শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:১১ পিএম, ২০২৪-০৮-১৪
বৈষম্য সৃষ্টি, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাসের পদত্যাগ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মিছিল করেছেন অধিদপ্তরে বৈষম্যের স্বীকার একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী। দুপুরে অধিদপ্তেরের ডিসি হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন খামারবাড়ীর অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ নাসির উদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ভিন্নমতাবলম্বীরা দীর্ঘ ১৫ বছর নানানভাবে নিগৃহীত, বঞ্চিত ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এখন সময় এসেছে এই বিষয়ে কথা বলবার। আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাসসহ সকল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হোক। সংবাদ সম্মেলনে মূল দাবিও উপস্থাপন করা হয়। তাতে বলা হয়, সচিব, কৃষিমন্ত্রণালয় এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অনতি বিলম্বে বাতিল করতে হবে। ডিজি, ডিএইও অন্যান্য ডিএইএর কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অনতি বিলম্বে বাতিল করতে হবে। ডিএইএর দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ ও অপসারণ করতে হবে। বঞ্চিত যোগ্য কর্মকর্তাদের যোগ্য পদে পদায়ন করতে হবে। ৪ঠা আগস্ট বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারী ডিএইএর কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গে রজন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাগ্রহণ করার দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে মুল বক্তব্য পাঠ করে শোনান কৃষিবিদ ড. আরিফ মাহমুদ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বৈষম্য সৃষ্টিকারী, দুর্নীতিবাজ কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাসসহ খামারবাড়িতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজন প্রীতি, দুর্নীতিসহ নানান অনিয়মে বঞ্চিত করেছেন অধিদপ্তরের শত শত কর্মীকে। তাই তারা জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এক দফা দাবীতে বিগত ০৪ আগস্ট ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ থেকে দেশব্যাপী সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়। অকুতোভয় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার এই অহিংস আন্দোলনকে ভন্ডুল করার জন্য ক্ষমতাসীন সরকার দলবাজ পুলিশ বাহিনীর নগ্ন সহায়তায় দলীয় সন্ত্রাসী হেলমেট বাহিনীকে মাঠে নামায়। সম্পূর্ন দলীয় ও রাজনৈতিক সেই সন্ত্রাসী কর্মসূচীর সমর্থনে বিগত ০৪ আগস্ট ২০২৪ খ্রিঃ তারিখে নাসিম-রাজ্জাক-ওয়াহিদা চক্রের অনুসারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, ডিএই এর সকল পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক, এআইএস এর পরিচালক, ঢাকার অতিরিক্ত পরিচালক সহ খামারবাড়ির বেশির ভাগ কর্মকর্তাকে নিয়ে - শেখ হাসিনায় আস্থা- জানিয়ে শান্তি সমাবেশ ও মিছিল করে যা সরকারী চাকুরীবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেয়া খামারবাড়ি চত্ত্বরের সেদিনের সেই অবৈধ কর্মসূচীর সংবাদ বেশীরভাগ মিডিয়াতে প্রচারিত হয়। অথচ সরকার পতনের এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কৃষি সচিব ও ডিএই এর মহাপরিচালক সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ নিজ নিজ পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই চক্র বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। ইতিপূর্বে ২০১ জন কৃষিবিদের স্বাক্ষরে বর্তমান সরকার প্রধান জনাব ড. মুহাম্মদ ইউনূস এঁর বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছিলেন পরিচালক প্রশিক্ষণ উইং, জনাব খাইরুল আলম প্রিন্স। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারা দেশে কৃষির বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয় । এদের চক্রান্তে সারা দেশে কৃত্রিম সার সংকট তৈরির অপচেষ্টা চলছে। এমতাবস্থায় খামারবাড়িসহ কৃষি সেক্টরের সকল গুরুত্বপূর্ন পদের আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবর্তন করা অতীব জরুরী। তা না হলে জুডিশিয়াল ক্যু এর মতো সারা দেশে কৃত্রিম সার সংকট সহ বিভিন্ন সংকট তৈরি করে বর্তমান সরকারের খাদ্য নিরাপত্তাকে যে কোন সময় হুমকিতে ফেলতে পারে এই নাসিম-রাজ্জাক-ওয়াহিদা-বাদল চক্র । তারা বলেন, কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার ও তার স্বামী ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার ছাত্রাবস্থাতেই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বিবিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন, তিনি শেখ হাসিনার উপদেষ্টা মশিউর রহমান এর ভাগ্নী। এক প্রতিমন্ত্রীর পিএস থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক বনে যান। এর পর প্রধানমন্ত্রীর পিএস হিসেবে কাটান প্রায় ৪ বছর। সেখান থেকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে যোগ দেন কৃষি মন্ত্রনালয়ে। সচিব পদে পদোন্নতির পরে কৃষি মন্ত্রনালয়েই থেকে যান। গত মার্চ মাসে অবসরে যাওয়ার পরে দলীয় কোটায় আবারও ০১ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাগিয়ে নেন । বক্তব্যে বলা হয়, মন্ত্রনালয়ের আওতাধীণ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সহ ১৭ টি প্রতিষ্ঠান তারা নিজেদের খেয়ালখুশি মত পরিচালনা করতেন। দূর্নীতিবাজ কর্মকতাদের প্রশাসন ও অর্থসংশ্লিষ্ট পদে পোস্টিং দিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহন করতেন, মেধাবী, যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বঞ্চিত করা, চাকুরী হতে বরখাস্ত ও কোর্টের রায়ের পূনর্বহালের তোয়াক্কা না করা সহ বিনা কারণে পার্বত্য অঞ্চলে ৫-১০ বছরের বেশী সময় দায়িত্বে রেখে হয়রানী করেছেন, ভিন্নমতাবলম্বীদের বিনা কারনে জামাত শিবির, বিএনপি ট্যাগ দিয়ে হয়রানী করতেন, প্রকল্প পরিচালক ও বিভিন্ন উইং এর গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে যোগ্যতা বিবেচনা না করে দলবাজদের নিয়োগ প্রদান করেছেন। একই সাথে সার্ভিস রুলের তোয়াক্কা না করে কৃষি সচিব ও ডিজি তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে মন্ত্রী-এমপিদের মত রাজনীতিবিদের ভাষায় কথা বলতেন, প্রকাশ্যে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য বিশেষ করে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ও ড্রাইভার নিয়োগে অনিয়ম ও দূর্নীতি করেছেন, কৃষি সচিব তার স্বামীকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর চেয়ারম্যান হিসেবে অনেক সিনিয়রদের ডিঙ্গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুসম্পর্কের সুযোগে ০২ বার চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন, চাকুরী বিধি অমান্য করে পেনশনযোগ্য অফিসারদের কাংখিত কর্মস্থলে পোস্টিং না দিয়ে মানসিক যন্ত্রনা সহ সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন, বাদল চন্দ্র বিশ্বাস এর মতো একজন দূর্নীতিবাজ ও অযোগ্য ব্যক্তিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে দলীয় সুবিধা গ্রহন এবং অধিদপ্তরের উন্নয়নকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করেছেন, একই কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন একই পদে বহাল রেখে অবৈধ আর্থিক বাণিজ্য ও ব্যাপক অনৈতিক সুবিধা গ্রহন চলমান রেখেছেন। এছাড়াও বর্তমান দূর্নীতিবাজ সচিব বিএডিসি কর্তৃক সার আমদানি হতে অনিয়মের মাধ্যমে অঢেল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন যার দূর্নীতির প্রমাণ বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন (বিএফএ) এর নিকট রয়েছে জানিয়ে বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তারা দুই দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেন। ১৫ আগস্টে কৃষি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও ও ১৬ই আগস্ট শহীদদের জন্য দোয়া মাহফিল আয়োজনের কথা বলেন তারা।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : জাতীয় পরিচয়পত্র একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান দলিল। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাগর...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ভাত আমাদের খুব আপন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় তার উপস্থিতি এত স্বাভাবিক যে, ভাত নিয়ে আলাদা করে ভা...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার রাত গভীর। চারপাশ নিস্তব্ধ। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। ঘুম ভেঙে দরজা খুললেন মা। ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট। ঢাকার মাটিতে থেমে গেল কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের পথচলা। যে কবি একদিন অন্যায়ের ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : কোনো কোনো কণ্ঠ শুধু গান গায় না, একটি সময়কে ধারণ করে। আবদুর রহমান বয়াতীর কণ্ঠ ছিল তেমনই—মাটির গন্ধ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ফল প্রকাশের পর মোবাইলের পর্দায় ভেসে ওঠে কয়েকটি সংখ্যা। কারও জন্য সেই সংখ্যা আনন্দের, কারও জন্য হতা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited