলেজ পলিটিক্স নামে একটা কথা প্রচলিত আছে। যাঁরা গ্রা...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মিজানুর রহমান চৌধুরী সর্বদলীয় মাফিয়া সিন্ডিকেট প্রত্যেক সরকারের আমলে এক শ্রেণীর দূণীর্তিবাজ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited