শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬:০৮ পিএম, ২০২৬-০৪-২০
মুন্নি আক্তার বসবাস করেন রাজধানীর লালবাগ এলাকায়। তার বাসায় লাইনের গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তবে রান্নার সময় গ্যাসের চাপ কম থাকা বা একেবারেই গ্যাস না পাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই তাকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সময়মতো রান্নার কাজ শেষ করতে না পারা নিয়ে তার অসন্তুষ্টির শেষ নেই। কথা হলে লালবাগের এ বাসিন্দা জানান, সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৭টায় মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় গৃহপরিচারিকাকে পাটশাক রান্না করতে বলে যান। সকাল ১০টায় বাসায় ফিরে দেখেন, তখনও রান্না শেষ হয়নি। গৃহপরিচারিকা তাকে জানান, লাইনের গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে সকাল থেকে চুলা টিমটিম করে জ্বলছে। এ কারণে তিন ঘণ্টায়ও শাক সেদ্ধ হয়নি। শুধু লালবাগ নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটে প্রতিদিনের রান্নাবান্না দুঃসহ হয়ে উঠেছে। চুলায় আগুন জ্বলছে ঠিকই, কিন্তু চাপ এতটাই কম যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগলেও রান্না শেষ করা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ এখন ঘরে ঘরে। গ্যাস না থাকায় অনেক সময় রাত জেগে রান্না করতে হয়। বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করতাম, কিন্তু গত এক মাসে দুই দফায় ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে মুন্নি আক্তার বলেন, ‘এটি এখন প্রায় প্রতিদিনের চিত্র। দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ এতো কম থাকে যে স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে রান্না শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’ সরেজমিনে রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা হলে তারাও একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান। অনেকের অভিযোগ, গ্যাসের চাপ কম থাকায় ভাত ঠিকমতো সেদ্ধ হচ্ছে না, মাছ-মাংস রান্নায় দ্বিগুণ-তিনগুণ সময় লাগছে। রায়েরবাজারের বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় অনেক সময় রাত জেগে রান্না করতে হয়। বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করতাম, কিন্তু গত এক মাসে দুই দফায় ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে খরচও অনেক বেড়েছে। এতো টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু দৈনিক সরবরাহ মাত্র ২ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিনের সরবরাহে ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ থেকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ঘনফুট। তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি আরও স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যাচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পরিবার এখন এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকছে। তবে বাজারে সিলিন্ডারের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এসব অঞ্চলে দৈনিক চাহিদা প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ রয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে। অর্থাৎ, প্রতিদিনই কয়েকশ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। তিতাস গ্যাসের নিজস্ব উৎপাদন ক্ষেত্র থেকেও দৈনিক মাত্র ৩৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যা মোট চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের স্বাভাবিক উৎপাদন হ্রাস, এলএনজি সরবরাহে অস্থিরতা এবং বিতরণ লাইনে চাপজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। বাসাবাড়িতে সাধারণত সকালের দিকে রান্নাবান্নার কাজের ব্যস্ততা থাকে। এসময়ে চাহিদাও বাড়ে। কিন্তু চাহিদা বেড়ে গেলে পাইপলাইনে চাপ আরও কমে যায়। যে কারণে চুলায় আগুন জ্বলে টিমটিম করে। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পরিবার এখন এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকছে। তবে বাজারে সিলিন্ডারের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। কোনো পার্টিকুলার বাসায় গ্যাসের সমস্যা থাকলে স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ করতে হবে৷ কারণ, বাসার লাইনেও সমস্যা থাকতে পারে।—প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান ভুক্তভোগীরা বলছেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে নগরজীবনের এ সংকট আরও গভীর হবে। তারা জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও তিতাস কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ চাইছেন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসানের কাছে তিতাস গ্যাসের চাহিদা, সরবরাহ ও সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো পার্টিকুলার বাসায় গ্যাসের সমস্যা থাকলে স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ করতে হবে৷ কারণ, বাসার লাইনেও সমস্যা থাকতে পারে।’ ‘তিতাসের সব গ্রাহক মিলে বর্তমানে দৈনিক চাহিদা ১৯০০ এমএমসিএফডি’র বেশি। আমরা পাচ্ছি ১৫০০ এমএমসিএফডি। এটা ডিপেন্ড করে কোন কোন ফ্যাক্টরি বা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু বা বন্ধ রাখা হচ্ছে তার ওপর’—বলেন তিতাসের এ কর্মকর্তা।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited