শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৬:৫৮ পিএম, ২০২৬-০৬-২৭
আবদুল্লাহ মজুমদার
বর্ষার আকাশে যখন কালো মেঘের আনাগোনা শুরু হয়, তখন রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বৃহত্তম বনগ্রাম এলাকার মানুষের মনে আনন্দের পাশাপাশি তৈরি হয় এক অজানা শঙ্কা। কারণ এই জনপদের মানুষের কাছে বৃষ্টি শুধু প্রকৃতির আশীর্বাদ নয়, অনেক সময় তা নিয়ে আসে দুর্ভোগের বার্তা। কয়েক দফা বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় চলাচলের প্রধান সড়ক, জমে যায় হাঁটু সমান পানি। থেমে যায় যানবাহনের গতি, বাধাগ্রস্ত হয় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাসের এই এলাকায় বর্ষা মৌসুম যেন প্রতি বছর নতুন করে প্রশ্ন তোলে—কেন এত বছরেও একটি কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে উঠল না?
একটি জনপদের উন্নয়ন কেবল নতুন ভবন, রাস্তা কিংবা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই দৃশ্যমান হয়, যখন মানুষের জীবন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়। কিন্তু বনগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি দেখায়, জনবসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় নাগরিক অবকাঠামো গড়ে না উঠলে উন্নয়নের সুফলের পাশাপাশি তৈরি হয় নতুন সংকট।
একসময় বনগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছিল তুলনামূলক খোলা জায়গা ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহের পথ। বৃষ্টির পানি নালা-ছড়া দিয়ে সহজেই চলে যেত আশপাশের জলাশয় ও গুমাইবিলের দিকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনসংখ্যা বেড়েছে, তৈরি হয়েছে অসংখ্য বসতঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বহুতল ভবন। মানুষের বসবাসের প্রয়োজন যেমন বাস্তব, তেমনি প্রয়োজন ছিল সেই বসতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলা। সেই জায়গাতেই তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি।
কুষ্ঠ হাসপাতাল থেকে কলাবাজ্জেঘোনা সেগুন বাগিচা পর্যন্ত সড়কটির বর্তমান অবস্থা এই সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে যায়। কোথাও তৈরি হয় জলাবদ্ধতা, কোথাও খানাখন্দে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে চলাচল। ফলে প্রতিদিনের যাত্রা অনেকের কাছে হয়ে ওঠে এক ধরনের সংগ্রাম। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক মানুষ ও কর্মজীবীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশের ড্রেন ও প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ নানা কারণে সংকুচিত হয়েছে। কোথাও ড্রেনের ওপর স্থাপনা নির্মাণ, কোথাও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং কোথাও আবর্জনা জমে পানি চলাচলের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে না পেরে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকে।
তবে এই সমস্যার সমাধানে বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। একটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী মানুষের আবাসন প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে কোনো কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও পরিকল্পিত জনপদ গড়ে তুলতেও নিয়মনীতি অনুসরণের বিকল্প নেই। তাই প্রয়োজন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা।
প্রথমত, এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ জরিপ প্রয়োজন। কোথায় পানি আটকে যাচ্ছে, কোন কোন জায়গায় প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে—তা চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান ড্রেন ও ছড়াগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও সংস্কারের আওতায় আনতে হবে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশ, পানি প্রবাহ ও নাগরিক সুবিধার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।
এখানে স্থানীয় জনগণের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু প্রশাসনের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আসবে না। নিজেদের বসবাসের পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা, নিয়ম মেনে নির্মাণকাজ এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণও প্রয়োজন।
বনগ্রামের জলাবদ্ধতা আসলে একটি বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পনা না থাকলে একই ধরনের সংকট তৈরি হয়। তাই বনগ্রামের অভিজ্ঞতা শুধু একটি এলাকার সমস্যা হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য একটি শিক্ষা হিসেবেও দেখা দরকার।
বর্ষার বৃষ্টি প্রকৃতির সৌন্দর্য বহন করে, মানুষের জীবনে প্রশান্তি আনে। কিন্তু অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে সেই বৃষ্টিই যখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা শুধু একটি প্রাকৃতিক বিষয় থাকে না—তা হয়ে ওঠে পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন। বনগ্রামের মানুষও এমন একটি দিনের অপেক্ষায় আছে, যখন বর্ষা আর আতঙ্ক নয়, বরং স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে ফিরে আসবে।
লেখক: সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক ও সহকারী সম্পাদক, দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : জাতীয় পরিচয়পত্র একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান দলিল। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাগর...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ভাত আমাদের খুব আপন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় তার উপস্থিতি এত স্বাভাবিক যে, ভাত নিয়ে আলাদা করে ভা...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার রাত গভীর। চারপাশ নিস্তব্ধ। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। ঘুম ভেঙে দরজা খুললেন মা। ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট। ঢাকার মাটিতে থেমে গেল কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের পথচলা। যে কবি একদিন অন্যায়ের ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : কোনো কোনো কণ্ঠ শুধু গান গায় না, একটি সময়কে ধারণ করে। আবদুর রহমান বয়াতীর কণ্ঠ ছিল তেমনই—মাটির গন্ধ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ফল প্রকাশের পর মোবাইলের পর্দায় ভেসে ওঠে কয়েকটি সংখ্যা। কারও জন্য সেই সংখ্যা আনন্দের, কারও জন্য হতা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited