বাংলাদেশ   মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

শিরোনাম

আলো ছড়ানো এক মানুষের বিদায়: অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের কর্মময় জীবন

আবদুল্লাহ মজুমদার :    |    ০৮:১৪ পিএম, ২০২৬-০৬-২৮

আলো ছড়ানো এক মানুষের বিদায়: অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের কর্মময় জীবন

কিছু মানুষের বিদায় শুধু একটি জীবনের অবসান নয়; বরং তা একটি সময়, একটি ভাবনা ও একটি কর্মময় অধ্যায়ের সমাপ্তির কথাও মনে করিয়ে দেয়। তাঁরা চলে গেলেও তাঁদের কাজ, সৃষ্টি ও মানুষের জন্য রেখে যাওয়া অবদান থেকে যায়। সময়ের সঙ্গে সেই কাজই হয়ে ওঠে তাঁদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। আধুনিক চক্ষু চিকিৎসার বিকাশে তাঁর অবদান, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার প্রচেষ্টা তাঁকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের চিকিৎসাক্ষেত্র হারাল একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংগঠককে।

২৭ জুন, শনিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে চিকিৎসক সমাজসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠান নির্মাতা। বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসাকে আধুনিক ও জনমুখী করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৯ সালে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম আই ইনফার্মারি অ্যান্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্স (CEITC)। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে CEITC চক্ষু চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির বিকাশ এবং অন্ধত্ব দূরীকরণেও প্রতিষ্ঠানটির অবদান রয়েছে। একজন মানুষের চিন্তা কীভাবে একটি বড় সামাজিক উদ্যোগে রূপ নিতে পারে, CEITC তার একটি উদাহরণ।

স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন প্রতিষ্ঠা করেন ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেড। চট্টগ্রামে আধুনিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাজধানীর বাইরে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ভাবনা ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

মিরসরাইয়ের এই কৃতি সন্তান চিকিৎসাকে শুধু পেশা হিসেবে দেখেননি। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করাই ছিল তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘ কর্মজীবনে অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা। তাঁর গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলো আজও বহন করছে তাঁর চিন্তা, নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের ছাপ।

চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সমাজকল্যাণেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের কাছে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার মানুষ। তাঁর জীবন দেখিয়েছে, একজন চিকিৎসক চাইলে শুধু রোগীর চিকিৎসা নয়, একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তাঁর মৃত্যুতে চিকিৎসক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁকে একজন দক্ষ চিকিৎসক, সমাজসেবক এবং চিকিৎসা শিক্ষার পথপ্রদর্শক হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে।

পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৮ জুন, রবিবার বিকেল ৪টায় মিরসরাইয়ের ওয়াহিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

কিছু মানুষ তাঁদের জীবনের সময়সীমা পেরিয়ে কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকেন। অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। তাঁর গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য হয়ে থাকবে অনুপ্রেরণার উৎস। মানুষের চোখে আলো ফেরানোর যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

লেখক: সাংবাদিক, সংগঠক ও সাহিত্যিক। 

রিটেলেড নিউজ

গাছের শিকড়ে বন্দি সরকারি গাড়ি

গাছের শিকড়ে বন্দি সরকারি গাড়ি

মোঃ আরফান উদ্দীন : দূর থেকে দেখলে মনে হবে ছোট্ট কোনো ঝোপঝাড়ে ঢাকা পরিত্যক্ত বনভূমি। কাছে গেলেই চোখে পড়ে মরিচা ধরা গাড়...বিস্তারিত


খুন-ছিনতাই-অপরাধে বাড়ছে উদ্বেগ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

খুন-ছিনতাই-অপরাধে বাড়ছে উদ্বেগ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : একদিকে কুমিল্লায় ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজ ১৩ বছরের স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, অন্যদিকে খুলনায় ‘...বিস্তারিত


ইঞ্জিন সংকটে চট্টগ্রামের পণ্যবাহী ট্রেন, রাজস্ব হারাচ্ছে রেলওয়ে

ইঞ্জিন সংকটে চট্টগ্রামের পণ্যবাহী ট্রেন, রাজস্ব হারাচ্ছে রেলওয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইঞ্জিন সংকটে চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল অনেকটা কমে গেছে। একসময় চ...বিস্তারিত


ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে চিন্তিত এনসিপি, ভোট নিয়ে নতুন সংশয়

ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে চিন্তিত এনসিপি, ভোট নিয়ে নতুন সংশয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সরকারের সমন্বয়হীনতার ...বিস্তারিত


চতুর্থবারের মতো খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স, মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

চতুর্থবারের মতো খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স, মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শেষে চতুর্থ দফায় পাওয়া গ...বিস্তারিত


অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে দেশ, ঋণ ১১৩ বিলিয়ন ডলার

অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে দেশ, ঋণ ১১৩ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঋণের ‘উচ্চঝুঁকি’র দিকে ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ। বিপুল পরিমাণ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অ...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর