শিরোনাম
মো. আরফান উদ্দীন | ০৫:৪৮ পিএম, ২০২৬-১০-২২
পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার জানা নেই। তবে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সড়কে ঝরছে তাজা প্রাণ, কোনো না কোনো পরিবারে নেমে আসছে শোকের ছায়া। একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই তছনছ করে দিচ্ছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, কেড়ে নিচ্ছে মা-বাবার বুকের ধন কিংবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যানের দাবি অনুযায়ী, বিগত ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় আট হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, গত ১৩ বছরে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার নারী-পুরুষ। এই সংখ্যাগুলো সত্যিই উদ্বেগজনক। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি জীবন, একটি পরিবার এবং অসংখ্য স্বপ্নভঙ্গের গল্প। তবে এসব পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করা জরুরি।
আর কত প্রাণ গেলে আমাদের টনক নড়বে?
প্রশ্ন জাগে, আর কত মানুষের প্রাণহানি ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে? আর কত মায়ের বুক খালি হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে? আর কত শিশু অকালে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলে আমরা নিরাপদ সড়কের গুরুত্ব উপলব্ধি করব?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন, নিয়মিত নজরদারি, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং চালকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অথচ আমাদের দেশে বেপরোয়া গতি, অসতর্ক চালনা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার নানা দুর্বলতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
একটি মানুষ হাসিমুখে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ঘর থেকে বের হন। কেউ কর্মস্থলে যান, কেউ সন্তানের জন্য খাবার কিনতে বের হন, আবার কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটানোর আশায় যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু সেই যাত্রাই কখনো কখনো হয়ে ওঠে জীবনের শেষ যাত্রা। যে মানুষটি সকালে সুস্থ শরীরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, সন্ধ্যায় তাঁর নিথর দেহ ফিরে আসে। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
সরকার ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ট্রাফিক বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি—আর কোনো অবহেলা নয়, এবার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
১. সড়কে বেপরোয়া গতি ও বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. চালকদের দক্ষতা যাচাই, বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
৩. মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় সড়কচিহ্ন, নিরাপদ পারাপার এবং পথচারীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
৪. সড়ক দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না।
৫. শিশু, নারী, প্রবীণ ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
৬. দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
আমরা কি নিরাপদ সড়কে চলাচল করতে পারব না?
বাংলাদেশের মানুষ কি কখনো স্বস্তি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না? একজন মা কি নিশ্চিন্তে তাঁর সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে পারবেন না? একজন বাবা কি কর্মস্থলে গিয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবেন না? আনন্দের কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বের হয়ে মানুষ কি নিরাপদে প্রিয়জনের কাছে ফিরে আসতে পারবে না?
এসব প্রশ্ন আজ শুধু একজন মানুষের নয়; এটি দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের প্রশ্ন। নিরাপদ সড়ক কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার অধিকারের সঙ্গে জড়িত।
আমরা আর কোনো মায়ের বুক খালি হতে দেখতে চাই না। আর কোনো শিশুকে সড়কে প্রাণ হারাতে দেখতে চাই না। আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর অসহনীয় যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে দেখতে চাই না।
সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আমাদের জোর দাবি—সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এখনই কার্যকর, কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। শুধু আশ্বাস নয়, আমরা চাই বাস্তব পরিবর্তন। আমরা চাই নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ যাত্রা এবং নিরাপদে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা।
সড়কে আর মৃত্যুর মিছিল নয়—আমরা চাই জীবনের নিরাপত্তা। প্রতিটি প্রাণ মূল্যবান, প্রতিটি পরিবার গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা হোক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
লেখক : স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক আমাদের বাংলা
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি গিটার কখনো কখনো শুধু বাদ্যযন্ত্র থাকে না—হয়ে ওঠে একটি সময়ের কণ্ঠস্বর। বাংলাদেশের ব্যান্ডস...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : রাতের নীরবতায় একটি মুঠোফোনের পর্দায় ভেসে উঠেছিল বাবার কাছে পাঠানো মেয়ের শেষ আকুতি। নিজের অবস্থান...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : এম.কামাল উদ্দিন মাষ্টার ঐতিহ্যবাহী কাট্টলী যুগে যুগে জন্ম দিয়েছে শিক্ষা সামাজিক সাংস্কৃতিক ও à¦...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : এড. মোস্তফা নুর : রাজনীতির মৌলিক শিক্ষা যাদের নেই, তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত হচ্ছে শুধু গণতানà...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : অন্ধকারেরও একটা সীমা আছে। রাতের অন্ধকার স্বাভাবিক; কিন্তু মানুষের ঘরে যে অন্ধকার নেমে আসে, তার কার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে দিনভর কনটেইনারের ওঠানামা। বিশাল ক্রেন, ছুটে চলা ট্রাক আর ব্যস্ত বন্দরের...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited