শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯:০০ পিএম, ২০২৬-০৯-২১
নিজস্ব প্রতিবেদক, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ):
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রৌহা গ্রামে অবস্থিত ডাক্তার খোকন অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যানিকেতন নিয়ে অনুসন্ধানে নানা অসঙ্গতির চিত্র পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে পরিদর্শনের দিন কিছু শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে। ফলে সরকারি ভিজিটের প্রতিবেদন এবং সরেজমিনে পাওয়া বাস্তবতার মধ্যে মিল-অমিল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দৈনিক আমাদের বাংলা ও চ্যানেল এ ওয়ানের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন ও অনুসন্ধান করেন। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি একটি টিনশেড ঘরে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে দুটি কক্ষ রয়েছে। একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাখা হলেও সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো রেজিস্টার, খাতা-পত্র বা শিক্ষা কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় নথিপত্র চোখে পড়েনি।
অপর কক্ষটিতেও অনুসন্ধানের সময় কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। কক্ষগুলোতে কয়েকটি বেঞ্চ-চেয়ার ও দুটি আলমারি ছাড়া নিয়মিত পাঠদান পরিচালনার দৃশ্যও দেখা যায়নি।
বিদ্যালয়ের বাইরে সাইনবোর্ডে প্রতিষ্ঠানের নামের পাশাপাশি টেকিং নম্বর উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সরেজমিন অনুসন্ধানের সময় কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সুবিধা কোথায়?
অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি বিশেষায়িত শিক্ষা ও সহায়ক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরেজমিনে অনুসন্ধানের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত পানি, আলো-বাতাস, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং থেরাপি বা সহায়ক সেবার দৃশ্যমান ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
বিশেষ করে অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কী ধরনের থেরাপি দেওয়া হয়, কারা থেরাপি দেন, কতজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক রয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়—এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
‘এক বছর ধরে স্কুল বন্ধ’—স্থানীয়দের দাবি
বিদ্যালয়ের আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের দাবি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিতভাবে বন্ধ রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের এ বক্তব্যের সত্যতা সরকারি উপস্থিতি রেজিস্টার, ভর্তি রেজিস্টার, শিক্ষক হাজিরা এবং অন্যান্য নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির বক্তব্য
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্বে থাকা মোছাম্মৎ নাজমা আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় নতুন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুরুতেই সব ধরনের অবকাঠামো বা সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে থাকা আবশ্যক নয়—এমন বক্তব্য দেন।
তার বক্তব্যের সঙ্গে সরেজমিনে পাওয়া বাস্তব চিত্রের তুলনা করতেই প্রশ্ন উঠেছে—অনুমোদন বা স্বীকৃতির জন্য নির্ধারিত শর্তগুলোর কতটুকু বাস্তবে পূরণ করা হয়েছে?
শিক্ষা অফিসের বক্তব্যেও প্রশ্ন
বিষয়টি জানতে গফরগাঁও উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তারা যেদিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, সেদিন কিছু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
কিন্তু সরেজমিন অনুসন্ধানে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষককে পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি পরিদর্শনের দিন ঠিক কতজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন, তারা বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী কি না, উপস্থিতি রেজিস্টারে তাদের নাম রয়েছে কি না এবং ওই দিনের শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতির তথ্য কী?
ভিজিট প্রতিবেদনের কপি নিয়ে ধোঁয়াশা
প্রতিষ্ঠানটির ভিজিট প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বিষয়টি সহকারী কর্মকর্তা আজহারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান।
পরে সহকারী কর্মকর্তা আজহারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রতিবেদকদের পক্ষ থেকে পরিদর্শন প্রতিবেদনের কপি বা প্রতিবেদনে কী কী পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা জানতে চাইলেও প্রতিবেদনটির অনুলিপি পাওয়া যায়নি।
এখানেই উঠছে মূল প্রশ্ন—সরকারি পরিদর্শনে কী দেখা হয়েছিল এবং তার ভিত্তিতে কী প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে?
সরেজমিন বাস্তবতা বনাম সরকারি ভিজিট—মিল কতটুকু?
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও স্থানীয়দের বক্তব্যের সঙ্গে শিক্ষা অফিসের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নথিভিত্তিক যাচাই করা জরুরি।
পরিদর্শনের দিন—
কতজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল?
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির রেজিস্টার কী বলছে?
কতজন শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন?
তাদের নিয়োগ ও যোগ্যতার নথি কী?
অফিস কক্ষে কোন কোন রেজিস্টার ও নথি দেখানো হয়েছিল?
শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চলছিল কি না?
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য কী ধরনের থেরাপি দেওয়া হয়?
প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা কোথায়?
নিরাপদ পানি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে?
এসব বিষয়ে ভিজিট প্রতিবেদনে কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণ কী?
এসব প্রশ্নের উত্তর পরিদর্শন প্রতিবেদনে থাকার কথা।
‘ইতিবাচক প্রতিবেদন’ নিয়ে অভিযোগ, তদন্তের দাবি
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়টির বাস্তব অবস্থা যথাযথভাবে যাচাই না করেই ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। কেউ কেউ এর পেছনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলছেন।
তবে আর্থিক লেনদেন বা ঘুষের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার মতো প্রত্যক্ষ প্রমাণ এই অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না।
তাই বিষয়টি নিয়ে কারও বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ প্রতিষ্ঠা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন হলো—পরিদর্শনটি কীভাবে করা হয়েছিল, কী কী নথি যাচাই করা হয়েছিল এবং প্রতিবেদনে প্রকৃত পরিস্থিতি কতটা প্রতিফলিত হয়েছে?
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ভিজিট রিপোর্ট, উপস্থিতি রেজিস্টার, ভর্তি রেজিস্টার, শিক্ষক-কর্মচারীর হাজিরা এবং অন্যান্য কাগজপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা যেতে পারে।
তদন্তে ‘থলের বিড়াল’ বের হবে?
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও সেবার সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তার প্রভাব সরাসরি শিশু ও অভিভাবকদের ওপর পড়তে পারে।
তাই রৌহা গ্রামের এ প্রতিষ্ঠানটির সরকারি পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রকাশ, সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রশ্ন—প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব অবস্থা যদি সরকারি প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলে থাকে, তাহলে সেই প্রতিবেদন প্রকাশে আপত্তি কোথায়? আর যদি সরেজমিন বাস্তবতা ও সরকারি প্রতিবেদনের মধ্যে পার্থক্য থাকে, তাহলে সেই পার্থক্যের কারণ কী?
এখন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে গফরগাঁওবাসীর প্রত্যাশা—ভিজিট প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হোক এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আমাদের বাংলা : : যশোর ব্যুরো যশোরে পৃথক দুর্ঘটনায় এক ইন্টারনেটকর্মী ও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ২২ সেপ্টে...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা : : যশোর ব্যুরো যশোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি মিনি কাভার্ডভ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা : : যশোর ব্যুরো অত্যন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনাময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স...বিস্তারিত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা : : উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ ছলিম উল্লাহ :গফরগাঁও ময়মনসিংহ দেশের সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি স্বাস্থ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited