শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৩:৩০ পিএম, ২০২৫-১১-২৬
ইসলাম যেকোনো বৈধ পেশার স্বীকৃতি দেয়। তবে কোরআন ও হাদিসে ব্যবসার প্রতি বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কোরআনে ঈমান ও নেক আমলকে ‘তিজারা’ বা ব্যবসা শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, নামাজ কায়েম করে, আমি তাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই আশা করে এমন ব্যবসায়ের, যার ক্ষয় নেই।
’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ২৯)
ব্যবসা করেছেন স্বয়ং নবীজি (সা.)
রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুয়ত লাভের আগ পর্যন্ত নিজে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শৈশবে তিনি চাচা আবু তালিবের সঙ্গে ব্যাবসায়িক সফরে শাম গমন করেন। যৌবনে তিনি খাদিজা (রা.)-এর বাণিজ্য কাফেলার দায়িত্ব নিয়ে শামে যান। খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে বিয়ের পরও তিনি ব্যবসা করেছেন, যা ইসলামের প্রাথমিক যুগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
এই সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যবসার অংশীদার ছিলেন সায়িব ইবনে আবিস সায়িব (রা.)। মক্কা বিজয়ের পর তিনি নবীজি (সা.)-কে দেখে বলেন, ‘অভিনন্দন আমার ভাই ও আমার অংশীদার। আপনি সর্বোত্তম অংশীদার ছিলেন। আপনি না কখনো আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন, না কখনো আমার সঙ্গে বিবাদ করেছেন।
’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৮১)
ব্যবসা-বাণিজ্যে নবীজি (সা.)-এর আদর্শ
রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা ও পরোপকারের প্রতি লক্ষ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর কয়েকটি নীতি, নির্দেশনা ও আদর্শ তুলে ধরা হলো—
১. সৎ হওয়া : নবী আকরাম (সা.) ব্যবসা-বাণিজ্যে সদাচরণ ও সততার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন পাপিষ্ঠ অবস্থায় উত্থিত হবে। শুধু সেই ব্যবসায়ী ছাড়া যে আল্লাহকে ভয় করে, সৎ থাকে ও সত্য বলে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১২১০)
২. স্বচ্ছ থাকা : পণ্য আদান-প্রদানে স্বচ্ছতা থাকা আবশ্যক।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতা পরস্পর থেকে পৃথক না হওয়া পর্যন্ত তাদের (গ্রহণ ও বাতিলের) ইচ্ছাধিকার থাকে। যদি তারা সত্য বলে, পণ্যের দোষত্রুটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে, তবে তাদের এই লেনদেনে বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা মিথ্যা বলে এবং দোষত্রুটি গোপন করে, তখন তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত তুলে নেওয়া হয়।’(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৭৩)
৩. শপথ ও ছলনার আশ্রয় না নেওয়া : পণ্য বিক্রির জন্য ছলনা ও মিথ্যা শপথের আশ্রয় নেওয়া নিষেধ। মহানবী (সা.) বলেন, ‘হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়! ক্রয়-বিক্রয়ে শপথ ও অনর্থক কথা হয়ে যায়। তাই তোমরা এর সঙ্গে দান-সদকার মিশ্রণ করো (ত্রুটিমুক্ত করো)।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১২০৮)
৪. পাওনা আদায়ে নম্র হওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্রয়-বিক্রয়ে উদারতা ও সহজতার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি দয়া করেন যে নম্রতার সঙ্গে ক্রয় করে, বিক্রি করে এবং পাওনা দাবি করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৭৬)
তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি অর্থকষ্টে থাকা ব্যক্তিকে সময় দেবে বা পাওনা মাফ করে দেবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে নিজের আরশের ছায়ায় আশ্রয় প্রদান করবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩০০৬)
৫. পাওনা পরিশোধে উদার হওয়া : মহানবী (সা.) অন্যের পাওনা আদায়ে উদারতার পরিচয় দিতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে পরিশোধ করার বেলায় উদার সেই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৩০৬)
৬. লেনদেন বাতিলের সুযোগ দেওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) লেনদেন বা ক্রয়-বিক্রয়ের পর কারো আক্ষেপ হলে তা বাতিলের সুযোগ দিতে— অর্থাৎ তিনি বিক্রীত পণ্য ফেরত নিতে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে চুক্তি বাতিল করার সুযোগ দেবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার ত্রুটি-বিচ্যুতি মাফ করে দেবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৬০)
৭. দামাদামি করা : রাসুলে আকরাম (সা.) ক্রয় করার সময় দরদাম করতেন। তবে মানুষের পণ্যের মূল্য কম দিতেন না। সুয়াইদ ইবনে কায়েস (রা.) বলেন, আমি ও মাখরামা আল আবদি ‘হাজার’ নামক স্থান থেকে কিছু কাপড় মক্কায় আমদানি করলাম। নবী (সা.) আমাদের কাছে এসে কিছু পায়জামা দামাদামি করলেন এবং আমরা তাঁর কাছে পায়জামা বিক্রি করলাম। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৩০৫)
৮. ওজনে কম না দিয়ে বেশি দেওয়া : পণ্য পরিমাপের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) ওজনে কিছুটা বেশি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যেন বিক্রেতা দায় মুক্ত থাকেন। তিনি বলেন, ‘ওজন করো এবং একটু বেশি দাও।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৩০৫)
বিপরীতে ইসলাম ওজনে কম দেওয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে এবং যখন তাদের জন্য মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।’ (সুরা : মুতাফফিফিন, আয়াত : ১-৩)
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায় তার নিজের পরিবারের সঙ্গে আচরণে। বাইরের মানুষের কাছে ভদ্র ও হাস...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মানুষ সাধারণত মনে করে, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে ভারী আমল হবে বেশি বেশি নফল নামাজ, রোজা বা দান-সদকা। নিঃ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জীবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিক্ষক। এখানে প্রতিটি সম্পর্ক একটি পাঠ, প্রতিটি কষ্ট একটি উপলব্ধি, প্রতি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মানুষের সমাজে কেউ ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা খ্যাতির কারণে সম্মানিত হয়, আবার কেউ নীরবে ও অপ্রকাশ্যে জীবন য...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে অনন্য সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী করেছিলেন। তিনি তাঁকে এমন অনেক মর্যাদা দান কর...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত এখন সৌদি আরবের আরাফার ময়দান। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited